শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্ম‍ৃতিসৌধে যান? তার লজ্জা হওয়া উচিৎ

প্রকাশ:| সোমবার, ১৪ ডিসেম্বর , ২০১৫ সময় ১১:১২ অপরাহ্ণ

 প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়া জাতির সঙ্গে তামাশা। কারণ যারা বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে সে রাজারকার আল বদরদের মন্ত্রী বানিয়েছেন তিনি।

আজ সোমবার বিকেলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে বুদ্ধীজীবী দিবসের এক আলোচনা সভায় খালেদা জিয়ার স্মৃতিসৌধে ফুল দেয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, যারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে তাদের হাতে খালেদা জিয়া স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা তুলে দিয়েছেন। রাজাকার-আলবদরদের মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়েছেন। আজ তিনি যান বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে। এটা  দেশের মানুষের সঙ্গে তামাশা করার সামিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোন মুখ নিয়ে তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্ম‍ৃতিসৌধে যান? তার লজ্জা হওয়া উচিৎ। যুদ্ধাপরাধীদের যখন ফাঁসির রায় কার্যকর হবে তখন তাদেরকে বাঁচাতে তিনি (খালেদা) লন্ডন থেকে ছুটে এসেছেন দেশে।’

তিনি বলেন, ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে তার সঙ্গে কিছু মুক্তিযোদ্ধাকেও দেখেছি। লজ্জা থাকলে খালেদার সঙ্গে তারাও যেতে পারতেন না। যিনি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যাকারীদের মন্ত্রিসভায় জায়গা দিয়েছেন তার সঙ্গে কীভাবে সেখানে মুক্তিযোদ্ধারা যান?’

তাদের বিষয়ে মানুষকে আরও সচেতন হওয়া উচিৎ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নতি হয়। যুদ্ধাপরাধীর বিচারের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু বিএনপি সরকার তা বাতিল করে দেয়। খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের মদদ দেন।’

তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে আমরা সরকার গঠন করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ট্রাইব্যুনাল গঠন করি। অনেক দেশি-বিদেশি চাপ ছিল। বিচার বন্ধের জন্য বিশ্বের বড় বড় কেউকেটা যারা আছেন তারা টেলিফোন করেছেন। কিন্তু আমরা থামিনি। তারা ফোন করে শুধু মানবাধিকারের কথা বলেন।’

প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভের স্বরে বলেন, ‘কিসের মানবাধিকার? আমরা যারা স্বজন হারিয়েছি তারা কি বিচার পাবো না? বিচার চলছে, চলবেই।’

৭৫ এর কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ যখন জাতির পিতা চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, দেশ যখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল, তখন পরাজিত শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে জিয়াউর রহমান চক্রান্ত করে ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যা করেন। মীর জাফর যেমন টিকতে পারেননি বেঈমান মোস্তাকও টিকতে পারলেন না। তখন আসলেন সামরিক জিয়াউর রহমান। এসেই তিনি যুদ্ধাপরাধীদের ট্রাইব্যুনাল আইন বাতিল করে বিচার বাতিল করলেন এবং বিচার বন্ধ করলেন। এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংবিধানের ১২ অনুচ্ছেদ বাতিল করলেন। সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ যেখানে বলা হয়েছিল ‘যুদ্ধাপরাধিদের ভোটের অধিকার নিষিদ্ধ’ সেটাও বাতিল করে তাদের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেয়া হলো। জিয়া লাখো শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করেছেন। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হলে জিয়া এমনটা করতে পারতেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এমন একটা সময় ছিল যখন মনে হয়েছিল স্বাধীনতা এনে আমরা ভুল করেছি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে আমরা পারবো। বিশ্বাস আমাদের আছে। যারা একাত্তরে ষড়যন্ত্র করেছিল তারা এখনও ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু তারা সফল হতে পারবে না। একে একে আমরা তাদের বিষদাঁত ভেঙে দিয়েছি, আরও ভাঙবো। মৃত্যুভয় আমি করি না। কারণ আমার হারানোর কিছু নেই।’

আমরা বীরের জাতি, আমরা মর্যাদা নিয়ে বাঁচবো-জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কারও কাছে ভিক্ষা করে আমরা কেন বিলাসিতা করবো? আমাদেরকে অভিশাপমুক্ত করতে হবে। লাখো শহীদের আত্মত্যাগের মর্যাদা দিতে হবে। জাতির পিতা সারাটা জীবন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য লড়াই করেছেন। স্বাধীনতা অর্জন করেছেন। সে স্বাধীনতাকে আমাদের অর্থবহ করতে হবে।’


আরোও সংবাদ