শহরের সবচেয়ে কাছের উপজেলা আনোয়ারা

প্রকাশ:| শনিবার, ১৪ জুন , ২০১৪ সময় ১১:১৫ অপরাহ্ণ

ইমরান হোসেন এমি,আনোয়ারা:
আনোয়ারা প্রতিনিধি: শহরের সবচেয়ে কাছের উপজেলা আনোয়ারা। নদী সমুদ্র পরিবেষ্টিত এ উপজেলার অপার সৌন্দর্য নদী তীরের দেয়াং পাহাড়। সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যের এই পাহাড় আজ আর অক্ষত নেই। শিল্পায়নের নামে চলছে পাহাড় কর্তন। আর এই সুযোগে তৎপর আরেকটি দুষ্কৃতকারী চক্র। এরা থাকে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়। তাই এরা অধরা। পাহাড় কাটা ও নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলন সমানতালে চললেও ভূমিদস্যু
ও বালি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কোন উদ্যোগ নেই। এলাকাবাসী এ ব্যাপারে এলাকার সংসদ সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সরেজমিন এলাকা পরিদর্শন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৪ বছর ধরে আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের মধ্য বন্দর, উত্তর বন্দর, কেইপিজেড এলাকা, মোহাম্মদপুর, ফকির কিল ও হাজীগাঁও এলাকায় পাহাড় কাটা
শুরু হয়। এক দেড় বৎসর আগে থেকে হাজীগাঁও ও মোহাম্মদপুর এলাকায় পাহাড় কাটা বন্ধ হলেও বন্দর এলাকায় এখনও পাহাড় কাটার মহোৎসব চলছে। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের নাম ভাঙ্গিয়ে আনোয়ারা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম বেগম বদনীর পুত্র আখতার মাধ্যমে প্রকাশ্যে সিইউএফএল সড়কের বৈরাগ আমান উল্লাহ পাড়া থেকে কাফকো সেন্টারের পশ্চিম এলাকা পর্যন্ত সড়কের দু’পাশে পাহাড়ের বালির স্তূপ
করে এ অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আসলেও পরিবেশ অধিদপ্তর ও থানা পুলিশ অজ্ঞাত কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে। স্থানীয়রা মনে করেন কাফকো সেন্টারের ব্যস্ততম এলাকায় দিনে রাতে পুলিশি টহল থাকলেও ভূমিদস্যুরা প্রকাশ্যে এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যার কারণে এলাকার পরিবেশও হুমকির মুখে। পুলিশ কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিচ্ছে না সে প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। এ অবস্থায় গত সোমবার
মধ্যরাতে মাটি কাটার সময় স্থানীয় শ্রমিক লক্ষণ দাশ নিহত ও ৪ শ্রমিক আহত হওয়ার ঘটনায় কর্ণফুলী থানা পুলিশ বাদী হয়ে আখতারের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। টনক নড়ে পরিবেশ অধিদপ্তরেরও। তারাও তার বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করেন। কেইপিজেড এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মেজর স্বাধীন এ প্রতিবেদককে জানান, কেইপিজেড এলাকায় অবৈধভাবে পাহাড় কাটার দায়ে আখতারের বিরুদ্ধে কর্ণফুলী
থানায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ এখনো আখতারকে গ্রেপ্তার করতে পারে নি। গতকাল সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে স্থানীয়রা এ প্রতিবেদকে জানান, পুলিশ বাদী হয়ে আখতারের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রুজু করলেও মামলার ভবিষ্যত নিয়ে তারা সন্দিহান। কারণ ইতিমধ্যে প্রভাবশালী মহল নানা তদবির শুরু করে দিয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই সারাদিন আখতারকে এলাকাবাসী প্রকাশ্যে
ঘুরাফেরা করতে দেখলেও মামলা হওয়ার সাথে সাথে সটকে পড়েছেন তিনি। মর্গ থেকে এনে নিহত লক্ষণ দাশ এর লাশ দাহ করা হলেও আহতদের কোথায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা যায় নি। তাছাড়া স্থানীয় বৈরাগ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আলম গত মার্চ মাসের ২ তারিখ পরিবেশ অধিদপ্তরে স্থানীয় বৈরাগ ইউনিয়নের বাসিন্দা এ ঘটনার নায়ক আখতার, মো. ইকবাল, বাবুল, গোদর মিয়া, জাহাঙ্গীর ও
ফকিরা প্রকাশ খাদেমের বিরুদ্ধে অবৈধ ভাবে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। স্থানীয়রা আরো অভিযোগ করেন এ সিন্ডিকেটের পাশাপাশি কেইপিজেড কর্তৃপক্ষও পাহাড় কাটছে। সিণ্ডিকেট চক্রের নানামুখী তৎপরতায় দেয়াং এখন পাহাড় শূণ্য হতে চলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড় কাটার অভিযোগে পরিবেশ অধিদপ্তর কেইপিজেডে অভিযানও চালিয়েছিল। তবে কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে
বলেন সব ধরনের নিয়মনীতি মেনেই কেইপিজেডে কার্যক্রম চলছে। তাছাড়া আনোয়ারায় পাহাড় কাটার পাশাপাশি বর্তমানে পারকি সমুদ্র সৈকত, রায়পুরের কোস্ট এলাকা, সরেঙ্গা, জুইদন্ডী, চান খালী বরকল ব্রিজসহ বিভিন্ন পয়েন্টে প্রভাবশালী মহল নদী ও খালে ড্রেজার বসিয়ে নিয়মিত বালি উত্তোলন করে চললেও থানা পুলিশ তাদের দাপটের কাছে অনেকটা অসহায় বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আনোয়ারা
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ ফরিদ আহমেদ জানান, বালি উত্তোলনের বিষয়ে কোন অভিযোগ না থাকায় তিনি বিষয়টি জানেন না। এ ব্যাপারে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।