শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই-রাষ্ট্রপতি

প্রকাশ:| সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর , ২০১৩ সময় ১১:৪৪ অপরাহ্ণ

রাষ্ট্রপতিরাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ‘বিশাল সমুদ্র অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। কারও সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য নয় বরং আত্মমর্যাদাশীল জাতির সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য আমাদের আত্মরক্ষার সামর্থ্য থাকা দরকার।’
আজ সোমবার সকালে চট্টগ্রামের নেভাল একাডেমিতে নৌবাহিনীর ‘মিডশিপম্যান ২০১২ আলফা’ এবং সরাসরি নিযুক্ত ২০১৩ ব্রাভো ব্যাচের অফিসারদের প্যারেডে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীর স্বপ্নপূরণ এখন সময়ের ব্যাপার। ইতিমধ্যে নৌবহরে যুক্ত হয়েছে দুটি মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্র্যাফট এবং দুটি হেলিকপ্টার। শিগগিরই ঘাঁটি সুবিধাসহ নৌবহরে যুক্ত হবে দুটি সাবমেরিন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘২০১২ সালে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমুদ্রসীমা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়েছে। এ কাজে সমুদ্রের সামগ্রিক জরিপ ও তথ্য সরবরাহ করেছে নৌবাহিনী। একইভাবে ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত সমুদ্রসীমা চূড়ান্ত হবে। তা-ও আমাদের পক্ষেই আসবে বলে আশা করি।’ নতুন কমিশনপ্রাপ্ত সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আজকের এই সাফল্যের পতাকা বহনের দায়িত্ব তোমাদের হাতে তুলে দেওয়া হলো।’
এর আগে রাষ্ট্রপতি প্যারেড পরিদর্শন এবং কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ছিলেন নৌবাহিনীর প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল এম ফরিদ হাবিব এবং চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল আকতার হাবিব।
কুচকাওয়াজ শেষে মিডশিপম্যান ২০১২ আলফা ব্যাচের সেরা চৌকস ক্যাডেট হিসেবে মো. মেরাজুল ইসলামের হাতে ‘সোর্ড অব অনার’ পদক তুলে দেন রাষ্ট্রপতি। এ ছাড়াও মিডশিপম্যান মো. আফজালুল আলম ফরিদকে ওসমানী স্বর্ণপদক এবং মো. সানজিদুর রহমানকে নৌবাহিনীর প্রধান স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে ২০১২ ব্যাচের ৪৪ জন ‘মিড শিপম্যান’ (ক্যাডেট) এবং ২০১৩ ব্যাচের ১৫ জন সরাসরি নিযুক্ত অফিসারকে কমিশন প্রদান করা হয়।
নৌবহরে যুক্ত হলো চারটি যুদ্ধজাহাজ: রাষ্ট্রপতি দুপুরে চট্টগ্রাম নৌঘাঁটিতে নৌবাহিনীতে নতুন সংযোজিত চারটি যুদ্ধজাহাজের কমিশনিং করেন। এই চারটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ ‘বানৌজা সমুদ্রজয়’ এবং খুলনা শিপইয়ার্ডে তৈরি বানৌজা ‘অপরাজেয়’, ‘অদম্য’ ও অতন্দ্র’।
কমিশনিং অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশের নৌবাহিনীকে একটি কার্যকর বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০১৫ সালের নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হবে দুটি করবেট। এ দুটি করবেট এখন চীনে নির্মাণাধীন। চীন থেকে আরও আরও দুটি মিসাইল ফ্রিগেট আগামী বছরের জানুয়ারিতে সংযুক্ত হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূইয়া, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ ইনামুল বারী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনাসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা।