শক্তিশালী আবাহনীকে পরাজিত করে ইতিহাসে চট্টগ্রাম আবাহনী

প্রকাশ:| শনিবার, ৭ মে , ২০১৬ সময় ১১:২০ অপরাহ্ণ

সত্যিই অসাধারন। অনেকটাই ইংলিশ ক্লাব লেস্টার সিটির মতোই। যাদের ক্লাব ইতিহাসে ছিল না কোন শিরোপা জয়ের রেকর্ড। কিন্তু চলতি মৌসুমে বিগ বাজেটের দল গড়েই চমক দেখালো চট্টগ্রাম আবাহনী। স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের ফাইনালে শক্তিশালী ঢাকা আবাহনীকে ২-০ গোলে পরাজিত করে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে চট্টগ্রাম আবাহনী। ঘরোয়া ফুটবলে চট্টগ্রাম আবাহনীর এটি প্রথম কোন শিরোপা। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম উত্তেজক ফাইনালে চট্টগ্রাম আবাহনীর হয়ে একটি করে গোল করেছেন লিওনেল সেইন্ট ও রুবেল মিয়া।

ফাইনালের আগে চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ জোসেফ পাভলিককে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনি কি ক্লদিও রানেইরি হতে চলেছেন? জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘হ্যা তাই হতে চাই’। শেষ অবধি তাই হলেন। ক্লাব ইতিহাসে একটি শিরোপার জন্য বুভুক্ষা ছিল চট্টগ্রাম আবাহনী। অবশেষে পাভলিকের হাত ধরে এল সেই আরাধ্যের ট্রফি। শিরোপা উৎসবে মত্ত গোটা জাহিদ শিবির।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই ছিল আবাহনীর দাপট। যারা সেমিতে শেখ জামালকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে এসেছিল। কিন্তু দাপট দেখালেও শেষ হাসি হাসতে পারেনি তারা। প্রথমার্ধে বল দখলে আধিপত্য থাকলেও গোলের তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি অমলেশ সেন বাহিনী। গোল মুখে আক্রমণগুলো মিইয়ে যায় চট্টগ্রাম আবাহনীর নির্ভরযোগ্য ডিফেন্সে।

দুই মিনিটে প্রথম আক্রমণ করে চট্টগ্রাম আবাহনী। বক্সের বাইরে থেকে শট নেন মরোক্কোর মিডফিল্ডার তারিক আল জানাবি। কিন্তু তার শট বাম পোস্ট ঘেঁষে চলে যায় মাঠের বাইরে।

১৩ মিনিটে সুযোগ এসেছিল ঢাকা আবাহনীর। কিন্তু ফাঁকা পোস্ট পেয়েও গোলের সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করে মিডফিল্ডার জুয়েল রানা। তার শট চলে যায়ডান পোস্ট ঘেঁষে। ২৫ মিনিটে বক্সে বল পেয়েও সুযোগ হাতছাড়া করেন চট্টগ্রাম আবাহনীর ডিফেন্ডার রেজাউল করিম রেজা। ৩১ মিনিটে বক্সের দুই গজ দূরে ফ্রি কিক পেয়েছিল বন্দর নগরীর দলটি। গোল হতে পারতো। কিন্তু হতাশই করেন তারিক আল জানাবি। বল মারেন গোলবারের অনেক ওপর দিয়ে।

৩৬ মিনিটে বক্সের খুব কাছেই ডান প্রান্ত থেকে ফ্রি কিক নেন জাহিদ। কিন্তু বক্সে পেয়ে বল বাইরে মারেন চট্টগ্রামের ফরোয়ার্ড রুবেল মিয়া। এরপর ৪৪ মিনিটে বল নিয়ে একক প্রচেষ্টায় ঐতিহ্যবাহীদের বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড লিওনেল প্রিয়াক্স। কিন্তু তাকে ঘিরে ধরেন প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডার। তাকে বল পোস্টে পাঠানোর সুযোগ না দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠান ডিফেন্ডার রেজা।

প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচে আধিপত্য নেয় চট্টগ্রাম আবাহনী। ৫৫ মিনিটের রুবেল মিয়ার পাসে আবাহনীর জাল কাঁপান চট্টগ্রামের হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড লিওনেল সেইন্ট প্রিউক্স। রীতিমতো উৎসব তখন চট্টগ্রাম আবাহনী শিবিরে।

এই উৎসবের রেশ শেষ না হতেই আবারও চমক। এবার আগের গোলের যোগানদাতা রুবেল নিজেই।৬২ মিনিটে বক্সের মধ্যে দুর্দান্ত ভলিতে গোল করেন চট্টগ্রাম আবাহনীর এই ফরোয়ার্ড। স্কোর লাইন তখন ২-০। শিরোপা জয়ের সুবাস তখন থেকেই যেন পেতে শুরু করে জাহিদ শিবির।

শেষ অবধি একটি গোলও শোধ দিতে পারেনি আবাহনী। শেষ বাঁশি বাজার পরই শুরু হয় চট্টগ্রাম আবাহনীর শিরোপা উল্লাস। পানি ছিটিয়ে, পতাকা উড়িয়ে উৎসবে মাতে জাহিদ, রুবেল, আশরাফুল রানারা।  শিরোপা জয়ের গোটা দলের জন্য ১০ লাখ টাকা বোনাস ঘোষণা করেন চট্টগ্রাম আবাহনীর ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান তরফদার রহুল আমিন।