লোহাগাড়ায় থানা হেফাজত থেকে হত্যা মামলার রিমান্ডের আসামীর পলায়ন

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর , ২০১৪ সময় ০৮:৩০ অপরাহ্ণ

লোহাগাড়া প্রতিনিধি :

লোহাগাড়ায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর বেলাল হত্যা মামলায় দু’দিনের রিমান্ড আনা আসামী নুরুল ইসলাম (২৮) থানা হেফাজত থেকে পালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে । গতকাল ২৫ নভেম্বর মঙ্গলবার ভোরে লোহাগাড়া থানায় ঘটনাটি ঘটে। পালিয়ে যাওয়া আসামী নুরুল ইসলাম উপজেলার উত্তর কলাউজান দয়ার পাড়ার মৃত আবদুল শুক্কুরের পুত্র।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চাঞ্চল্যকর বেলাল হত্যাকান্ডের দায়েরকৃত মামলার এজাহারভুক্ত আসামী বদিউল আলমের আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে গত ২০ নভেম্বর রাতে নিজ বাড়ী থেকে আসামী নুরুল ইসলামকে আটক করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আরেফুল ইসলাম। পরদিন ২১ নভেম্বর সকালে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে তাকে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়্যাল ম্যাজিষ্টেট কুদরত-ই-এলাহী’র আদালতে প্রেরণ করা হলে আদালত দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওইদিন অপর একটি ভাংচুর ও বিস্ফোরক আইনের মামলার তিন আসামীসহ নুরুল ইসলামকে আদালত থেকে রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে থানায় আনা হয়। পরে কর্তব্যরত কর্মকর্তা এসআই আবদুল জলিল জিডিমুলে তাদেরকে থানা হাজতে প্রেরণ করে। কিন্তু, আসামী নুরুল ইসলাম উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ হত্যা মামলার আসামী হওয়ায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আরেফুল ইসলাম তাঁর হেফাজতে নিয়ে আলাদা একটি কক্ষে (এএসআই’দের সংরক্ষিত কক্ষ) রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে প্রহরীর দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় কনষ্টেবল আনোয়ার হোসেন এএসআইদের কক্ষে এসআই আরেফুল ইসলামের হেফাজতে থাকা আসামী নুরুল ইসলামকে না দেখে বিষয়টি কর্তব্যরত কর্মকর্তা এসআই আবদুল জলিলকে জানান। পরে এসআই জলিল এ বিষয়টি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আরিফকে জানান। এ ব্যাপারে বেলাল হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আরেফুল ইসলাম বলেন, আমি দু’দিনের রিমান্ডে আনা আসামী নুরুল ইসলামকে এএসআইদের কক্ষে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আসামীর হ্যান্ডকাফের চাবি ডিউটি অফিসারের হেফাজতে দিয়ে থানা ত্যাগ করি। কিন্তু, আসামী কিভাবে থানা থেকে পালিয়ে গেছে জানি না। ওইদিনের থানার ডিউটি অফিসার ও প্রহরী এ বিষয়টি জানতে পারে। একই প্রসঙ্গে ঘটনার দিন থানার ডিউটি অফিসারের দায়িত্বে থাকা এসআই আবদুল জলিল বলেন, এসআই আরেফুল ইসলাম তার নিজ হেফাজতে নিয়ে উক্ত আসামীকে আলাদা কক্ষে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি উক্ত আসামী ও হ্যান্ডকাফের চাবি আমাকে বুঝিয়েতো দেননি বরং এ বিষয়ে কোন তথ্যই আমাকে জানাননি। উনার হেফাজতে থাকাকালীন সময়ে আসামীর কি ঘটেছে আমি জানার কথা নয়।

এদিকে, উপজেলার চাঞ্চল্যকর বেলাল হত্যা মামলায় রিমান্ডে আনা আসামীর থানা হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ওইদিন দায়িত্বে থাকা ডিউটি অফিসার আবদুল জলিল কিংবা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আরেফুল ইসলাম কেউ এ ঘটনাটির দায় নিতে চাচ্ছেন না। শুধুই একে অপরকে দুষেই যাচ্ছেন। তবে, পালিয়ে যাওয়া আসামী নুরুল ইসলামকে পুণরায় গ্রেফতারে জোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে, থানা হেফাজত থেকে হত্যা মামলায় রিমান্ডে আনা আসামী পালানোর ঘটনায় পুলিশের ভাবমূর্তি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এছাড়াও পুলিশের চরমভাবে দায়িত্ব অবহেলার প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে। ##


আরোও সংবাদ