লোডশেডিংয়ের কবলে কক্সবাজারবাসী

প্রকাশ:| রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর , ২০১৫ সময় ০৯:৩৫ অপরাহ্ণ

লোডশেডিংলোডশেডিংয়ের কবলে নাকাল কক্সবাজার শহরবাসী। গত এক মাস ধরে এ অবস্থা চলে আসছে। প্রতিদিন ও রাতে ২৪ ঘণ্টায় ৭/৮ বার আসা-যাওয়া করছে বিদ্যুৎ। একবার বিদ্যুৎ গেলে কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। যার কারণে পুরো কক্সবাজারের শিল্প কারখানায় উৎপাদন বন্ধের উপক্রম হয়েছে। এতে করে পণ্যের উৎপাদন কমে যাওয়ায় দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

এছাড়া বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে হ্যাচারি, লবণ শিল্প, অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বরফ কল, ছোট-বড় শিল্প কারখানা সহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও বন্ধের উপক্রম হয়েছে। পর্যটন শহর হওয়ার পরও কক্সবাজার জেলায় এমনিতেই চাহিদার অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ দেয়া হচ্ছে জাতীয় গ্রিড থেকে। এর উপর হঠাৎ করেই এক মাস ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এমন ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। দিনে-রাতে এমন বিদ্যুতের আসা-যাওয়ায় বিরক্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন গ্রাহকরা। কিন্তু বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ বলছে, জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ বরাদ্দ না পাওয়ায় লোডশেডিং হচ্ছে।

কক্সবাজার বিসিক শিল্প নগরীর মেসার্স নিপা ফ্লাওয়ার ও অয়েল মিলের পরিচালক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এরশাদ আহমেদ জানিয়েছেন, এক মাস ধরে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বিসিক শিল্প নগরীতে তাদের কারখানার উৎপাদন ৭০ ভাগ কমে ৩০ ভাগে এসে ঠেকেছে। যার কারণে চাহিদার অনুকূলে ক্রেতাদের ময়দা ও আটা সরবরাহ করতে পারছে না তার প্রতিষ্ঠান। আর এতে করে বাজারে ময়দার দামও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।

বিসিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও কক্সবাজার জেলা শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুল হক বলেন, ‘বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে পুরো বিসিক শিল্প নগরীতে ভুতুড়ে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিসিক শিল্প নগরীর সব কারখানা বন্ধের উপক্রম হয়েছে। এতে পণ্যের উৎপাদন কমে গেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য লাটে উঠবে। শ্রমিকরাও বেকার হয়ে যাবে।’

কক্সবাজার বরফ কল শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মাহমুদুন্নবী বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে লোডশেডিং ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।’