লেবাননের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম নৌ জেটি ত্যাগ করেছে যুদ্ধজাহাজ বিজয়

প্রকাশ:| শনিবার, ২ ডিসেম্বর , ২০১৭ সময় ০৮:৪১ অপরাহ্ণ

লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ বিজয় শুক্রবার (০১-১২-২০১৭) লেবাননের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম নৌ জেটি ত্যাগ করেছে। সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী সংযোগ অধিদফতর (আইএসপিআর)।

এ সময় সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (অপারেশন্স) রিয়ার এডমিরাল এম মকবুল হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাহাজটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান।

আইএসপিআর তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, United Nations Interim Force in Lebanon (UNIFIL) মিশনের আওতায় মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম টাস্কফোর্সে দীর্ঘ ৩ বছর ৭ মাস দায়িত্ব পালনরত বানৌজা আলী হায়দার এবং নির্মূলকে প্রতিস্থাপন করবে নৌবাহিনীর আধুনিক এ যুদ্ধজাহাজ বিজয়। লেবানন ও ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায় টহলের কাজে নিয়োজিত থেকে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ আলী হায়দার ও নির্মূল আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখ সফলভাবে দায়িত্ব পালন শেষে দেশে প্রত্যাবর্তন করবে।

এই মিশনে যোগ দিতে নৌবাহিনী জাহাজ বিজয় এর অধিনায়ক কমান্ডার মোঃ ফজলার রহমান এর নেতৃত্বে সর্বমোট ১৫ জন কর্মকর্তা এবং ৯৫ জন নাবিক লেবাননের উদ্দেশ্যে গমন করেন।

আইএসপিআর আরো জানায়, UNIFIL শান্তিরক্ষা মিশনে যোগদানের পর থেকে আলী হায়দার ও নির্মূল জাহাজ দু’টি ভূমধ্যসাগরে নিরবিচ্ছিন্নভাবে টহলদানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ভাবমূর্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। প্রতিস্থাপিত আধুনিক এই যুদ্ধজাহাজ বিজয় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণের ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের পরিচিতি ও সুনাম আরও বৃদ্ধির পাশাপাশি এ খাতে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা যায়।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে নৌবাহিনীর পদস্থ সামরিক কর্মকর্তাগণ, জাহাজে গমনকারী কর্মকর্তা ও নাবিকদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ২০১০ সালের মে মাসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ প্রেরণের মাধ্যমে শান্তিরক্ষা মিশনে নতুন মাত্রা যোগ করে। এরই ধারাবাহিকতায় নৌবাহিনী জাহাজ আলী হায়দার এবং নির্মূল চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রায় সাত হাজার নটিক্যাল মাইল পথ অতিক্রম করে ভূমধ্যসাগরে মাল্টি ন্যাশনাল মেরিটাইম টাস্কফোর্সে যোগদান করে। উক্ত মিশনে বাংলাদেশ ছাড়াও জার্মানী, তুরস্ক, গ্রীস, ব্রাজিল এবং ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জাহাজ মোতায়েন রয়েছে।


আরোও সংবাদ