লিচুতে সয়লাব বাজার; হতাশ পানছড়ির চাষীগণ

প্রকাশ:| শনিবার, ২১ মে , ২০১৬ সময় ১১:০৩ অপরাহ্ণ

মো.তহিদুর রহমান রুবেল,পানছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলায় শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে মৌসুুমী ফল লিচুর কেনা-বেচা। তবে ঘূর্ণিঝড় “রোয়ানুর” প্রভাবে,হওয়া বৃষ্টির কারনে লিচুর দাম কমে যাওয়ায় চাষী-বিক্রেতা উভয়ই হতাশ। সাধারণত মৌসুমের শেষদিকে চাহিদার তুলনায় লিচুর সরবরাহ কম থাকায় চাষী-বিক্রেতারা ভাল দাম পান। কিন্তু এবার বৃষ্টির কারনে হয়েছে উল্টোটা। আবার কম দামে লিচু কিনতে পারায় খুশি সাধারণ ক্রেতাগণ। অন্যদিকে কতিপয় পাইকারী ব্যাবসায়ীদের দিকে সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগের তীর চাষীদের। তাঁরা মনে করেন,পাইকারী ব্যাবসায়ীদের সিন্ডিকেটই লিচুর ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার অন্যতম মূল কারন। অনেক চাষী নিজেই লিচু নিয়ে ছুটছেন জেলা সদরে। তাঁদের আশা,জেলা সদরে হয়ত কাঙ্খিত ন্যায্যমূল্য মিলবে।

লিচুতে সয়লাব বাজারটানা বৃষ্টি মাঝে শনিবার বেলা ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পানছড়ি সদর বাজার ঘুরে দেখা যায় লিচুতে বাজার সয়লাব। বিভিন্ন এলাকা থেকে চাষীগণ,লিচুর ঝুড়ি কাঁধে নিয়ে,সিএনজি,মাহিন্দ্র ও ব্যাটারী চালিত অটোরিকসা করে লিচু আসছেন । আর মুহূর্তেই মৌমাছির মত দল বেঁেধ ছুটে দরাদরি শুরু করছেন চাষী-সাধারণ ক্রেতা-পাইকারী ক্রেতাগণ। এরই ফাঁকে কথা হয়,উপজেলার সর্ব-উত্তর দিকের সীমানা পাড়ার বয়োবৃদ্ধ লিচু চাষী যামিনীরঞ্জন চাকমা (৬৫),দুদুকছড়ার অমর প্রিয় চাকমা (৩২),রাঙ্গাপানিছড়ার দীপালো চাকমার (৩৫) সাথে। তাঁরা জানান,এবার আবহাওয়া ভাল থাকায় লিচুর দারুণ ফলন হয়েছে। মৌসুমের শেষ দিকে ভাল দাম পাওয়ার আশায় প্রথম দিকে লিচু কম বেচেছি। এখন বৃষ্টি শুরু হওয়ায় সে আশায়ও গুড়েবালি। তবে তাতেও লাভ তেমন একটা মন্দ হবে না বলে আশা করছি।
বাজারে চায়না জাতের লিচু আকার ও মানভেদে ৭০-১০০টাকা,দেশী জাতের লিচু ৪০-৫০ টাকা কেনা-বেচা হচ্ছে। লিচু কিনতে আসা পানছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার আরবী প্রভাষক মাওলানা নুরুল আমীন মজুমদার কথা প্রসঙ্গে এ প্রতিবেদককে বলেন,আমাদের এই এলাকার লিচু অন্যান্য উপজেলার তুলনায় গুনে-মানে সেরা। আকারে বড় এবং খেতে সুস্বাদু। তাছাড়া এখন দামটাও তুলনামূলক কম। তাই পরিবারের জন্য কিছু লিচু নিয়ে নিলাম।

পাইকারী ক্রেতা সেলিম সওদাগরের সাথে সিন্ডিকেট নিয়ে কথা হলে তিনি হেসে বলেন,ভাই এখানে কোন সিন্ডিকেট নেই। এই বৃষ্টির দিনে দাম বাড়ানোর জন্য চাষীদের একটা কৌশল। বৃষ্টিতে লিচু পঁচে যাওয়ার চেয়ে যা দাম পাওয়া যায় তাই দিয়ে বিক্রী করে দেয়াই কি যুক্তি সঙ্গত নয় ? কেনা লিচু বেচতে না পারলে লাভের মুখ দেখা তো দূরের কথা,আসল উঠাইতে পারি কিনা তাতে সন্দেহ আছে।