লিঙ্গ বৈষম্যহীন থাইল্যান্ড

প্রকাশ:| বুধবার, ১৪ আগস্ট , ২০১৩ সময় ০৬:৫৯ অপরাহ্ণ

tai_16274লিঙ্গ হতে পারে দু’ধরণের৷ পুরুষ আর নারী৷ এরবাইরে হতে পারে না কোনও লিঙ্গ৷ হলেও তারা মানুষ নয়৷ তারা তবে কী?

উত্তরে ইচ্ছেমতো অপমানসূচক শব্দ বসিয়ে নেয় প্রত্যেকে৷ কখনও ‘হিজরে’ তো কখনও ‘রূপান্তরকামী’৷ ইচ্ছেমতো লাগালেই হল ছাপ্পা৷ প্রতিবাদে আন্দোলনও চলে অনেক৷ তবু, আজও রোখা গেল না লিঙ্গ বৈষম্য৷

কিন্ত্ত রূপান্তরকামীদের উপযুক্ত মর্যাদা দিয়েছে পাশের দেশ থাইল্যান্ড৷ সেখানে কাঠাওয়ে নামে পরিচিত তাঁরা৷ কাটাওয়ে অর্থাত্‍ মেয়েলি পুরষ৷ নাম যাই হোক, কাজের জায়গায় একচুলও কম নয় তাঁদের সম্মান৷

থাইল্যান্ডের সেক্স ট্যুরিজম-এর কথা সকলের জানা৷ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় দীর্ঘদিন ধরে চলছে এই ব্যবসা৷ প্রতি বছর পর্যটন শিল্পেও বিপুল টাকা আয় হয় এই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে৷ পাটায়ার আলকাজার থিয়েটারের সামনে তাদের নৃত্য প্রদর্শনীর তারিফ দুনিয়াজুড়ে৷ সেই সঙ্গে তাঁদের কমনীয় রূপের কথাও আজ সকলের জানা৷ এক প্রতক্ষ্যদর্শীর কথায়, সুন্দরীদের হার মানায় তাঁদের রূপের ছটা৷

থাইল্যান্ডের সমাজে লিঙ্গ বৈষম্যহীনতা নিঃসন্দেহে শিক্ষণীয়৷ কাঠাওয়েরা সংখ্যায় অসংখ্য৷ শেনা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে এই রূপান্তরকামীরা নানা ভাবে আচ্ছন্ন করত পুরুষদের৷ কখনওই তাঁদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়নি নাগরিক সমাজ৷ কখনওই দেগে দেয় নি ‘বেশ্যা’ তকমা৷ বরং খুব স্বাধাবিক ভাবে গ্রহণ করেছে তাঁদের৷ দেখেছে আর পাঁচ জনের মতোই৷ এমনকি, পেশাগত ভাবেও কখনও বঞ্চিত হতে হয়নি তাঁদের৷ সে সরকারি ক্ষেত্র হোক বা মিডিয়ার কাজ৷ সবক্ষেত্রেই সমান ভাবে গ্রহণ করা হয়েছে তাঁদের৷ তাঁদের শিল্প ও বেঁচে তাকাকে কেন্দ্র করে তৈরি হেয়েছে অসংখ্য তথ্যচিত্র৷ সম্প্রতি, পাসপোর্টেও তাঁদের তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা চলছে৷

সমানাধিকারের এই অভিনব উদ্যোগে সফল পাশের দেশ থাইল্যান্ড৷ এ দিকে, ভারতে আজও কাজের সুযোগ পাওয়া-না-পাওয়ার পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা নেয় লিঙ্গ৷ শুধু মাত্র সমকামী বা রূপান্তরকামী পরিচয় জানাজানি হলে কাজ চলে যেতে পারে আজও৷ আর হিজরের জন্য তো বরাদ্দ কাজের সুযোগই রাখিনি আমরা৷ কেন? কারণ তাঁরা শারীরিক ভাবেও না-পুরুষ, না-মহিলা৷ থাইল্যান্ড তী তবে পথ দেখাবে? উত্তর দেবে সময়৷


আরোও সংবাদ