লামায় ১২ হাজার গাছ কাটলো প্রতিপক্ষ

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর , ২০১৬ সময় ১০:৫২ অপরাহ্ণ

বান্দরবানের লামা উপজেলায় ভূমিবিরোধের জের ধরে সামশুল আলম নামে এক কৃষকের বাগানের ১২ হাজার বনজ গাছ কেটে দিয়েছে প্রতিপক্ষ। শুধু তাই নয়, এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন কৃষকের বসতঘরটিও ভেঙ্গে দেয়। এতে কৃষকের প্রায় ছয় লাখ টাকার ক্ষতি হয়।

বৃহস্পতিবার ভোররাত ৩টার দিকে উপজেলার সরই ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি ধুংচা পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৪০ থেকে ৫০জনের বিরুদ্ধে স্থানীয় আর্মি ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক।

অভিযোগে উল্লেখিত বিবাদীরা হলেন চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের বাসিন্দা ফজল করিমের ছেলে আক্তাররুজ্জামান বাবুল ও আবদুর রব এবং ধুংচা পাড়ার বাসিন্দা ফজল করিমের ছেলে নুরুল আবচার। বিবাদীরা একে অপরের আপন ভাই হন।

অভিযোগে জানা যায়, সরই ইউনিয়নের বাসিন্দা আহমদ কবিরের ছেলে সামশুল আলমের নামে ৪০৭নং জি হোল্ডিং মূলে পাঁচ একর দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির জমি রয়েছে। এ জমিতে বহু কায়িক ও অর্থ ব্যয় করে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের বাগান সৃজনসহ বসতঘর নির্মাণ করে ভোগ দখল করে আসছেন কৃষক পরিবার। সম্প্রতি ওই জমির ওপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে একই এলাকার নুরুল আবচারগংদের। তারা এ জমি তাদের বলে দাবি করে দখলে নিতে বিভিন্নভাবে অপচেষ্টা চালায়।

এতে পেরে না উঠে এক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার ভোরে নুরুল আবচার ও তার দুই ভাইয়ের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০জন অস্ত্রে সস্ত্রে সংঘবদ্ধ হয়ে কৃষক সামশুল আলমের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা কৃষক পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সৃজিত বাগানের দুই বছর বয়সী প্রায় ১২ হাজার ম্যালেরিয়া, একাশিয়া ও বেলজিয়াম গাছ কেটে দেয়।

কৃষক সামশুল আলমের বাগানের গাছ কাটার সত্যতা নিশ্চিত করে সরই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফরিদ উল আলম বলেন, খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে আইনের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত নুরুল আবচারগং ওই জমি তাদের বলে দাবি করেন।

লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, গাছ কাটার ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আরোও সংবাদ