লাইভ সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা চায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা

প্রকাশ:| রবিবার, ২০ ডিসেম্বর , ২০১৫ সময় ০৬:৩৩ অপরাহ্ণ

বিগত ঢাকার দুই এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে এবারের পৌরসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দৃশ্য গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল শনিবার নির্বাচন কমিশনে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তারা এ বিষয়ে বিধি নিষেধ আরোপের দাবি জানিয়েছে।

রোববার নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ বিবিসি বাংলাকে এমন তথ্যই দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সংস্থাগুলো পৌরসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিন সাংবাদিকদের বিভিন্ন তৎপরতার উপর বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানিয়েছে। বিশেষ করে ভোটের দিন টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবিটি জোরদারভাবে এসেছে বলে জানান তিনি।

তবে কমিশন এসব দাবিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কমিশনার শাহনেওয়াজ। তিনি জানান, আগের মতোই বিশেষ ব্যবস্থায় সাংবাদিকরা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে নির্বাচনের খবরাখবর সংগ্রহ করতে পারবে।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর দুই শতাধিক পৌরসভায় যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে তার আইনশৃঙ্খলার দিকটি নিয়ে শনিবার রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে সংস্থাগুলোর সঙ্গে এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন।

বৈঠকে পুলিশ প্রধান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, কমিশনের অন্যান্য সদস্য, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, র‍্যাব এবং বিজিবির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

তবে ঠিক কোন সংস্থা থেকে ভোটের দিন টেলিভিশনের লাইভ বন্ধের এই দাবিটি এসেছে তা স্পষ্ট করেননি নির্বাচন কমিশনার শাহনেওয়াজ।

তিনি শুধু বলেছেন, ‘প্রস্তাব এসেছে যে, সরাসরি সম্প্রচার হলে অনেক সময় দেখা যায়, ভুল ব্যাখ্যা যেতে পারে। এটা বিভিন্ন সংস্থা থেকে বলেছে। তবে আমরা এটার মধ্যে গুরুত্ব দিইনি। যতটুকু আমাদের পক্ষে সম্ভব আমরা গণমাধ্যমকে সাহায্য করব।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভোটকেন্দ্র এবং পোলিং বুথে সাংবাদিকদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপের দাবিও এসেছে গতকালের বৈঠক থেকে। তারা বলেছে, সাংবাদিকেরা অধিক হারে ঢোকে কিংবা অনেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ঢোকে এবং এদিক ওদিক যাওয়ার চেষ্টা করে। তাদেরকে বাধা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।’

আগে যেভাবে নির্বাচন কমিশন থেকে সংগ্রহ করা বিশেষ পাশ এবং গাড়ির স্টিকার ব্যবহার করে নির্বাচনী এলাকায় ঘুরে ঘুরে সংবাদ সংগ্রহ করা এবং পোলিং বুথ পর্যন্ত সাংবাদিকদের প্রবেশের সুযোগ ছিল, এবারও তাই থাকছে বলে জানান শাহনেওয়াজ।

তবে ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট একটি নীতিমালা করা হতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসে তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সাংবাদিকদের উপর হামলা, সংবাদ সংগ্রহে বাধা, জাল ভোট প্রদান, পোলিং বুথে হামলা ভাংচুর ইত্যাদির ব্যাপক-ভিত্তিক অভিযোগ ওঠে।

এদিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের যে ‘ভুল বোঝাবুঝির’ সৃষ্টি হয়েছে সেটা দূর করতে পদক্ষেপ নেয়ার জন্যও বাহিনীগুলোকে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ।

গত এপ্রিল মাসে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সিটি করপোরেশনের নির্বাচন চলাকালে ভোটের খবর সংগ্রহরত সাংবাদিকদের ওপর সরকারি দলের নেতাকর্মীদের হামলা ও পুলিশি হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল। সেটিকেই ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে উল্লেখ করছেন এই নির্বাচন কমিশনার।

বহু সাংবাদিকই তখন এ ধরনের অভিযোগ করেছিলেন, যা আমলে নিয়ে নির্বাচন কমিশন একটি তদন্ত করতে বাধ্য হয়। ওই তদন্ত কমিটিতে গিয়ে সাক্ষ্যও দিয়ে এসেছিলেন অনেক সাংবাদিক।

পরে অবশ্য তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে যে খবর বেরিয়েছিল তাতে দেখা গেছে, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সিটি নির্বাচনের মতো এবারও সাংবাদিকদের তরফ থেকে ওই ধরনের কোনো অভিযোগ যাতে না আসে সে ব্যাপারে যথেষ্টই তৎপর নির্বাচন কমিশন।

মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ বলছেন, ‘আমরা বলেছি, গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় পুলিশ ও সাংবাদিকদের মধ্যে যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে সেটা দূর করতে হবে।’ অবশ্য সাংবাদিকদেরও বাড়াবাড়ি না করবার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


আরোও সংবাদ