লাইভ অনুষ্ঠান থেকে দৌড়ে পালালেন বিউটি

প্রকাশ:| শনিবার, ২৫ এপ্রিল , ২০১৫ সময় ০৮:২৬ অপরাহ্ণ

ভূমিকম্পের কবলে পড়েছিল আজ বাংলাদেশ। কিছুসময়ের ব্যবধানে কয়েকবার কেঁপে উঠেছিল ঢাকা সহ গোটা দেশ। এসময় একুশে টেলিভিশনের একটি লাইভ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন ক্লোজআপ তারকা সংগীতশিল্পী বিউটি।

ঐ মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে বিউটি বাংলামেইলকে বলেন, জীবনের অন্যতম ভয়ংকর একটি মুহূর্ত পার করলাম আজ। শুধু আমিই নই, বাংলাদেশের সবাই আজ এই ভয়ংকর মুহূর্ত পার করেছে। আমি সেই সময় লাইভ অনুষ্ঠানে ছিলাম বলে হয়ত আমি সবার নজরে পড়েছি। প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম হয়ত দুই এক সেকেন্ডের মধ্যে এটি শেষ হয়ে যাবে।তবে যখন দেখলাম যে কিছু সময় পর পর এটির পুনরাবৃত্তি হচ্ছে তখন প্রোগ্রাম প্রোডিউসার আমাদের সবাইকে নেমে যেতে বলেন। আর এক মুহূর্ত দেরি না করেই আমরা তখন নেমে গেলাম। তবে দশ তলা থেকে সিঁড়ি ভেঙ্গে নেমে যখন নিচে পৌঁছালাম তখন কম্পন বন্ধ হয়েছিল। আল্লাহর রহমতে সবাই বেঁচে আছি এটাই অনেক। এমন মুহূর্ত যেন জীবনে আর না আসে সেই দোয়া করি আল্লাহর কাছে।
লাইভ অনুষ্ঠান থেকে দৌড়ে পালালেন বিউটি

লাইভ অনুষ্ঠান থেকে দৌড়ে পালালেন বিউটি1লাইভ অনুষ্ঠান থেকে দৌড়ে পালালেন বিউটি 2
এদিকে তখনকার অনুভূতির কথা নিজের ফেসবুকে জানাতে গিয়ে ঐ প্রোগ্রামের প্রডিউসার মাসুদুল হাসান রনি লেখেন- ভুমিকম্পের সময় দুপুর ১২টা থেকে আমি পিসিআরে প্রডিউসারের দায়িত্ব পালন করছিলাম ‘একুশে দুপুর ‘ লাইভ প্রোগ্রামের। স্টুডিতে সেটে ছিলেন জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী বিউটি ও উপস্থাপক জুলিয়া। ১২টা ১৪/১৫ মিনিটের সময় ভুকম্পন শুরু হতেই পিসিআর থেকে লাইট ডিজাইনার, সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার, স্টুডিওর প্রোডাকশন এসিস্ট্যান্ট ,২জন ক্যামেরাম্যানকে দ্রুত স্টুডিও ছেড়ে চলে যেতে দেখি। শুধু অনলাইন সুইচার আমার পাশে অসহায়ের মতন বসে থাকে । সে ফ্রেম কাটতেও ভুলে যায় ।
এদিকে লাইভের মধ্যে দেখি আমার অতিথি বিউটি নিজ হাতে এক ঝটকায় মাইক্রোফোন খুলে দৌড়ে স্টুডিও থেকে বেরিয়ে যায়। উপস্থাপক জুলিয়ার গলা শুকিয়ে গেছে , অসহায় হয়ে সে আমার নির্দেশের অপেক্ষায় থাকে। অবস্থার গুরুত্ব বুঝতে পেরে আমি দ্রুত টকব্যাকে বলি ,জুলিয়া বলেন,” দর্শক এই মুহূর্তে ভুমিকম্পন হচ্ছে ,যা আপনারা হয়তো অনুভব করছেন এবং টিভি পর্দায় লক্ষ্য করছেন ক্যামেরা কাঁপছে। এই অবস্থায় অনুস্টান চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব। আপনারা দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিন। একুশের দুপুর এখানেই শেষ করছি ।”

জুলিয়া আমার কথাগুলি বলতে পারেনি, তার মতন করে কিছু একটা বলতে না বলতে লাইভেই বিউটি দৌড়ে স্টুডিও থেকে বেরিয়ে যায় এবং জুলিয়াও। এদিকে প্রোডাকশনের মোস্তাফা ক্ষিপ্রগতিতে এন্ড স্ক্রল চালিয়ে সিঁড়ির দিকে দৌড় দেয়। সব শেষে আমি ও অনলাইন সুইচার মিঠু ভাই দ্রুতগতিতে সিঁড়ি ভেঙ্গে ১০তলা থেকে নীচে নেমে আসি।
বিঃদ্রঃ কখনো কখনো নিজ জীবন বাঁচানো থেকে পেশাগত দায়িত্ব অনেক বড় হয়ে পড়ে।


আরোও সংবাদ