লবণ চাষীদের মুখে এখন তৃপ্তির হাঁসি

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৯ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ সময় ০৮:৫০ অপরাহ্ণ

তৃপ্তির হাসি
সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও: কৃষকের উৎপাদিত লবণ এখন আর মাঠে পড়ে থাকে না বরং উল্টো মিল মালিকদের চাহিদা থাকে লবণের জন্য। এবার লবণ চাষীরা ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় লবণকে সাদা স্বর্ণ বলছে তারা। বাংলাদেশের মোট লবণের চাহিদার ৯৯% লবণ উৎপাদন হয় কক্সবাজারে। বহু বছর পর লবণের ন্যায্য দাম পাওয়ায় জেলার কয়েক লাখ লবণ চাষীর মুখে এখন তৃপ্তির হাঁসি। যেহেতু উৎপাদিত পণ্যের দাম প্রত্যাশার চেয়ে বেশি পাচ্ছে তাই লবণ এখন সাদা স্বর্ণ বলে আখ্যায়িত করছে লবণ চাষী এবং এর সাথে সম্পৃক্ত শ্রমিকরা । তাদের দাবী আগে যেখানে প্রতি মন লবণ বিক্রি হতো সর্বোচ্চ ১ বা ২ শত টাকায়, এখন সে লবণ বিক্রি হচ্ছে ৩ শত টাকার বেশি। এতে লবণের উৎপাদন খরচ বাদে বিপুল টাকা লাভ হচ্ছে।

সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের লবণ চাষী রহমান বলেন, এবার আমার ১০ একর জমিতে লবণ চাষ করেছি। আগে লবণ চাষ করে বিক্রির জন্য বসে থাকতে হতে এখন মাঠ থেকে লবন আসার আগেই মিল মালিকরা কিনে নিয়ে যাচ্ছে। যদি সামনে আবহাওয়া ভাল থাকে তাহলে আমরা আরো লাভবান হবো। তিনি বলেন, আমি এবার মাঠ থেকে লবণ বিক্রি করছি ৭৪ কেজি বস্তা ৪০০ টাকা, সে হিসাবে লবণের দাম বেশ ভাল পাচ্ছি। আগে একই বস্তার দাম পেতাম সর্বোচ্চ ২০০ টাকা। তাই আমরা এবার লবণের নাম দিয়েছে সাদা সোনা। এখন লবণের দাম বেশ ভাল। এদিকে লবণের মিলেও চলছে বেশ বিকিকিনি। ইসলামপুর ইউনিয়নের লবণের মিলগুলোতে এখন কাজ করছে হাজার হাজার শ্রমিক।
এলাকার ব্যবসায়ি আহাম্মদ বলেন, আমরা বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সীমাহীন কৃতজ্ঞ। এবার গভীর ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে লবণ আমদানী না করে সরকার লবণ চাষীদের স্বার্থ রক্ষা করে প্রান্তিক চাষীদের সাথে ভাল আচরণ করেছে, যার ফলে আমরা কয়েক লাখ লবণ চাষী অর্থনৈতিকভাবে বেশ লাভবান হয়েছি। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশ লবণ আসছে সেগুলো আমরা দ্রুত পরিচ্ছন্ন করে আয়োডিনযুক্ত করে প্যাকেটজাত করার কাজ সম্পন্ন করছি। এবার লবণ নিয়ে সব কৃষক খুব খুশি। তাই লবণকে অনেকে সাদা স্বর্ণ বলেও মন্তব্য করতে পিছপা হচ্ছে না।
স্থানিয় ইউপি চেয়ারম্যান ও লবণ মিল মালিক মাস্টার আবদুল কাদের বলেন, এবার লবণ নিয়ে সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে সেটা সারা দেশের লবণ শিল্পকে দীর্ঘ দিন বাঁচিয়ে রাখবে। আমার জানা মতে অনেক মিল মালিক কয়েক বছরের টানা লোকসানে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে লেবার খরচ চালিয়েছে। তবে এবার অনেকে আগের লোকসান কাটিয়ে উঠে লাভের মুখ দেখছে। তিনি বলেন, দেশে কোন সময় লবণের সংকট হয় না, মূলত কিছু কুচক্রি মহল সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে ভারত থেকে লবণ আমদানী করে আমাদের লবণ শিল্পকে ধ্বংশ করতে চাইছে।

ইসলামপুর ইউনিয়নের বটতলী এলাকার আমিন বলেন, এক সময় পাট বাংলাদেশের সোনালী আঁশ ছিল। এখন বাংলাদেশের সাদা স্বর্ণ হচ্ছে লবণ। আমরা মনে করি লবণের দাম ধরে রাখা গেলে কক্সবাজারের অর্থনীতি চাঙ্গা হতে খুব বেশি সময় লাগবে না। তিনি বলেন, বহু বছর পর আমরা লবণ চাষীদের প্রতি সরকার নজর দিয়েছে। আমরা আগে লবণ উৎপাদনের পর সেটা বিক্রি করতে পারবো কিনা তা নিয়ে চিন্তায় থাকতাম। বেশির ভাগ লবণ মাঠেই থেকে যেত, এখন সেদিন নেই। লবণ চাষীদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে শুনতে পাচ্ছি, মিল মালিকরা আরো বেশি লবণের চাহিদা দিয়েছে তারা যত বেশি লবণ দিতে পারবে ততই লবণ কিনবে। তিনি বলেন মাঠের উৎপাদিত লবণ এখন মন প্রতি ৩৫০ টাকার মত বিক্রি হচ্ছে। আগে যেটা ১০০ টাকার বেশি হতো না। তবে সম্প্রতি আবার দাম কিছুটা কমে আসছে। তিনি বলেন আমি মহেশখালী কুতুবদিয়ার সংসদ আশেক উল্লাহ রফিকসহ লবণ নিয়ে যারা কথা বলেছে বিশেষ করে মিডিয়াকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাতে চাই।

বিসিকের উপ মহাব্যবস্থাপক আবছার উদ্দিন বলেন, এবার জেলাতে ১৮ লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নিয়ে চাষীরা মাঠে নেমেছিল কিন্তু লক্ষমাত্রার বেশি লবণ উৎপাদন হয়েছে। আমরা আশা করছি ২ বছরের মধ্যে আরো দ্বিগুণ লবণ উৎপাদিত হবে। তিনি বলেন, কক্সবাজারের লবণ দেশের চাহিদা পূরণ করে দেশের বাইরেও রপ্তানি করার সক্ষমতা রাখে। তাই বিদেশ থেকে লবণ আমদানী করার কোন প্রশ্নই আসে না। তিনি বলেন এবার লবণের ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় চাষীরা বেশ উৎসাহ নিয়ে মাঠে আছে।

কক্সবাজার সদর আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল বলেন, লবণ হচ্ছে কক্সবাজারের প্রধান অর্থকরী শিল্প। এই শিল্পের যাতে ঠিক মত বিকাশ হয় সেটা আমার সব সময় চেষ্টা ছিল তাই আমি বঙ্গ বার লবণের আমদানী বন্ধ করে, দেশীয় শিল্পকে রক্ষা করতে সংসদে কথা বলেছি। বাণিজ্য মন্ত্রী এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী লবণ আমদানী বন্ধ করে দেশীয় লবণ শিল্পকে রক্ষা করেছে।


আরোও সংবাদ