লন্ডভন্ড কুতুবদিয়া, নিহত ৩, দুহাজার ঘর বিধ্বস্থ, খোলা স্থানে অর্ধ লক্ষ মানুষ

প্রকাশ:| শনিবার, ২১ মে , ২০১৬ সময় ১০:৫৯ অপরাহ্ণ

লিটন কুতুবী, কুতুবদিয়া, কক্সবাজার:

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার উপকূলে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। শনিবার সকাল ১১টার দিকে পূর্ণিমার জোয়ারের সাথে সাথে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর বাতাসের গতিবেগ বৃদ্ধি লন্ডভন্ড কুতুবদিয়া, নিহত ৩, ২০০০ঘর বিধ্বস্থ, আকাশের নিচে অর্ধ লক্ষ মানুষপেয়ে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪/৫ফুট পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবোর) ৭১ পোল্ডারের ৪০কিলোমিটার বেড়িবাঁেধর মধ্যে ২০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভাংগা থাকায় জোয়ারের পানি এলাকায় ডুকে ৬ ইউনিয়নের ২৫ গ্রামের ২হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্থ হয়ে পড়েছে। প্রায় অর্ধ লক্ষ মানুষ গৃহহারা হয়ে আশ্রয় কেন্দ্র ও নিকটবর্তী আতœীয়স্বজনের নিকট অবস্থান নিয়েছে। উপকূলীয় এলাকার সতর উদ্দন উচ্চবিদ্যালয়ের ২টি ভবন ভেঙ্গে মূন্যবান কাগজপত্র ভেসে গেছে বলে প্রধান শিক্ষক শুক্কুর আলম আজাদ নিশ্চিত। দ্বীপে ঘূর্ণিঝড়ের সময় মালামাল উদ্ধার করতে গিয়ে ৩ জন নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন, উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের মোঃ ইকবাল (৩২),কৈয়ারবিল ইউনিয়নের মাষ্টার ফজলুল হক (৫৫) আলী আকবর ডেইল ইউনয়নের তাবলরচর গ্রামের শফিউল আলম (৩৬)। কুতুবদিয়ার ইউএনও সালেহীন তানভীর গাজী জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,সিপিপির দল, সরকারিভাবে সতর্ক থাকায় গত শনিবার সকাল থেকে বেড়িবাঁধের বাইরে এবং ভিতরে অবস্থানরত লোকজনকে নিকটবর্তী আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসা হলে তেমন প্রানহানী ঘটেনি। বর্তমানে প্রত্যেক আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া লোকজনকে শুকনো খাবার, পানীয় জল উপজেলা প্রশাসন থেকে বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়াও প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া লোকজনের নিকট শুকনো খাবার বিতরণের নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী ও ইউএনও ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেন। উপজেলা পরিষদ কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, কুতুবদিয়া দ্বীপে বসবাসরত ৭৫ভাগ মানুষ ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু শুরু হওয়ার পূর্বে আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে বলে এ প্রতিনিধিকে নিশ্চিত করেন। লন্ডভন্ড কুতুবদিয়া, নিহত ৩, ২০০০ঘর বিধ্বস্থ, আকাশের নিচে অর্ধ লক্ষ মানুষ২সিপিপির টীম লিডার আলহাজ গোলাম রশিদ বাচ্চু জানান, সিপিপির সেচ্ছাসেবক দল আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্তক সংকেত গত শুক্রবার দুপুর থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত একটানা মাঠে প্রচার প্রচারনার কাজ করায় প্রাণ নাশের ক্ষতি হয়নি বলে দাবী করেন। এখনো সিপিপির দল উদ্ধার প্রক্রিয়া কাজে নিয়োজিত রয়েছে। বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা অসোক কুমার রায় জানান, বনবিভাগের প্রায় ৫০ হেক্টর ঝাউবাগানের লক্ষাধিক ঝাউ গাছ জোয়ারের পানির সাথে ভেসে গেছে। অধিকাংশ ঝাউগাছ ভেঙে গেছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র কুটির শিল্প বিসিক সূত্রে জানা গেছে, লবন উৎপাদন মৌসুমে প্রান্তিক লবণ চাষীদের মাঠে লবণ থাকায় প্রায় এক’শ মেট্রিকটন লবণ জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানান গেছে, কুতুবদিয়া দ্বীপের ৪০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ২০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভাংগা থাকায় জোয়ারের পানি এলাকায় ডুকে নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে এখনো এ ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে কি পরিমান বেড়িবাঁধ ক্ষতি হয়েছে তা র্নিনয় করা হয়নি। কুতুবদিয়া বাচাঁও আন্দোলনের সভাপতি ও উত্তর ধুরুং ইউপির চেয়ারম্যান আ,স,ম,শাহরিয়ার চৌধূরী জানান, তার ইউনিয়নে প্রায় ১৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভাংগা থাকায় কাইছারপাড়া,পশ্চিম চরধুরুং, পূর্ব চরধুরুং, আকবর বলীঘাট, চুল্লারপাড়া, মিয়াজিরপাড়া,ফয়জানির বাপেরপাড়াসহ ২০ গ্রামে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু আর পূর্ণিমার জোয়ারে প্রায় ৭’শ ঘরবাড়ি লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। এ সব লোকজন নিকটবর্তী আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। বড়ঘোপ ইউপির চেয়ারম্যান এড়ভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধূরী জানান, আজম কলোনী এলাকায় ২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে প্রায় দুই’শ ঘরবাড়ি জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। এ এলাকায় কোন ধরণের আশ্রয় কেন্দ্র না থাকায় পানি বন্ধি ২হাজার মানুষ নিকটবর্তী একটি সেমিপাকা ঘরে আশ্রয় নিয়েছে। পরিষদ থেকে আশ্রয় নেয়া লোকজনকে শুকনো খাবার ও পানীয় জল বিতরণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন। একই চিত্র দক্ষিণ অমজাখালী গ্রামেরও। আলী আকবর ডেইল এলাকার বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন লালা জানান, তাবলরচর,কুমিরারছড়া জেলে পাড়া, আনিচের ডেইল এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে প্রায় ৫শ ঘরবাড়ি জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব পরিবারের লোকজন আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছে। প্রায় কোটি টাকার মালামাল ক্ষতি হয়েছে। কৈয়ারবিল ইউনিয়নে রেড়িবাঁেধর বাইরে বসবাসরত প্রায় ২শ পরিবারে ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। ৯১সনের ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকে এ এলাকার প্রায় দেড় হাজার মানুষ পূর্নবাসনের অভাবে প্রতিনিয়তই এসব ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা করে আসছে বলে স্থানীয় চেয়ারম্যান জালাল আহমদ জানান।