লতিফ সিদ্দিকীকে ‘মুরতাদ’ আহমদ শফী

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর , ২০১৪ সময় ০৫:৫৩ অপরাহ্ণ

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে ‘মুরতাদ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন হোফাজতে ইসলামীর আমীর, কওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকের চেয়ারম্যান এবং দারুল উলুম হাটহাজারীর মুহতামিম আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী। আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী এক বিবৃতিতে বলেছেন, লতিফ সিদ্দিকী ইসলামী শরীয়ত বিধান অনুযায়ী ইসলামের মৌলিক স্তম্ভ পবিত্র হজকে কটাক্ষ করায় সে মুরতাদ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, হজ মহান আল্লাহ প্রদত্ত বিধান। এই বিধানকে ফরজ করে পবিত্র কোরআনে আয়াত নাজিল হয়েছে। আর মহানবী সা. আল্লাহ প্রেরিত সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ট নবী ও রাসূল। সকল নবীদের সরদার। মক্কা ও মদিনা মুসলিম উম্মাহর পবিত্র স্থান। আরববাসীকে ভালাবাসা আল্লাহ রাসূল সা. কর্তৃক নির্দেশিত। লতিফ সিদ্দিকী পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র বাংলাদেশের মন্ত্রীসভার সদস্য। একটি মুসলিম প্রধান দেশের মন্ত্রী হয়ে মহানবী (সা.), হজ ও তাবলীগ জামায়াত ও আরববাসীদের নিয়ে কটুক্তি করে চারটি মৌলিক অপরাধ করে ইসলাম ধর্ম থেকে খারিজ হয়ে গেছেন। সে ‘মুরতাদ’। ইসলামে ‘মুরতাদের’ শাস্তি মৃত্যুদন্ড। কোন মুরতাদ ধর্মদ্রোহী তৌহিদী জনতা বাংলাদেশের মন্ত্রী সভায় থাকতে পারবে না। তাকে মন্ত্রীসভা থেকে অপসারণ করতে হবে। আহমদ শফী বলেন, এখনো বাংলাদেশে রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম। সংবিধানে বিস্মিল্লাহ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপ্রতি, মন্ত্রী পরিষদ সদস্য, এবং সংসদ সদস্যরাও হজ পালন করেন। হজীদের নিয়ে বিরুপ মন্তব্য কোন বিধর্মীরাও করেনি। লতিফ সিদ্দিকী মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে আঘাত করেছে। তাকে ক্ষমা করা যায় না। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যে হারে নাস্তিক ও ধর্মদ্রোহীদের আস্ফালন শুরু হয়েছে তাতে মনে হয় দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের সাথে তারা যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। হেফাজতে ইসলাম যে তের দফা দাবী পেশ করেছিল তা যদি সরকার বাস্তবায়ন করত: তাহলে লতিফ সিদ্দীকী এতবড় দৃষ্টতা দেখানোর সাহস পেত না। তিনি বলেন, আমরা অনেক ধৈার্য্য ধারণ করেছি। মুসলমানদের ধৈর্য্যরে সীমা শেষ হয়ে গেছে। আমাদেরকে রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না। তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, মহানবী সা. ও ধর্ম অবমাননার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাশ করুন। না হয় জনগণ ক্ষোভে ফুসে উঠলে ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। তিনি বলেন, আমরা হুশিয়ারি উচ্চারণ করছি, সরকার ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি তার বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাহলে তাকে সালমান রুশদী ও তাসলিমা নাসরিনের পরিণতি ভোগ করতে হবে। আল্লাহর জমিন বাংলাদেশের মাটিতে তাকে চলতে দেয়া হবে না; সেই সাথে সংখ্যারিষ্ঠ নবীপ্রেমিক জনতা সরকারের হঠকারিতারও উপযুক্ত জবাব দেবে। তিনি হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে যে কর্মসূচী ঘোষণা করা হয় তা অতীতের মতো সর্বাত্বকভাবে পালন করার জন্য সর্বস্তরের আলেম ওলামা পীর মশায়েখ ও তৌহিদী জনতার প্রতি আহবান জানান।


আরোও সংবাদ