লক্ষ্য ঠিক করে মনোযোগ দিলে অবস্থান তৈরি করা সম্ভব

প্রকাশ:| শনিবার, ৭ নভেম্বর , ২০১৫ সময় ১০:৩৩ অপরাহ্ণ

বড১অর্ধসহস্র মেধাবীর অফুরান উচ্ছ্বাস আর বড় স্বপ্ন দেখার প্রেরণা সঞ্চারের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে হয়ে গেল ‘ইয়ুথ সামিট ২০১৫’। ইয়ুথ ভয়েস অব বাংলাদেশের (ওয়াইভিবি) আয়োজনে চট্টগ্রামের ষোলশহরের এলজিইডি মিলনায়তনে শনিবার বিকালে বসেছিল আগামী দিনের নেতাদের মিলনমেলা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বিজিসি ট্রাস্ট, ইউএসটিসি, এশিয়ান উইম্যান ইউনিভার্সিটি, সাদার্ন, ইডিইউ, প্রিমিয়ার, চট্টগ্রাম কলেজ, মহসিন কলেজ, জামেয়া আলিয়া মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব শিক্ষার্থী ১০০ টাকা ফি দিয়ে নিবন্ধন করেছিলেন। যারা মুহুর্মুহু করতালি, আলোচকদের বক্তব্যের পর কঠিন কঠিন সব প্রশ্নের করে প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি করেন।

এতে ‘এডুকেশন অ্যান্ড ক্যারিয়ার’ বিষয়ে আলোচনা করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ড. মনজুর উল আমিন চৌধুরী ও লিটল জুয়েলস স্কুলের প্রিন্সিপাল দিলরুবা আহমেদ। ‘ইয়ুথ ইন লিডারশিপ’ বিষয়ে বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর, ফেইথ ক্রিয়শন লিমিটেডের চেয়ারম্যান মেজর (অব.) রেজাউল করিম, জয়যাত্রা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হেলেনা জাহাঙ্গীর ও বাংলাদেশ সাপ্লাই চেন কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এম নাঈম হোসেন। ‘ইয়থ ইন সোশ্যাল সার্ভিস’ বিষয়ে বক্তব্য দেন ওয়েল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সিরাজুল ইসলাম কমু, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কবি নাজিমুদ্দীন শ্যামল, ম্যাফ গ্রুপের জিএম (এইচআর) মো. আতাউর রহমান ও ইঞ্জিনিয়ার মো. আহসান।

বড২ইয়ুথ ভয়েসের মহাসচিব কারীমুল হাই নাঈমের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। মো. আসিফুল ইসলাম ও আফিয়া জাহান রুশনির সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন ইয়ুথ ভয়েসের চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম খোকন।

ড. মনজুর উল আমিন চৌধুরী বলেন, শিক্ষিত তরুণরাই হবে বাংলাদেশের নায়ক। সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে আমি বিশ্বাস করি না আমাদের তরুণরা বিপথগামী। আমরা রগকাটা রাজনীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। কিন্তু এখন রাজনীতি আর দুর্নীতি সমার্থক হয়ে গেছে। তরুণদের সঠিক পথ দেখাতে হলে সমাজ ও রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, মুক্তি কি পেয়েছি? মুক্তির পথ দেখাতে হবে তরুণদেরই।

তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, তোমাদের আইকন হতে হবে মাঝির ছেলে, ভারতের রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালাম। ‘হু আই অ্যাম’ আবিষ্কার করতে হবে।

হেলেনা জাহাঙ্গীর বলেন, ইয়ুথরাই হবে আগামী দিনের লিডার। কিন্তু কোন পথে গেলে লিডার হওয়া যাবে, নেতৃত্ব দিতে হলে কী করতে হবে তা জানা থাকা চাই। মেধা দিয়ে লিডারশিপ অর্জন করতে হবে। নিজে নিজে লিডার ভাবলে হবে না, সমাজ, মানুষ লিডার বলতে হবে।

এম নাঈম হোসেন বলেন, বিশ্বে যা কিছু বড়, সব স্বপ্নই দেখেছিলেন তরুণরা। লিডার মানে রাজনীতিবিদ শুধু নয়, সমাজের প্রতিটি খাতে লিডার থাকতে হবে। তবে দেশ এগিয়ে যাবে। প্রত্যেক ইয়ুথকে দেশের উন্নয়নে রোল প্লে করতে হবে। নিজের ওপর বিশ্বাস, সব মানুষকে গুরুত্ব দেওয়ার অভ্যাস, বড় স্বপ্ন দেখে ভয়কে জয় করতে পারলেই লিডার হতে পারবেন।

সমাজে হতাশা বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিজনেস শুরুর আগেই আমাদের তরুণদের পুঁজি হারানোর ভয়, চাকরি শুরুর আগেই চাকরি হারানোর ভয়। আমাদের বেশিরভাগ মানুষের সমস্যা হচ্ছে লক্ষ্য ঠিক না করেই পড়াশোনা করা। একজীবনে একটি বড় স্বপ্ন দেখে কাজে লেগে পড়তে হবে।’

মেজর (অব.) রেজাউল করিম বলেন, ক্যারিয়ার, ভিশন, মিশন ও গোল ঠিক করে তরুণরা উচ্চশিক্ষা নিলে ৮০ ভাগ সাফল্য নিশ্চিত বলা যায়। ইয়ুথ মানুষকে স্বপ্ন দেখতে হবে, আবিষ্কার করতে হবে। সুযোগ তৈরি করে নিতে হবে। লিডারের কাজ হচ্ছে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা। কমান্ড, কমান্ডার ও লিডারের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে হবে। আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে এবং সব ওয়েতে চেষ্টা করতে হবে।

নাজিমুদ্দীন শ্যামল বলেন, জীবন, পৃথিবী ও ছোট স্বপ্নকে বদলে দেওয়াই হচ্ছে তারুণ্যের ধর্ম। শুধু নিজে স্বপ্ন দেখলে হবে না, সেটি অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। নব্বইয়ের দশক থেকে ঢাকসু, চাকসু, রাকসু নির্বাচন হচ্ছে না বলে
রাজনীতি অরাজনীতিকদের হাতে চলে যাচ্ছে। মেধাবী তরুণরা নেতৃত্বে আসতে পারছে না। কিন্তু শিক্ষকরা ঠিকই দুবছর পরপর নির্বাচন করছেন। তারা শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে বিদেশ যাচ্ছেন, ছাত্ররা বঞ্চিত হচ্ছেন। দেশের ৪৮ শতাংশই যেখানে তরুণ, সততা, সাহস ও বিশ্বাস নিয়ে কাজ করলে দেশকে এগিয়ে নিতে পারবে।

মো. আতাউর রহমান বলেন, লক্ষ্য ঠিক করে মনোযোগ দিলে অবস্থান তৈরি করা সম্ভব। সনদ যথেষ্ট নয়, সফল হওয়ার জন্য, লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য পাঠ্যসূচি-চাকরি-ব্যবসার ফাঁকে ফাঁকে নিয়মিত পড়তে হবে। নিজেকে আপডেট রাখতে হবে।


আরোও সংবাদ