লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি আদায় হয়েছে- এনবিআর

প্রকাশ:| বুধবার, ১ জুলাই , ২০১৫ সময় ০৮:৪৯ অপরাহ্ণ

এনবিআর
২০১৪-১৫ অর্থবছরে এক লাখ ৩৬ হাজার ২৬৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে বলে সংস্থাটির দাবি।

এটি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ এবং সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এক হাজার ২৩৮ কোটি টাকা বেশি।

বুধবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান।

২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭২০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। পরে এটি সংশোধন করে এক লাখ ৩৫ হাজার ২৮ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এর আগে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এক লাখ ২০ হাজার ৮১৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা রাজস্ব এসেছিল।

রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনবিআরের সদস্য (মূসক) এনায়েত হোসেন ও সদস্য (কর প্রশাসন) আব্দুর রাজ্জাক উপস্থিত ছিলেন।

নজিবুর রহমান বলেন, “রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেছেন। কিন্তু সুশাসন, আধুনিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে আদায় কার্যক্রম পরিচালনা ও সম্মিলিত প্রয়াসের ফলে লক্ষ্যমাত্রা শুধু অর্জনই করিনি, অতিক্রমও করেছি।”

তিনি জানান, আমদানি-রপ্তানি পর্যায়ে ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৩৮ হাজার ২৩৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা আদায় হয়েছে।

স্থানীয় পর্যায়ের মূসক খাতে ৪৮ হাজার ২৬৪ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৪৮ হাজার ৬৩৮ কোটি ১ লাখ এবং আয়কর ও ভ্রমণ কর খাতে ৪৯ হাজার ২৬৪ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৪৯ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা আদায় হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এর আগের অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছিলো ১০ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের অবরোধ-হরতালসহ টানা সহিংস আন্দোলনের ফলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাপকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ে। বিশেষকরে আমদানি-রপ্তানি, উৎপাদন, পরিবহন, পর্যটনসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীসহ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক খাতের বিশ্লেষকরা ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ার আশংকা প্রকাশ করেছিলেন।

চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে এক লাখ ৭৬ হাজার ৩৭০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি।

এনবিআর চেয়ারম্যান মনে করেন এই লক্ষ্যও অর্জন সম্ভব হবে। কারণ রাজস্ব আদায়ের বেশকিছু সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র তাদের সামনে রয়েছে।

তিনি জানান, এনবিআরের জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি কার্যক্রম যাতে হয়রানিমূলক না হয় সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এজন্য এনবিআর জরিপ কার্যক্রমের ওপর জোর দেবে।

মানুষকে আয়করের আওতায় আনার বিষয়ে এনবিআরের কার্যক্রম তুলে ধরে এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, “১৬ কোটি মানুষের দেশে যে সংখ্যক মানুষ আয়কর দেন তা যথেষ্ট নয় বলে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে। এজন্য আমরা জরিপ কার্যক্রমের উপর জোর দিচ্ছি। এর মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে কারা করের আওতার বাইরে রয়েছে।”

পাশাপাশি শুল্ক ও মূসক ব্যবস্থা আধুনিক করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

চেয়ারম্যান জানান, পানগাঁও বন্দর থেকে আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সমুদ্র সম্পদ (ব্লু ইকোনোমি) আহরণে যে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে তা থেকে আয় বাড়বে।

তিন মাসের ব্যবধানে এমন কি ঘটলো যে লক্ষ্যমাত্রার বেশি রাজস্ব চলে এলো- সংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে নজিবুর রহমান বলেন, “কোন বিস্ময় নয়। আমাদের অর্থনীতির অন্তর্নিহিত শক্তিগুলো কোথায় সেটা আমরা জানি। এনবিআরের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সম্মিলিত প্রয়াসে এটি সম্ভব হয়েছে।”

সর্বশেষ হিসাবে, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে ৯২ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছিল এনবিআর ।