লক্ষ্মী বাবু , ১৫ লাখ টাকা!

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| সোমবার, ৬ আগস্ট , ২০১৮ সময় ০৯:৫০ পূর্বাহ্ণ

সামনেই কোরবানির ঈদ। ঈদকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে গরু কেনাবেচা। অনেকেই আছেন যারা হাটের সর্বোচ্চ গরুটা কিনতে সবসময় মুখিয়ে থাকেন। তেমনি একটি গরুর (ষাড়) সন্ধান পেয়েছেন সেই ব্যক্তিরা।

লক্ষ্মী বাবু আসলে কোনো মানুষ নয়। গরু (ষাড়)। কালীগঞ্জের বক্তারপুর ইউনিয়নের ভাটিরা গ্রামে জন্ম লক্ষ্মী বাবুর। লক্ষ্মী বাবুর বয়স যখন ৮ মাস তখন ওই গ্রামের মাঝি বাড়ির সৌদি প্রবাসী আবুবকর মাঝির স্ত্রী বেরেকা বেগম ৫০ হাজার টাকায় কিনে নেন ফ্রিজাম জাতের ষাড় গরুটি। বাড়িতে এনে সবাই মিলে তার নাম দেন লক্ষ্মী বাবু।

দুবছর লালন-পালনের পর ছোট্ট লক্ষ্মী বাবু আর ছোট্টটি নেই। লক্ষ্মী বাবু এখন বিশাল আকৃতি ধারণ করেছে। তাকে দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসছেন মানুষজন। কেউ কেউ আবার শহর থেকে গাড়ি নিয়ে ছুটে আসছেন লক্ষ্মী বাবুকে কিনতে। তবে মালিক রেবেকার মনঃপূত না হওয়ায় এখনো বাড়িতেই আছে লক্ষ্মী বাবু। মনমতো দাম পেলে তবেই লক্ষ্মী বাবুর রশি উঠবে অন্যের হাতে। রেবেকার প্রত্যাশা ১৫ লাখ টাকা। তবে সেটা দুপক্ষের আলোচনার মাধ্যমে ঠিক হবে।

প্রবাসী আবুবকর মাঝি ও রেবেকার সংসার জীবনে ২ মেয়ে ও ১ ছেলে। এক মেয়ের বিয়ে হয়েছে বাড়ির পাশেই। এখন বাড়িতে আছে এক মেয়ে ও ছেলে। ছেলেটা স্থানীয় ফুলদী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণিতে পড়ছে আর মেয়েটা পড়ছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। রেবেকা দুই ছেলে-মেয়ের যত্ন যেভাবে করেন ঠিক তেমনই যত্ন করছেন লক্ষ্মী বাবুরও। নিয়ম করে গোসল করানো, খাওয়ানো, অসুস্থ হলে ডাক্তার দেখানো, ওষুধ খাওয়ানো, একটু গরম পড়লে বাতাসের ব্যবস্থা সবই করছেন রেবেকা। তার সঙ্গে সহযোগিতা করছেন শ্বশুর কুদরত আলী মাঝি (৭০) ও ছেলে তওহিদ মাঝি (১৪)।

স্থানীয়রা জানান, এত বড় বিশালাকৃতির ষাড় আশপাশের কোনো উপজেলা বা জেলায় নেই। প্রায় ৩৫ মণ ওজনের এই ষাড়টি এবারে ঈদ উপলক্ষে দেশে বিভিন্ন স্থানে বসা গরুর হাটের প্রধান আকর্ষণ হতে পারে। তবে ষাড়টি কিনতে ক্রেতারা যেভাবে বাড়িতে ছুটে আসছে তাতে মনে হচ্ছে গরুর হাটের দেখা লক্ষ্মী বাবু নাও পেতে পারে।

রেবেকা জানান, স্বামী প্রবাসে থাকেন। তার একার রোজগারে সংসার খুব একটা ভালো চলছিল না। তাই শখের বসে তিনি লক্ষ্মী বাবুকে লালন-পালন শুরু করেন। প্রতিদিন খাবার তালিকায় ভুষি, সবজি, ফল ছাড়াও আছে সবুজ ঘাস। রেবেকা আরো জানান, দুবছর ধরে লক্ষ্মী বাবুকে লালন-পালন করছেন তিনি। একদিনও অসুস্থ হয়নি। তবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের লোকজন নিয়মতো বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। তারা মূলত আসতেন ষাড়টির সঠিক পরিচর্যা হচ্ছে কি না তা দেখার জন্য।

তিনি জানান, প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসছে লক্ষ্মী বাবুকে দেখার জন্য। তবে তিনি একেবারেই বিরক্ত হচ্ছেন না। বরং যারা আসছেন তাদের সবাইকে সহযোগিতা করছেন। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কার হাতে ওঠে লক্ষ্মী বাবুর গলার রশি।


আরোও সংবাদ