রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পথে পথে তল্লাশি

প্রকাশ:| বুধবার, ৩০ আগস্ট , ২০১৭ সময় ০৬:৪৩ অপরাহ্ণ

কায়সার হামিদ মানিক,উখিয়া।।
সীমান্ত ফাঁড়ি দিয়ে অবৈধভাবে আসা রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ রোধ এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা যাতে ছড়িয়ে যেতে না পারে সেজন্য পথে পথে ভ্রাম্যমাণ চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে। গত তিনদিন ধরে সম্ভাব্য বিভিন্ন জায়গায় যাত্রীবাহী গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করছে পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য সংস্থার কর্মকর্তারা। কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে নিয়োজিত চেকপোস্ট ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং আটক করে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এ তল্লাশি কার্যক্রম শুধু কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে নয়, সীমান্তের বিভিন্ন জায়গায়ও দেখা গেছে।
উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের এখন থেকে প্রতিরোধ করতে না পারলে ভবিষ্যতে আমাদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। এজন্য রোহিঙ্গাদের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে আন্তর্জাতিকভাবে চাপ সৃষ্টি করতে হবে।’
উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়াম্যান অধ্যক্ষ শাহা আলম বলেন, ‘আমরা আর কোনও রোহিঙ্গা চাই না। রোহিঙ্গা আমাদের দেশের বনজ সম্পদ থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটাচ্ছে।
একই উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গারা প্রবেশ করছে। তাদের অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া ঠিক হবে না। কারণ, এর আগে যারা এই দেশে প্রবেশ করেছে তারা আমাদের জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই যে কোনও উপায়ে প্রতিরোধ করতে হবে।’
উখিয়া থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, সীমান্ত সৃষ্ট পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে উখিয়া থানার বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এসব পয়েন্টে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের তল্লাশি করে বিজিবির সহায়তায় পোস্টব্যাক করা হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় গত দুই দিনে দালালসহ ১৪৩ জন রোহিঙ্গাকে আটকের পর বালুখালী বিওপি’র মাধ্যমে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে দালালদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাঈদ উদ্দিন বলেন, ‘রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রোধে সীমান্তে বিজিবি, পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। যাতে করে কোনও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করে দেশের অন্য কোথাও যেতে না পারে। বর্তমানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে কেউই চায় না নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করুক। এছাড়াও আমাদের হাইওয়েতে পুলিশ নিয়মিত চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করছে।’
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন  বলেন, ‘সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের প্রতিরোধে জনমত সৃষ্টি করতে হবে। কারণ, রোহিঙ্গারা এদেশের সর্বক্ষেত্রে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের যাতে কেউ সহযোগিতা না করে সেজন্য উখিয়া-টেকনাফের জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজসহ সব মানুষের কাছে জনমত গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, গত ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পুলিশ পোস্টে হামলা চালায় সে দেশের একটি বিদ্রোহী গ্রুপ। এতে ১২ পুলিশ সদস্যসহ বহু রোহিঙ্গা হতাহত হয়। এ ঘটনার পর প্রতিদিন পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে আসছে অসংখ্য রোহিঙ্গা। নাফ নদীর জলসীমানা থেকে শুরু করে স্থল সীমানা পার হয়ে জিরো পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। এর আগে গত বছরের ৯ অক্টোবরের পর থেকে রাখাইন রাজ্যে একইভাবে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রাণ ভয়ে পালিয়ে আসে প্রায় ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা। এরপর আন্তর্জাতিক মহল নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে মিয়ানমার সরকারের ওপর। কিন্তু, এর কোনও তোয়াক্কা না করে রাখাইনে ফের সেনা মোতায়েন করলে বিদ্রোহী গ্রুপের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে সে দেশের সেনাবাহিনী ও পুলিশ।