রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় দিতে হবে

প্রকাশ:| বুধবার, ৩০ নভেম্বর , ২০১৬ সময় ১১:০৪ অপরাহ্ণ

%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b6%e0%a6%b0%e0%a6%a3%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a7%80-%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%b8মায়ানমারে সরকারী বাহিনীর অমানবিক নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় দেওয়ার দাবি জানিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদল সভাপতি গাজী মোঃ সিরাজ উল্লাহ অদ্য ৩০ নভেম্বর সকাল ১০ ঘটিকায় নগরীর কাজীর দেউরী দলীয় কার্যালয়ের সামনে নগর ছাত্রদল আয়োজিত এক মানববন্ধনে বলেন, রোহিঙ্গা মুসলমানরা মায়ানমার সরকারের জাতিগত প্রতিহিংসার শিকার। সেখানে তাদের নুন্যতম মানবিক অধিকার টুকুও কেঁড়ে নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে উপেক্ষা করে রোহিঙ্গাদের উপরে সরকারী বাহিনী কর্তৃক যে নির্যাতন চলছে তা মানবতার মুখে চড় মারার শামিল। তাই আমরা চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এই নেক্কার জনক জাতিগত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং অবিলম্বে সীমান্ত খুলে দিয়ে রোহিঙ্গা মুসলিমদের শরণার্থী হিসেবে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
নগর ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলুর সঞ্চালনায় উক্ত মানববন্ধনে চট্টগ্রাম মহানগরের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাদের কণ্ঠে ছিল রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর চলমান বর্বরোচিত নির্যাতন বন্ধ করার আকুল আবেদন। এসময় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন প্লে কার্ড ও ফেষ্টুন নিয়ে রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর হামলার প্রতিবাদ জানান। “ঝঃড়ঢ় এবহড়পড়রফব, ঝঃড়ঢ় করষষরহম জড়যরহমুধ গঁংষরসং ইঁৎসধ” লিখিত ব্যানার নিয়ে নগর ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ দাঁড়িয়ে ছিলেন। নেতাকর্মীদের মুখে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বাঁচানোর জন্য আকাশ চুম্বি শ্লোগান শোনা যায়, শ্লোগান ছিল “জধরংব ুড়ঁৎ াড়রপব- ংধাব জড়যরহমুধ গঁংষরসং”।
সভাপতির বক্তব্যে গাজী সিরাজ আরও বলেন, মায়ানমারে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন আজকে নতুন নয়। ঐতিহাসিকভাবেই তারা মায়ানমারে জাতিগত প্রতিহিংসার শিকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। আজকের যে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে তার জন্য মায়ানমার সরকার নিজেই দায়ী। রাষ্ট্রীয়বাহিনীকে ব্যবহার করে সরকারীভাবে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের উপরে নির্যাতনের যে ষ্ট্রিম রোলার চালানো হচ্ছে তা বিশ্ব মানবতার বুকে কাপন ধরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু তার পরও আমরা নীরব ভূমিকা পালন করছি। বিশ্ব সম্প্রদায় এই বিষয়ে মুখে কলুপ এটে বসে আছে। কিন্তু আমরা বসে থাকব না, আমরা প্রতিবাদ করব। কারণ আমাদের নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন প্রতিবাদী, বিশ্বের যেখানেই মানবতার বিপর্যয় হত তিনি সেখানেই মানবতার পক্ষে অবস্থান নিতেন। ১৯৭৮ সালে যখন মায়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপরে নির্যাতন চলছিল তখন আমাদের প্রিয় নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সীমান্ত খুলে দিয়ে রোহিঙ্গা মুসলমানদের আশ্রয় দিয়ে ছিলেন। সেটি ছিল মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সেদিন বিশ্ব সম্প্রদায় দাঁড়িয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের এ মহান কর্মের জন্য তার প্রতি অন্তহীন শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। বর্তমানে জাতি সংঘ থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ বিশ্ব সম্প্রদায় যখন বাংলাদেশ সরকারের কাছে রোহিঙ্গা মুসলিমদের আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত কিন্তু বাংলাদেশ সরকার তাদের সে কথায় কর্ণপাত না করে মানবতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা এসব রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পুশ ব্যাক করছে। এই ঘটনা চরম নিন্দনীয় ও অমানবিক। আমরা অবশ্যই এসকল নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের পক্ষে অবস্থান নিতে চাই। তাই বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান এসকল নির্যাতিত মানুষদের বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় দেয়া হোক।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন, নগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া,সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আলী মর্তুজা খান, কোতোয়ালী থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছাদেকুর রহমান রিপন, চকবাজার থানা ছাত্রদলের সভাপতি নুরুল আলম শিপু, বাকলিয়া থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাকিম মাহমুদ প্রমুখ। প্রেস রিলিজ