রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

প্রকাশ:| বুধবার, ২৭ সেপ্টেম্বর , ২০১৭ সময় ১০:০৪ অপরাহ্ণ

বুধবার শারদীয় দুর্গাপূজা পরিদর্শনে গিয়ে রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশনে এক অনুষ্ঠানে একথা বলার পাশাপাশি শরণার্থী রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপ্রধান।

প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়ে পৌনে ৫ লাখ মুসলিম রোহিঙ্গা ইতোমধ্যে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগে থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা রয়েছে আরও আরও ৪ লাখের বেশি।

এবার রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা শুরু হলে বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গাদের ঢল নামার পর কাজাখস্তানে ওআইসির এক সম্মেলনে এই বিষয়টিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করেছিলেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

রোহিঙ্গারা যাতে নিজের দেশে ফিরে গিয়ে থাকতে পারে, সেজন্য ওআইসি সদস্য রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।

এরপর সরকার প্রধান শেখ হাসিনা জাতিসংঘেও বিষয়টি তোলেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনার মুখে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি যাচাই সাপেক্ষে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন

মিয়ানমারকে চাপ দিয়ে সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগের মধ্যে তাতে আরও জোর দেওয়ার তাগিদ আসে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে।

পূজার অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও তাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে বিশ্বের সকল দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকেও এগিয়ে আসতে হবে। মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের স্বদেশে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করতে হবে।”

মিয়ানমার থেকে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মুসলিম রোহিঙ্গাদের সঙ্গে অনেক হিন্দুরও বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।

“তাদের প্রতিও আমাদের সহমর্মিতা থাকতে হবে। তাদের দুঃখের দিনে পাশে দাঁড়াতে হবে, সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে।”

বন্যার কারণে হাওরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকের আনন্দের সঙ্গে দুর্গোৎসব উদযাপন করতে না পারার কথাও আসে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে।

“কেউ যাতে উৎসবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয় সে লক্ষ্যে আপনারা দুর্গোৎসবের আনন্দকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগী হবেন।”

ধর্মে ধর্মে বিভেদকে দূরে রাখার আহ্বান জানিয়ে আবদুল হামিদ বলেন, “আজ বিশ্বজুড়ে হিংসা, বিদ্বেষ আর ধ্বংস আমাদের সামনে এক ভয়াবহ অশনি সঙ্কেত হয়ে দেখা দিয়েছে। এ হত্যা আর ধ্বংস প্রতিরোধে আমাদেরকে ধর্মের অহিংস ও শান্তির অমিয় বাণী বিশ্ব জনতার কাছে তুলে ধরতে হবে।”

রাষ্ট্রপতি রামকৃষ্ণ মিশনে পৌঁছালে তাকে অভ্যর্থনা জানান মঠের অধ্যক্ষ স্বামী ধ্রুবেশানন্দ মহারাজ। স্থানীয় সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।


আরোও সংবাদ