রোহিঙ্গাদের নিরাপদে স্বদেশে ফিরতে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| বুধবার, ১৮ এপ্রিল , ২০১৮ সময় ১১:৩৯ অপরাহ্ণ

উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্যাম ব্রাউন
কায়সার হামিদ মানিক,উখিয়া।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্যাম ব্রাউন বলেছেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা নিঃসন্দেহে জাতিগত নিধনের শিকার। ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিসেবেও তারা নির্যাতিত। তাই রোহিঙ্গারা যাতে ন্যায় বিচার পায় ও নিরাপদে স্বদেশে ফিরতে পারে এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে।
বুধবার দুপুরে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন ‘ট্রানজিট ক্যাম্প’ পরিদর্শন এবং রোহিঙ্গাদের সাথে আলাপ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেন, রোহিঙ্গারা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় বোঝা। যুক্তরাষ্ট্রও চায়, রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমার ফেরত নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়াবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে পাশে আছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন কালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত কুতুপালং ট্রানজিট ক্যাম্পে আশ্রীত হাসিনা, জাফর হোসেনসহ বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা নারী পুরুষের সাথে একান্ত আলাপের উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা জাতিগত বৈষম্যের শিকার হয়েছেন এবং তারা সেখানে স্বাধীনভাবে ধর্মীয় কর্মকান্ড চালাতে বাধাগ্রস্থ হয়েছেন। এ ছাড়াও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী সেখানকার রাখাইন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে চলে আসতে বাধ্য হয়েছেন। এমনকি অসংখ্য যুবক, যুবতী, শিশু, বয়োবৃদ্ধ লোকজন হত্যার শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন কিশোরী ও যুবতীরা।
মার্কিন বিশেষ দূত স্যাম ব্রাউনব্যাক বিকেলে কুতুপালং মধুর ছড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং, মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসা শিক্ষক ধর্মীয় নেতাদের সাথে কথা বলেন।
এর আগে বেলা ১১ টার দিকে মার্কিন দূতদের দলটি বান্দরবনের নাইক্ষ্যংছড়ি কোনারপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেখতে যান। সেখানেও তারা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং খোঁজ-খবর নেন। এসময় তার সাথে ইউএনসিআর ও আইওএম সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বুধবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে স্যাম ব্রাউনবেকসহ মার্কিন প্রতিনিধি দলটি ঢাকা থেকে বিশেষ বিমানযোগে কক্সবাজার পৌঁছেন। বিকেলে ট্রানজিট ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে মার্কিন দলটি ঢাকার উদ্দেশ্য কক্সবাজার রওনা হন।
উল্লেখ্য গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে শুরু হওয়া মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানে সাড়ে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনলেও তা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার।