‘রুমে একটা লাশ আছে নিয়ে যা’

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ , ২০১৪ সময় ১১:৩৬ অপরাহ্ণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম (এস এম) হল ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি মেহেদি হাসান একই হলের ছাত্রলীগের আরেক নেতাকে কুপিয়ে জখম করার পর কর্মীদের উদ্দেশ্যে এই কথা বলেন। আহত মাহমুদুল সুজন হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সংগঠন স্লোগান ৭১ এর সাধারণ সম্পাদক। গুরুত্বর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর ৫ টায় এ ঘটনা ঘটে। রাত ৩টায় মদ্যপ অবস্থায় হলে প্রবেশ করে বহিস্কৃত সভাপতি মেহেদী-সুজনকে তার রুমে ডেকে পাঠান। সুজন ঘুমিয়ে থাকায় তাৎক্ষণিক রুমে আসতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর ভোর ৫টায় সুজনকে পুনরায় কল দিয়ে রুমে আসতে বলেন মেহেদী। সুজন হলের ২৫ নম্বর রুমে মেহেদীর সঙ্গে দেখা করতে যান। রুমে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে মেহেদী সুজনকে ধমক দিয়ে বলেন,‘৩ টায় রুমে ডাকলাম আসিস নি, বেয়াদব হয়ে গেছিস, মেরে লাশ বানিয়ে ফেলব।’ এ সময় সুজন কিছু বলতে চাইলে তাকে থামিয়ে দিয়ে হাতে থাকা লাঠি দিয়ে সুজনের মাথায় আঘাত করেন মেহেদী। এতে সুজনের মাথা ফেটে যায়। এরপর মেহেদী রুমের দেয়ালে আটকানো একটি বিশাল রামদা দিয়ে সুজনকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। মারাত্মক আহত অবস্থায় রুমের মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে তাকে নিয়ে যেতে হলের ১২ নম্বর রুমে এক ছাত্রলীগ নেতাকে কল দিয়ে মেহেদী বলেন, ‘রুমে একটা লাশ আছে নিয়ে যা।’ পরে ওই রুম থেকে নাসিম, তুহিন, আরিফসহ কয়েকজন গিয়ে তাকে উদ্ধার করে এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রনি তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান। এ ব্যাপারে সুজন বলেন, আমার সঙ্গে কর্মীদের ভালো সর্ম্পক থাকায় সভাপতিসহ অন্যরা ঈর্ষা বোধ করেন। যার কারনে আমাকে গেস্ট রুমে ডেকে হুমকিও দেয়া হয়। তিনি আরও বলেন, মেহেদী প্রতিদিনই মদ খেয়ে হলে ঢুকে মাতলামি করেন এবং বিভিন্ন সময় রুমের ভেতর থেকে পিস্তল হাতে নিয়ে ফাঁকা গুলি ছোড়েন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফ বলেন, মেহেদী ছাত্রলীগের বহিস্কৃত নেতা। তাই সংগঠন থেকে কোন ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে ব্যবস্থা নিবে আমরা তা মেনে নেবো। বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি মেহেদী হাসান মোল্লা বলেন, এবিষয়ে আমি কিছুই জানি না।


আরোও সংবাদ