রেমিট্যান্সে ধস

প্রকাশ:| বুধবার, ৪ জুন , ২০১৪ সময় ০৮:১০ অপরাহ্ণ

জনশক্তি রপ্তানি হ্রাস ও শ্রমিক ফেরত আসায় রেমিট্যান্স প্রবাহ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারা গত অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে শুরু করে চলতি অর্থবছর জুড়ে অব্যাহতভাবে কমছে। সর্বশেষ চলতি বছরের মে মাসে রেমিট্যান্স কমে ১২০ কোটি ডলারে ঠেকেছে, যা ১৩-১৪ অর্থবছরের ১১ মাসে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৭ কোটি ৫৫ লাখ ডলার কম। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মে মাসে ১২০ কোটি ২১ লাখ বা তার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা এপ্রিলে ছিল ১২৩ কোটি ডলার। সে হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে প্রায় ৩ কোটি ডলার। এর আগে মার্চে রেমিট্যান্স কিছুটা বাড়লেও এপ্রিলে তা আবার কমে যায়। মার্চে প্রবাসীরা মোট ১২৭ কোটি, ফেব্রুয়ারিতে ১১৭ কোটি ও জানুয়ারিতে ১২৬ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) ১,২৯২ কোটি ৭৪ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১,৩৪০ কোটি ২৯ লাখ ডলার। সে হিসাবে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স কমেছে ৪৭ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, গত কয়েক বছরে বেশ কিছু প্রবাসী দেশে চলে এসেছেন। এর একটা নেতিবাচক প্রভাব বর্তমানে দেখা যাচ্ছে। জানা গেছে, দীর্ঘদিন রেমিট্যান্সে উচ্চপ্রবাহ থাকলেও গত বছর নেতিবাচক ধারায় নেমে এসেছে। ২০১৩ সালে প্রবাসীরা ১,৩৮৪ কোটি ডলারের সমপরিমাণ মূল্যের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন, যা আগের বছর ছিল ১,৪১৮ কোটি ডলার। সে হিসাবে গত বছর রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে ৩৪ কোটি ডলার বা ২.৩৯%। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সমপ্রতি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে জনশক্তি রপ্তানি কমে যাওয়া, বেসরকারি পর্যায়ে জনশক্তি রপ্তানিতে নিরুৎসাহিত হওয়া, সর্বোপরি সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতায় রেমিট্যান্স প্রবাহ নেতিবাচক ধারায় রয়েছে। এ ছাড়া বেশ কিছুদিন ধরে ডলারের বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হওয়ায় প্রবাসীরা এখন আগের মতো অর্থ দেশে পাঠাতে আগ্রহী হচ্ছেন না।