রূপগঞ্জের মনির পানছড়িতে, অত:পর খাগড়াছড়িতে উদ্ধার

প্রকাশ:| রবিবার, ১০ জানুয়ারি , ২০১৬ সময় ০৯:১২ অপরাহ্ণ

মনির হোসেন
মো.তহিদুর রহমান রুবেল,পানছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি ঃ নারায়নগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন ইউনিয়নের কলাতলী গ্রামের মৃত আফর উদ্দিন মোল্লোর ছেলে,অপহৃত মনির হোসেনকে (৫২),খাগড়াছড়ি জেলা বাস কাউন্টার থেকে গতকাল রাত সাড়ে ৮টায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে পানছড়ি থানায় নিয়ে আসা হলে,বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ শেষে,আজ সকালে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের সাথে পাঠিয়ে দেয়া হয়। পানছড়ি থানা পুলিশের প্রায় ৩০ ঘন্টা শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের পর তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়,অপহৃত মনির পেশায় একজন মাছ ব্যবসায়ী। গত বৃহ¯পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নারায়নগঞ্জের গাউছিয়া এলাকা থেকে অজ্ঞান করে মনিরকে নিয়ে আসা হয় সীমান্তবর্তী পানছড়িতে। শুক্রবার দুপুরের পর থেকেই মনিরের ব্যবহৃত ০১৭১৪৯৯৫৩০৩ নম্বর থেকে তার পরিবারের কাছে মুক্তিপন হিসাবে দাবি করা হয় ৩ লক্ষ টাকা। বিকাশ এজেন্টের একটি নম্বরও দেয়া হয়। চলতে থাকে অপহরণকারীদের সাথে বিভিন্ন দফা-রফা। এরপর অপহৃত মনিরের পরিবারের পক্ষ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ১৪ হাজার ৭শত টাকা পাঠানোর পাশাপাশি বিষয়টি তারা রূপগঞ্জ থানাকে জানায় । রূপগঞ্জ থানা পুলিশ খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, অপহরণকারীদের দেয়া বিকাশ নম্বরটি পানছড়ি থানা এলাকার । তাৎক্ষনিকভাবে তারা বিষয়টি পানছড়ি থানাকে জানায়।
শুক্রবার থেকেই পানছড়ি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আ. জব্বার, এএসআই জহির, ডিএসবি রহিমসহ পুলিশের একটি চৌকস দল,উপজেলার বিভিন্ন বিকাশের দোকানে ওঁত পাতা শুরু করে। অবশেষে শাহিন নামের ১৫ বছর বয়সী এক যুবক,শুক্রবার সন্ধ্যায় এই টাকা নিতে আসে। কিন্তু বিকাশ কাউন্টারে ক্যাশ টাকা না থাকায় পরদিন সকালে আসতে বলে দোকানদার।
পরদিন শনিবার সকালেও টাকা নিতে না আসায়,সেই যুবককে,পুলিশ খোঁজাখুজি শুরু করে। এক পর্যায়ে তাকে ধরতে সক্ষম হয় । পরে বেরিয়ে আসে ঘটনার আদ্যপান্ত্য। এরই মাঝে পানছড়িতে এসে হাজির হয় রূপগঞ্জ থানার সাব ইন্সপেক্টর তসলিম ও এএসআই মো. জাহিদ।
ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত শাহিন জানায়, তাকে বিকাশে পাঠানো টাকা উত্তোলনের জন্য প্রেরণ করেছে তার ভগ্নিপতি,পানছড়ির কালানাল গ্রামের মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে মালু ওরফে ছোট মালু । জানা যায়, সে এলাকায় তক্ষক পাচারকারী হিসাবেও পরিচিত।
এদিকে পুলিশের তৎপরতা বুঝতে পেরে,অপহরণকারীচক্র একটু পরপরই মনিরকে নিয়ে স্থান বদল করতে থাকে। শনিবার বিকাল থেকে পানছড়ির ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দরা এ কাজে সহযোগিতার এগিয়ে আসেন।
অবশেষে পুলিশের সাড়াশি অভিযানে টিকতে না পেরে অপহরণকারীচক্রের মূল হোতা হিসাবে অভিযুক্ত মালু,শনিবার সন্ধ্যায় মোবাইলে যোগাযোগ করে জানায়, অপহৃত মনিরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে এবং ঢাকা যাওয়ার জন্য তাকে খাগড়াছড়িতে নিয়ে টিকেটও করে দেয়া হয়েছে।
এই খবরে রূপগঞ্জ থেকে আসা অপহৃতের ভাতিজা গোলজার হোসেনসহ কয়েকজন,পানছড়ি থেকে খাগড়াছড়ি বাস কাউন্টারে গিয়ে আহতাবস্থায় মনিরকে উদ্ধার করে এ্বং পানছড়ি নিয়ে আসে।
অপহৃত মনির,অপহরনের পাশাপাশি তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করে জানায়, শুক্রবার সকালে জ্ঞান ফেরার পর দেখতে পায় এক পাহাড়ী বাড়িতে তাকে আটকে রাখা হয়েছে। । মুখে গামছা দিয়ে শক্ত করে বেঁধে,কয়েক দফা নির্যাতনের পর রাত ১২টার দিকে নেয়া হয় এক বাঙ্গালী বাড়িতে। এটিকে মালুর বাড়ি বলেই সন্দেহ করে। পরে মালু তার মোবাইল দিয়ে মুক্তিপন আদায়ের জন্য তার পরিবারের সাথে যোগাযোগের চেষ্ঠা করতে থাকে,সফলও হয়।
এ ঘটনায় পুলিশের হাতে আটক শাহিন ও উদ্ধার হওয়া মনির হোসেনকে নিয়ে রবিবার সকালে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ পানছড়ি ত্যাগ করে।
সবার আন্তরিক প্রচেষ্ঠায় অপহৃত মনিরকে সফলভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে জানিয়ে,এই অভিযানের নেতৃত্ব প্রদানকারী পানছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আ. জব্বার বলেন, যে কোন অপরাধ কার্যক্রম দমনে পানছড়ি থানা পুলিশ সব সময় সচেষ্ঠ। পুলিশকে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য,সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের জনগনের প্রতি আহ্বŸান জানান তিনি ।


আরোও সংবাদ