রুমা সড়কে পাহাড় ধস: ছাত্রীর লাশ উদ্ধার

প্রকাশ:| রবিবার, ২৩ জুলাই , ২০১৭ সময় ০৭:৪৫ অপরাহ্ণ

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান ॥
টানা ভারী বর্ষণে বান্দরবানে আবারো পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। পাহাড় ধসে নিহত চিংমে হ্লা (১৮) নামে এক ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে আরো ৪ জন। এরা হলেন- রুমা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা অফিস সহকারী মুন্নি বড়–য়া, কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা গৌতম নন্দী, ডাক বিভাগের কর্মচারী মো: রবিউল, এবং ছাত্রী উমেচিং মারমা। নিখোঁজদের খোজে ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে সেনাবাহিনী, দমকল বাহিনী’র সদস্যরা। গতকাল রোববার সকালে এগারোটায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, গতশনিবার থেকে বান্দরবানে টানা ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। বৃষ্টিতে বান্দরবান থেকে রুমা উপজেলার উদ্দেশ্যে এবং রুমা থেকে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ২টি যাত্রীবাহি বাস পাহাড় ধসে বিধস্ত রুমা সড়কের দলিয়ান পাড়া এলাকায় পৌছায়। দু’পাশের যাত্রীরা বাস পরিবর্তনের জন্য ভাঙ্গা রাস্তা পায়ে হেটে পার হওয়ার সময় বৃষ্টিতে আবারো পাহাড় ধসে পড়ে। এসময় পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে দুটি বাসের বেশকয়েকজন যাত্রী। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, দমকল বাহিনী, প্রশাসন এবং স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেয়। উদ্ধারকর্মীরা পাহাড় ধসে নিহত এক কলেজ ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার নাম- চিংমে হ্লা (১৮)। এছাড়াও আহত অবস্থায় তিন’জনকে জীবিত উদ্ধার করে বান্দরবান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন-রুমা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: বেলাল হোসেন, শিক্ষক চিত্ত রঞ্জন তঞ্চঙ্গ্যা এবং স্থানীয় বাসিন্দার অংথোয়াই চিং। অপরদিকে পাহাড় ধসে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আরো ৪ জন যাত্রী। নিখোঁজরা হচ্ছেন- রুমা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা অফিস সহকারী মুন্নি বড়–য়া, কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা গৌতম নন্দী, ডাক বিভাগের কর্মচারী মো: রবিউল, এবং ছাত্রী উমেচিং মারমা। নিখোঁজদের খোজে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে সেনাবাহিনী, দমকল বাহিনী, প্রশাসন’সহ স্থানীয়রা। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সন্ধ্যা সাতটায়ও উদ্ধার তৎপরতা চলছে। ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি, বান্দরবান ৬৯ সেনা রিজিয়নের কমান্ডার ব্রীগেডিয়ার জেনারেল মো: যোবায়ের সালেহীন, জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক, জেলা পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়’সহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তরা।
বান্দরবানের মৃত্তিকা সংরক্ষণ কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, সকাল নয়টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় বান্দরবানে ৭৮ মি:মি: বৃষ্টিপাত হয়েছে। এখনো ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।
পরিবহন শ্রমিক স্বপন দাস বলেন, গতমাসের ১২ জুন অবিরাম বর্ষণে বান্দরবান-রুমা উপজেলা সড়কের দলিয়ান পাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সেনাবাহিনী কয়েকদফায় পাহাড়ের মাটি সরানোর চেষ্টা করলেও বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পারেনি। তবে সড়কের দু’পাশে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। বিধস্ত ভাঙ্গা সড়ক পায়ে হেটে যাত্রীরা গাড়ী পরিবর্তন চলাচল করে আসছিল। রোববার সকালেও যাত্রীরা পায়ে হেটে গাড়ী পরিবর্তন করতে যাবার সময় পাহাড় ধসে অনেক যাত্রী মাটি চাপা পড়েন। আহত অবস্থায় আমরা ৩ জন যাত্রীকে উদ্ধার করতে পেরেছি।
পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি বলেছেন, পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে কয়েকজন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী, দমকল বাহিনী’সহ স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে। ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসের শঙ্কা আরো বাড়ছে। বৃষ্টিতে চলাচলে স্থানীয়দের আরো বেশি সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন মন্ত্রী।
জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক বলেন, পাহাড় ধসের ঘটনাস্থল থেকে এক ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকর্মীরা। এখনো আরো ৪ জন নিখোঁজ রয়েছে। এছাড়াও আহত অবস্থায় রুমা উপজেলা শিক্ষা অফিসার’সহ ৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। সেনাবাহিনী, দমকল বাহিনী’সহ সরকারী-বেসরকারী সংস্থার লোকজনেরা উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে উদ্ধার তৎপরতা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। বান্দরবান-রুমা উপজেলা সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও বৃষ্টিতে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের বাজালিয়া পয়েন্টে বন্যার পানিতে প্রধান সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ঢাকা সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এদিকে বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে প্রাণহানি, ঘরবাড়ি ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা বাড়ছে। পাহাড় ধসের ঝুকিতে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।


আরোও সংবাদ