রুমা-থানছি সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট , ২০১৫ সময় ০৭:৩০ অপরাহ্ণ

বান্দরবান প্রতিনিধি,
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বান্দরবানের রুমা-থানছি উপজেলা অভ্যন্তরিন’সহ ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে সেনাবাহিনীর প্রকৌশল শাখা ১৯ইসিবি ট্যুরিষ্ট স্পট নীলগিরি-চিম্বুক সড়কের নয় মাইল নামকস্থানে ধসে যাওয়া সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রকৌশল বিভাগগুলো জানায়, অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে বান্দরবানের বান্দরবান-চট্টগ্রাম প্রধান সড়ক’সহ অভ্যন্তরিন সবগুলো রুটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাহাড় ভেঙ্গে সড়ক ধসে ঢেবে যাওয়ায়
বান্দরবানের অন্যতম ট্যুরিষ্ট স্পট নীলগিরি-চিম্বুক এবং রুমা-থানছি দুটি উপজেলা সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রুমা-থানছি সড়কে চৌদ্দদিন ধরে বন্ধ রয়েছে যানবাহন চলাচল। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন উপজেলা দুটিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সংকট দেখা দিয়েছে।
সেনাবাহিনীর প্রকৌশল শাখা ১৯ইসিবি উপ-অধিনায়ক মেজর সাদেক মাহমুদ জানান, বৃষ্টি ও পাহাড়ীঢলে সম্পূর্ণভাবে ধসে গেছে প্রায় ৩০০ মিটার সড়ক। সড়কটি সংস্কারের মাধ্যমে নতুন সড়ক তৈরির কাজ মঙ্গলবার থেকে আরম্ভ হয়েছে। বৃষ্টি না হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে সাময়িকভাবে হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য অস্থায়ী একটি ব্যবস্থা করা হবে। তবে সড়কটি সম্পূর্ন প্রস্তুত করতে কিছুদিন সময় লাগবে।
এদিকে কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ীঢলে বান্দরবান-কেরানীহাট চট্টগ্রাম প্রধান সড়কের কয়েকটি সংযোগ সেতু’সহ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঢেবে যাওয়া সেতুর ওপরে বেইলী ব্রীজ বসিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের বান্দরবান জেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী আজিজুল মোস্তফা জানান, বৃষ্টিতে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের সূয়ালক চেকপোষ্ট এলাকায় একটি কয়েকটি সেতু এবং কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রেইছা লম্বাঘোনা সড়ক’সহ প্রধান সড়কের অনেকস্থানে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা হলেও সড়ক সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এদিকে বৃষ্টি ও দু’দফায় বন্যায় বান্দরবান পৌর এলাকার সবগুলো রুটেই ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়কের মধ্যে ছোট-বড় গর্ত এবং খানা খন্দে সড়কগুলো যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দ্রুত সড়কগুলোর সংস্কারের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাররা। পৌর মেয়র মোহাম্মদ জাবেদ রেজা জানান, অবিরাম বৃষ্টি এবং বন্যায় পৌরশহরের সবগুলো রুটেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বরাদ্দ না থাকায় তাৎক্ষনিক সড়কগুলো সংস্কারের কাজও আরম্ভ করা যাচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো মেরামতের জন্য সরকারের কাছে সহযোগীতা চাওয়া হয়েছে। অতিঝুকিপূর্ণ সড়কগুলোতে দূর্ঘটনা এড়াতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
থানছি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন জানান, ট্যুরিষ্ট স্পট নীলগিরি-চিম্বুক সড়ক ছাড়াও
বান্দরবানের থানছি উপজেলার সড়কের জীবননগর, বলিপাড়া এবং থানছি-আলীকদম সড়কেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাহাড় ভেঙ্গে সড়ক ধসে যাওয়ায় অনেকস্থানে সড়কের চিহ্নও খোঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। জীবননগর এলাকায় সড়কে লম্বা ফাটল দেখা দিয়েছে। ফাটলে পানি ঢুবে যে কোনো সময় সড়কটিও ধসে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সড়কগুলো সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর’সহ সরকারের উর্ধ্বতন মহলে পত্র দেয়া হয়েছে


আরোও সংবাদ