শামীমকে রিমান্ডে আসামি নির্যাতনের অভিযোগ

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর , ২০১৫ সময় ১০:২৩ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ভারতীয় রুপি আনার ঘটনায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের হেফাজতে থাকা সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান ফ্ল্যাশ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান শামীমুর রহমান শামীমকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

পাঁচ দিনের রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনেই ‘গুরুতর অসুস্থ’ হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। তবে সিআইডি এ অভিযোগ নাকচ করে বলেছে, রিমান্ডের ভয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এ মামলার প্রধান আসামি শামীম।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সাড়ে তিনটার পর থেকে শামীম সিআইডির বিশেষ প্রহরায় হাসপাতালের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক জাহাঙ্গীর আলম।

তিনি বলেন, ‘বিকেলে সাড়ে তিনটার দিকে সিআইডির লোকজন শামীম নামে একজন রিমান্ডের আসামিকে হাসপাতালে আনেন। এরপর তাকে হাসপাতালের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পুরো বিষয়টিই সিআইডির তত্ত্বধায়নে হচ্ছে।’

এরআগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর মামলার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা বন্দর থানার এস আই জহিরুল ইসলামের আবেদনের প্রেক্ষিতে শামীমসহ গ্রেপ্তার পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম নওরীন আক্তার কাকন। পরবর্তীতে মামলাটি সিআইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে গত ১ অক্টোবর থেকে তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিট।

এরপর গত ৬ অক্টোবর থেকে গ্রেপ্তার পাঁচ আসামিকে নিজেদের হেফাজতে নেয় সিআইডির বিশেষ এই ইউনিটের সদস্যরা। তারা হলেন-চালান খালাসের দায়িত্বে থাকা সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান ফ্ল্যাশ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান শামীমুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসাদউল্লাহ, ব্যবসায়িক অংশীদার আহমদ উল্লাহ, কাস্টমস গোয়েন্দা বিভাগের টি বয় মোহাম্মদ ছাবের ও চালানের মালিক শাহেদুজ্জামানের ছোট ভাই তৌহিদুল আলম।

গত ৬ অক্টোবর কারাগার থেকে আসামিদের সিআইডির হেফাজতে নেয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম কেন্দ্রিয় কারাগারের ডেপুটি জেলার জাহেদুল আলম বলেন, ‘গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে বন্দরে রুপি জব্দের ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচজন হাজতি হিসেবে কারাগারে ছিলেন। এরমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ায় গত ৬ অক্টোবর সিআইডি তাদের নিজেদের হেফাজতে নেয়।’

এদিকে শামীমুর রহমান শামীমের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাসেল সরকার অভিযোগ করে বলেন, ‘গত ৬ অক্টোবর থেকে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য সিআইডি রিমান্ডের নামে শামীমের ওপর কঠোরভাবে শারীরিক নির্যাতন করে। তাকে শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি প্রচন্ডভাবে মানসিক নির্যাতনও করা হয়। যার কারণে তাকে আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে হাসপাতালে ভর্তি করাতে বাধ্য হয়েছে সিআইডি।’

শামীম ‘গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চমেক হাসপাতালের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ফ্লোরে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন এ আইনজীবী।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার ব্যারিস্টার মোশাররফ হোসেন বাংলামেইলকে বলেন, ‘মামলাটি ঢাকা থেকে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিট সরাসরি তদন্ত করছে। এ বিষয়ে কথা বলতে হলে তাদের সাথে কথা বলুন।’

এরপর সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ হেল বাকীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, ‘আসামি শামীমের বিষয়ে চিকিৎসকের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি। তিনি রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে জেরে ভয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। একারণে তার বুকে সামান্য ব্যাথা অনুভব হয়েছে মাত্র। সেজন্য আমরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি। এটা বড় ধরণের কোনো সমস্যা নয়।’

তাকে কোনো ধরণের মানসিক বা শারীরিক নির্যাতন করা হয়নি বলে দাবি করেন সিআইডির এ কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বন্দরে ২ কোটি ৭১ লাখ ৭৬ হাজার ৫০০ ভারতীয় মুদ্রার একটি চালান আটক করে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। চালানটি দুবাই থেকে শাহেদুজ্জামান নামের হাটহাজারীর এক ব্যক্তি গৃহস্থালির পণ্য আনার ঘোষণা দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠিয়েছিল। পরে চালানটির একটি কন্টেইনারে ওই ভারতীয় মুদ্রা পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় আটক করা হয় উপরোক্ত ৫ আসামিকে। পরে ২০শে সেপ্টেম্বর বন্দর থানায় একটি মামলা করা হয়। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বিধান কুমার সরকার বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় ছয়জনকে আসামি করা হয়। এদের মধ্যে চালানটির মালিক শাহেদুজ্জামান দুবাইয়ে থাকায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।


আরোও সংবাদ