রায়ের পর,পলিটিক্যাল রায় আক্ষায়িত করে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মিছিল

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারি , ২০১৪ সময় ০৫:০০ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় ১৪ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশকে রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট রায় বলে মন্তব্য করেছেন আসামিদের একজন আইনজীবী কামরুল ইসলাম।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘এ মামলাটি হাই প্রোফাইল মামলা। রায়টি হাই প্রোফাইল পলিটিক্যাল। কোনো চোরাচালান মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রেকর্ড এটি প্রথম। এ রায় আমরা মানি না। আমরা সংক্ষুব্ধ। আমরা উচ্চ আদালতে যাব।’

এদিকে রায় ঘোষণার পর বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আদালত প্রাঙ্গণে মিছিল বের করেন। তাঁরা এ রায়কে ‘ভুয়া’ ও ‘অবৈধ’ রায় বলে মন্তব্য করেন। তাঁরা সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।

আদালত প্রাঙ্গণে মিছিলের পাশাপাশি বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা সমাবেশ করেন। এ সময় বক্তব্য দেন চারদলীয় জোট সরকারের সাবেক মহানগর পিপি আবদুস সাত্তার, আইনজীবী এ কিউ এম নুরুল ইসলাম, আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. কামরুল ইসলাম প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সরকারের নির্দেশে এ রায় দেওয়া হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ করতে না পেরেও অবৈধভাবে তাঁদের ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ রায় তাঁরা মানেন না বলেও জানান।

চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান মামলায় সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবরসহ ১৪ জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া অস্ত্র আটক মামলার দুটি ধারায় এই ১৪ জনকে যাবজ্জীবন ও সাত বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রামের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক এস এম মজিবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। ঘটনার প্রায় পৌনে ১০ বছর পর চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

অস্ত্র চোরাচালান মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া অন্য আসামিরা হলেন ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়া, সাবেক শিল্পসচিব নুরুল আমিন, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আবদুর রহীম, পরিচালক উইং কমান্ডার (অব.) সাহাব উদ্দিন আহাম্মদ, উপপরিচালক মেজর (অব.) লিয়াকত হোসেন, এনএসআইয়ের মাঠ কর্মকর্তা আকবর হোসেন খান, সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহসিন উদ্দিন তালুকদার, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) কে এম এনামুল হক, হাফিজুর রহমান, দীন মোহাম্মদ ও হাজি আবদুস সোবহান। এদের মধ্যে পরেশ বড়ুয়া ও নুরুল আমিন পলাতক। হাজি আবদুস সোবহান জামিন ছিলেন। তবে আজ আদালতে হাজির ছিলেন। অস্ত্র চোরাচালান মামলায় ৩৮ জন খালাস পেয়েছেন। আসামি ছিলেন ৫২ জন।

অস্ত্র আইনের মামলায় একই ১৪ আসামিকে ১৯ (এ) ধারায় যাবজ্জীবন এবং ১৯ (সি) ধারায় ৭ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এই মামলায় খালাস পেয়েছেন ৩৬ জন। আসামি ছিলেন ৫০ জন।

২০০৪ সালের ১ এপ্রিল নগরের চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানার (সিইউএফএল) জেটিঘাটে খালাসের সময় দেশের ইতিহাসে অস্ত্রের সবচেয়ে বড় চালান আটক হয়।

অস্ত্র আটকের ঘটনায় ২০০৪ সালের ৩ এপ্রিল কর্ণফুলী থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫(বি) ধারায় একটি এবং ১৮৭৮ সালের ১৯(এ) ধারায় অস্ত্র আইনে অপর একটি মামলা করা হয়। দুটি মামলারই বাদী কর্ণফুলী থানার তত্কালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহাদুর রহমান।