রায়ের কপি পেলেই ট্রাইব্যুনাল কামারুজ্জামানের মৃত্যু পরোয়ানা জারি

প্রকাশ:| রবিবার, ৯ নভেম্বর , ২০১৪ সময় ০৬:১৯ অপরাহ্ণ

কামারুজ্জামাআপিল বিভাগ থেকে রায়ের কপি পেলেই ট্রাইব্যুনাল কামারুজ্জামানের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করবে বলে জানিয়েছেন এ্যার্টনি জেনারেল মাহবুবে আলম। তবে তা সংক্ষিপ্ত না পূর্ণাঙ্গ কপি ট্রাইব্যুনালে পাঠাবে- তা আপিল বিভাগের ওপরই নির্ভর করছে বলে তিনি জানান। রোববার নিজের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রয়েছে, নাকি রদবদল হয়েছে- সেটা আপিল আদালতের রায় পৌঁছালে ট্রাইব্যুনাল জানতে পারবে। এরপর ট্রাইব্যুনাল কামারুজ্জামানের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করবে। তিনি বলেন, আমি আগে বলেছি, একটা সংক্ষিপ্ত অর্ডারেই চলবে। এখন আপিল বিভাগ যদি মনে করেন, তারা শর্ট অর্ডার পাঠাবেন না, পূর্ণ আদেশই পাঠাবেন। তাহলে সেটা তাদের বিষয়। এর অগে গত ৩রা নভেম্বর আপিল বিভাগ জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানকে প্রদত্ত ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদ- রায় বহাল রাখে। এরপরে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছিলেন, দ- কার্যকরে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপির প্রয়োজন নেই। তার সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও। এমনকি তিনি মৃত্যুদ- কার্যকরে কারা কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেছেন চূড়ান্ত রায়ের কপি পাওয়ার পরে তারা রিভিউ আবেদন করবেন। এরপর কামারুজ্জামান সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি প্রেসিডেন্টের কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন কিনা। এরকম অস্পষ্ট পরিস্থিতিতে যে কোন সময় কামারুজ্জামানের দ- কার্যকর হয়ে যেতে পারে বলে গুঞ্জন তৈরি হয়।

যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করতে আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটি তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ আহ্বান জানিয়েছে। এতে বলা হয়, ১৯৭১-এর স্বাধীনতাযুদ্ধে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় অবিলম্বে স্থগিত করা উচিত। মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে তার আপিলের করার সুযোগ দেয়া উচিত। সরকার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষকে কামারুজ্জামানের মৃত্যুদ- কার্যকর করার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে এবং আপিলের রায়ের পর তাকে সেখানে স্থানান্তর করা হয়েছে এমন সংবাদে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। রায় কার্যকর আসন্ন বলেই এতে ইঙ্গিত মেলে। এখনও তার আইনজীবী পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত রায় হাতে পাননি যা তিরিশ দিনের মধ্যে রায় পর্যালোচনার করার পিটিশন দাখিল করতে প্রয়োজন এবং যে কোন মৃত্যুদ- মামলায় এটা সাধারণ প্রক্রিয়া। সরকারি কর্মকর্তারা এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন পূর্ণাঙ্গ রায় ইস্যু হওয়ার আগেই মৃত্যুদ- কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা মৃত্যুদ- মামলায় ওই নীতিমালার বিরুদ্ধে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস বলেন, যে কোন ক্ষেত্রে মৃত্যুদ-ের বিরুদ্ধে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। এটা অপরিবর্তনযোগ্য, অবমাননাকর এবং নির্মম শাস্তি। তিনি আরও বলেন, এটা বিশেষ করে সমস্যার কারণ যখন বিচারপ্রক্রিয়া সুষ্ঠু বিচারিক মানদ- অনুযায়ী হয়নি এবং যেখানে স্বতন্ত্র আদালতের মাধ্যমে মৃতুদ-াদেশের বিরুদ্ধে আপিলের অধিকারের অনুমোদন নেই। ‘প্রেসিডেন্সিয়াল পারডন’ (প্রেসিডেন্টের সাধারণ ক্ষমা) আপাতদৃষ্টিতে সম্ভব হলেও, এ ধরনের মামলায় এর সম্ভাবনা ক্ষীণ। ব্রাড অ্যাডামস বলেন, ১৯৭১-এ যে নির্মম অপরাধ সংঘটিত হয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বরাবরই তার ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা বারবার বলেছি যে, ভুক্তোভুগীদের জন্য সঠিক ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি রক্ষার স্বার্থে এসব বিচারপ্রক্রিয়াকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানদ- অনুসারে হতে হবে।


আরোও সংবাদ