রায়ের কপি কারাগারে

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর , ২০১৫ সময় ০৯:১০ অপরাহ্ণ

বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশের রিভিউ খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে কারাগারে পৌঁছেছে।

বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছায়। এরআগে সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে রায়ের কপি সুপ্রিম কোট থেকে ট্রাইব্যুনালে পৌঁছায়।

রাত ৮ টা ৩৫ মিনিটে ট্রাইব্যুনালের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আফতাবুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল মাইক্রোবাসে করে রায়ের কপি নিয়ে কারাগারের উদ্দেশে রওনা হন। রায়ের একটি কপি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হবে।

এরআগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ট্রাইব্যুনালের সামনে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের জানান, সাকা-মুজাহিদের রিভিউ খারিজের রায় কিছুক্ষণের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হবে। এরপর এই রায়ের কপি দুই আসামিকে পড়ে শোনাবে কারা কর্তৃপক্ষ। তারপর ফাঁসি কার্যকর কখন হবে, তা নির্ধারণ করবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।

এর আগে রিভিউ খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্বাক্ষর করেন বিচারপতিরা। স্বাক্ষরের পর রায়ের নথি প্রকাশ করা হয়।

রিভিউ খারিজের রায়ে স্বাক্ষরকারী চার বিচারপতি হলেন- প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এবং বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

এর আগে দুপুরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেমড সেলে থাকা সাকা চৌধুরী এবং মুজাহিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তাদের পরিবারের সদস্যরা।

বুধবার বেলা ১১ টা ৩৫ মিনিটে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ রিভিউ খারিজ করে দেন।

গত ১৪ অক্টোবর ফাঁসির দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে রিভিউ আবেদন করেন জামায়াতে ইসলামির সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী।

মোট ৩৮ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে ৩২টি যুক্তি দেখিয়ে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি ও মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস চেয়েছিলেন মুজাহিদ। রিভিউয়ের পেপারবুক দাখিল করা হয় তিন শতাধিক পৃষ্ঠার।

সাকা চৌধুরী তার ১০৮ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে ১০টি যুক্তি দেখিয়ে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি ও মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস চেয়েছিলেন। চলতি বছরের ১৬ জুন মুজাহিদের ফাঁসির রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

২০১৩ সালের ১৭ জুলাই মুজাহিদের বিরুদ্ধে আনীত রাষ্ট্রপক্ষের সাতটি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি প্রমাণিত হওয়ায় মুজাহিদকে ফাঁসির দণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ১১ আগস্ট আপিল করেন মুজাহিদ।

চলতি বছরের ২৯ জুলাই সাকা চৌধুরীর ফাঁসির দণ্ড বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর সাকা চৌধুরীকে ফাঁসির দণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।


আরোও সংবাদ