“রাষ্ট্রীয় বাহিনী মদদে হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে রুঁখে দাঁড়ান”

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| শনিবার, ১৮ আগস্ট , ২০১৮ সময় ০৫:৫০ অপরাহ্ণ

খাগড়াছড়িতে পিসিপি ও যুব ফোরামের ৩ নেতাসহ সাধারণ
জনগণ হত্যার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

“রাষ্ট্রীয় বাহিনী মদদে হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে রুঁখে দাঁড়ান” – এই ব্যানারে এবং খাগড়াছড়ি সদরে জেএসএস সংস্কার-নব্য মুখোশ সন্ত্রাসীদের কর্তৃক পিসিপি ও যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা তপন, এলটন ও পলাশ চাকমা সহ ৬ জনকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে আজ ১৮ আগস্ট (শনিবার) বিকাল ৩ ঘটিকায় চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম ও বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। মিছিলটি চট্টগ্রাম ডিসি হিল মোড় থেকে শুরু হয়ে নন্দনকানন ঘুরে প্রেস ক্লাব হয়ে চেরাগী পাহাড় মোড়ে এসে এক বিক্ষোভ সমাবেশে মিলিত হয়।
পিসিপি নেতা অর্পন চাকমার সঞ্চালনায় গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের মহানগর শাখার সভাপতি থুইক্যচিং মারমার সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পিসিপি চবি শাখার সদস্য রোনাল চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য রেশমী মারমা। এছাড়া সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল-চট্টগ্রাম পূর্ব ৩ এর সভাপতি এড.ভূলন লাল ভৌমিক।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, আজ ১৮ আগস্ট সকাল ৮ টায় খাগড়াছড়ির স্বনির্ভর বাজারে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচী অনুযায়ী স্থানীয় জনগণ এবং বিভিন্ন ছাত্র যুব সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জড়ো হতে থাকলে, প্রশাসনের নাকের ডগায় সংস্কারবাদী জেএসএস ও নব্য মুখোশ বাহিনীর সন্ত্রাসীরা এলোপাতারি স্বশস্ত্র হামলা চালায়। এতে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) খাগড়াছড়ি জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তপন চাকমা, সহ-সম্পাদক এলটন চাকমা ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা পলাশ চাকমা সহ ৬ জন নিহত এবং ৪ জন গুরুতর আহত হয়। ঘটনাস্থলের পঞ্চাশ গজ উত্তরে বিজিবি খাগড়াছড়ি জেলা সদর হেডকোয়ার্টার, ২০ গজ পূর্বে পুলিশ বক্স এবং স্বনির্ভর বাজার সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরা ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন দ্বারা নজরদারি থাকে। এরকম নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেদ করে সন্ত্রাসীরা কিভাবে হামলা করতে পারে? ঘটনা জানাজানি হলে মুনিগ্রাম, গাছবান, পেরাছড়া ও ধর্মপুর থেকে স্থানীয় জনগণ ঝাঁকে ঝাঁকে ডিসি অফিস অভিমুখে মিছিল সহকারে আসলে সেনাবাহিনী ব্রাশফায়ার করে এতে ১ জন ৭০ বছরের বৃদ্ধ নিহত ও ৪জন গুরুতর আহত হন।
বক্তারা আরো অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদ ও সহযোগিতা ছাড়া সন্ত্রাসীরা কোনভাবে এরূপ জঘন্য কাজ করার সাহস পেত না। সন্ত্রাসীরা আধা ঘন্টা হামলা চালিয়ে স্বশস্ত্র অবস্থায় বিজিবি জেলা হেডকোয়ার্টার এর সামনে দিয়ে উল্লাস করতে করতে হেটে যায়। এসময় পুলিশ ও বিজিবি ছিল নিরব দর্শক। তাহলে পুলিশের কাজ কী? হত্যাকান্ডের পর কেবল লাশ উদ্ধার করা কি পুলিশের কাজ?
ইতিহাসের বড় শিক্ষা হচ্ছে ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এদেশের জনগণ পাকিস্তানি শাসকদের পরাজিত করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল। হত্যা, গুম, নির্যাতন চালিয়েও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠি ও তাদের দোসরা এদেশের জনগণকে দমাতে পারেনি। বাংলাদেশে বর্তমান শাসকরাও পাহাড়িদের ন্যায্য আন্দোলনকে দমাতে পারবেনা। এক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধ থেকে এদেশের শাসকরা শিক্ষা নিতে পারেনি বলে বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।
অবিলম্বে খাগড়াছড়িতে প্রশাসনের নাকের ডগায় পিসিপি ও যুব ফোরামের তিন নেতাসহ ৭ জনের খুনের সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্য বক্তারা জোর দাবি জানান।