রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদা সুপ্রিমকোর্টের দেয়া রায় সম্পূর্ণ অনৈতিক-প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ:| বুধবার, ২৮ জানুয়ারি , ২০১৫ সময় ০৯:৪৮ অপরাহ্ণ

রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমের (ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স) বিষয়ে সুপ্রিমকোর্টের দেয়ার রায়কে সম্পূর্ণ অনৈতিক বলে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, এ ধরনের রায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অসঙ্গতি তৈরি করবে।

বুধবার সংসদ অধিবেশনে এক সংসদ সদস্যের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ‘আমি বলবো, এ ধরনের রায় সম্পূর্ণরূপে অনৈতিক।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জেলা আদালতের বিচারকদের পদমর্যাদা যদি সচিব পদমর্যাদার হয়, তাহলে উচ্চ আদালদের বিচারপতির মর্যাদা রাষ্ট্রপতির উপরে চলে যাবে। তাহলে প্রশাসনে সমন্বয়হীনতা তৈরি হবে। আদালত যদি নিজেকে নিজে লাভবান করে, তাহলে তা সমীচীন হবে না।’

উল্লেখ্য, গত ৬ জানুয়ারি রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম সংক্রান্ত রিটে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ এ রায় দেন। সংক্ষিপ্ত আদেশে আপিল বিভাগ বলেন, ‘আপিল ডিসপোজসড অব উইথ মোডিফিকেশন, অবজারভেশন অ্যান্ড ফাইন্ডিংস।’

রায়ের পর বিচারকদের পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান জানান, আদালতের মৌখিক রায়ের সারমর্ম হচ্ছে, এখন থেকে প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমের তিন নম্বর অবস্থানে স্পিকারের সঙ্গে থাকবেন।

জানা গেছে, ১৯৭৫ সালের ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে প্রধান বিচারপতির পদমর্যাদাক্রম স্পিকারের সঙ্গে তিন নম্বর ক্রমিকেই ছিল। কিন্তু ১৯৮৬ সালের ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে সেটা পরিবর্তন করে প্রধান বিচারপতিকে চার নম্বর ক্রমিকে রাখা হয়।

হাইকোর্ট বর্তমান ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স বাতিল করে ৬০ দিনের মধ্যে নতুন ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আপিল দায়েরের পর হাইকোর্টের রায়টি স্থগিত করা হয়।

ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের বৈধতার প্রশ্ন তুলে বিচারকদের সংগঠন বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের তৎকালীন মহাসচিব বিচারক মো. আতাউর রহমান হাইকোর্টে রিট করেন। এ রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০০৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট জেলা জজদের মর্যাদা সচিবদের নিচে দেখানো কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তার কারণ জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। এ রুলের দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট ১৯৮৬ সালের ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেন।

পাশাপাশি বিচারকদের পদমর্যাদাক্রম ঠিক করে নতুনভাবে ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স তৈরি করতে বলেন। ওই রায়ে আট দফা নির্দেশনা দেয়া হয়। এসব নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে- সব সাংবিধানিক পদ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রথমে রাখতে হবে। তারপর যাবে সংবিধানস্বীকৃত পদগুলো। যেমন: জেলা জজ, তিন বাহিনীর প্রধানরা (জেনারেল)। সংবিধানে জেলা জজ বলতে যেহেতু অতিরিক্ত জেলা জজও বোঝায় তাই অতিরিক্ত জেলা জজ, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের জেলা জজদের পরপরই রাখতে হবে। এরপর রাখতে হবে প্রজাতন্ত্রের সচিবদের।

এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ৬ জানুয়ারি রায় হয়। রায়ে আপিলটি খারিজও করা হয়নি আবার মঞ্জুরও করা হয়নি। একটি পর্যবেক্ষণ দিয়ে নিষ্পত্তি করে রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। তা হলো-

প্রধান বিচারপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার একই অবস্থানে থাকবেন। এতদিন প্রধান বিচারপতি স্পিকারের পরের অবস্থানে ছিলেন।

আপিল বিভাগের বিচারপতিগণ মন্ত্রীদের পদমর্যাদার হবেন। হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদার হবেন। অ্যাটর্নি জেনারেল সচিবদের উপরে থাকবেন।

সংসদ সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান ও মুখ্য সচিবরা মন্ত্রিপরিষদ সচিবের উপরে থাকবেন।

অতিরিক্ত এ্যাটর্নি জেনারেল সচিবের পদমর্যাদার হবেন। একই সঙ্গে জুডিশিয়াল সার্ভিসের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা হিসেবে জেলা ও দায়রা জজরা সচিবের পদমর্যাদার হবেন।