রাশেদ রউফ

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১ জানুয়ারি , ২০১৬ সময় ০৯:৫৮ অপরাহ্ণ

শুভ জন্মদিন

রাশেদ রউফ

রাশেদ রউফ১লা জানুয়ারী ২০১৬ কবি-সাংবাদিক রাশেদ রউফের ৫২তম জন্মদিন।

 
১ জানুয়ারি নববর্ষের পাশাপাশি আমার অনুজপ্রতিম এক শিশু সাহিত্যিকের জন্মদিন। এই লেখকের বেড়ে ওঠা ও অগ্রযাত্রার সাথে আমার পরিচয় শুরু থেকে। মফস্বল থেকে চট্টগ্রামে আসা তরুণের ছড়া চর্চার পাশাপাশি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দানের ইচ্ছে আমাকে তার প্রতি কৌতুহলী করে তোলে। তখনো কোন পেশা বা চাকরি শুরু করেনি। নানা ভাবে জীবন শুরুর সুযোগ থাকার পর ও তখনকার অনিশ্চিত পেশা সাংবাদিকতা কেই বেছে নেয়। চট্টগ্রামের  সাংবাদিকতা জগতে তখন একদিকে বয়সী মানুষদের ভীড় অন্যদিকে পরিবর্তনের প্রতি অনীহা। তার মত তরুণদের প্রয়োজন যখন তুঙ্গে তখনই তার আবির্ভাব ঘটে। জনপ্রিয় প্রাচীন দৈনিক আজাদীর বয়সী মানুষদের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকা এই তরুণ ধীরে ধীরে নিজের অবস্হান শক্ত করে কখন  যে  আমাদের ভরসাস্হল হয়ে উঠল তা সে নিজেও বুঝতে পারেনি।

যা হয়  সমাজের মত আমাদের সংস্কৃতি অঙ্গন ও বহুধা বিভক্ত। আমরা যারা ছড়া লিখি কবিতা লিখি গান গাই বা আবৃত্তি করি আমাদের ভেতরের ভাঙ্গনও ব্যাপক।  বরং সাধারণ মানুষের চেয়ে বিদ্যা বুদ্ধি  আর মেধায় এগিয়ে থাকার কারণে আমাদের বিরোধ অন্তহীন এবং কৌশলের মারপ্যাঁচে ভয়ঙ্কর। তখনকার এই তরুণ ও আমাদের এই বিরোধিতার বাইরে থাকতে পারেনি। শুরু থেকে তার প্রতি শর্তহীন ভালোবাসা আর অনুরাগ থাকার পর ও আমাদের সম্পর্ক পড়েছিল সংকটের গ্যাড়াঁকলে। তরুণের  না ছিল কোন পছন্দ না নিজের অবস্হানে দৃঢ থাকার কোনো সুযোগ। তারপরও  ছড়া উৎসবকে ঘিরে আমাদের সম্পর্কের টানাপড়েন সামাল দেয়ার ভেতর এই তরুণের যে দূরদর্শিতা সেটাই শেষ পর্যন্ত টিকে রইল। দূরে হটে গেল ষড়যন্ত্র আর উস্কানিদাতার দল।

জীবনের একপ্রান্তে আমি চলে আসলাম বিদেশে। অভিবাসী  হয়ে প্রশান্তপাড়ের এই দেশে থিতু হবার পর আমার লেখালেখির এক অনিবার্য বাহন হয়ে রইলো এই তরুণ। দেশে গেলে তার আন্তরিকতা আর উৎসাহে ছড়া উৎসব উদ্বোধনের মত জটিল কাজ ও করতে হয়েছে। অনুষ্ঠান আড্ডা আর নানা জাতীয় আয়োজনে সতীর্থ অগ্রজ অনুজ ও দেশ বরেন্যদের একমঞ্চে হাজির করতে জুড়ি নেই তার। আমি এখন এ কথা বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি তাকে ছাড়া চট্টগ্রামের সাহিত্যাঙ্গন অচল। দেশের বুদ্ধিজীবীদের সম্মান জানিয়ে সচল রাখার কাজ করে চলা তাকে এখন আর কেউ ঠেকাতে পারবে না। পারবে না জেনেই এক শ্রেণির উন্নাসিকরা তাকে হয় এড়িয়ে চলে নতুবা তথাকথিত মানদণ্ডের প্রশ্নে নিজেদের চেহারা আড়াল করে চলে।

কিন্তু তার জ্যোতি বাড়ছেই, বাংলাদেশের সংবাদপত্র জগতে সাংবাদিকতার নেতৃত্বে শিশু সাহিত্যে সম্পাদনায় তার কলম ও ভূমিকা এখন সবার নজর কাড়ছে। মেঘে মেঘে বেলা বাড়ে সময় বয়ে যায়। সেদিনের সে তরুণ ও আ্জ প্রৌঢ়ত্বের দ্বারপ্রান্তে। আমি বিশ্বাস করতে পারছি না রাশেদ রউফ দাঁড়িয়ে  আছে পঞ্চাশে। সুগৃহী পুত্র কন্যা গুনবতী পত্নী শিমুকে নিয়ে সুখের সংসারে অতীতের বেদনা আজ ছায়া মাত্র। শিমুর মত সুকন্যা এমন বাঙালি নারী আজ সত্যি বিরল। দূর দেশ থেকে নানা কারণে ঈর্ষা করা রাশেদের এই জন্মদিনে আমি তার শতায়ূ কামনা করি। চট্টগ্রামের গৌরবকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি নিজের সৃষ্টির আলোয় দেশ আলোকিত করে চলা রাশেদের জয়ে আমাদের জয়। সে বারবার সেটাই প্রমাণ করে চলেছে। আমরাও যেন তাকে সে ভাবে ভালোবাসি। – See more at: http://www.dhakatimes24.com/2013/12/31/10398/%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%A6–%E0%A6%B0%E0%A6%89%E0%A6%AB-:-%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%87-%E0%A6%A6%E0%A7%82%E0%A6%B0%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BE#sthash.otd36hyF.dpuf

এই সময় এবং সংকটের অন্তর্ভেদী বিশ্লেষক, স্বাধীনচেতা যিনি একলা পর্বতের মতো উদ্ধত, বিনয়ী এবং সৎ চরিত্রের অধিকারী। সাহস, সততা ও শিল্পের ত্রিবেণী সঙ্গমে অভিøাত, লেখক সৃষ্ঠির কারিগর, মানবতাবাদী লেখক, সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক কবি রাশেদ রউফ। যিনি নির্ভয়ে কবিতার মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে অবিরল স্বপ্নের রঙ ছড়িয়ে দিচেছন। সাংবাদিকতা, সম্পাদনা, লেখালেখি ও সংগঠন —– প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি সততা, পরিশ্রম আর নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সহিত কাজ করে যাচ্ছেন। শৈলকিরিটিনি গিরি মেঘলা, সাগর কুন্তলা, সুজলা, সুফলা, শস্য শ্যামলা বীর প্রসবিনী চট্টগ্রাম। এরই মাঝখানে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী পটিয়া থানার ছনহরা গ্রাম। এ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আমাদের সবার প্রিয় গুণী ব্যক্তিত্ব বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, ছড়াকার রাশেদ রউফ। তাঁর জন্ম ১লা জানুয়ারী ১৯৬৪ সাল। যার সোনালী শৈশব আর কৈশোর কেটেছে গ্রামেরই মেঠো পথে, নদীর ধারে বসন্ত বাতাসে হেসে খেলে। তিনি পটিয়া সরকারী কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাশ করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিত বিষয়ে অনার্স এবং ১৯৮৭ সালে মাষ্টার্স সম্পন্ন করেন। পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন সাংবাদিকতাকে। তাঁর প্রিয় শিক্ষক আশা কিরণ চৌধুরীর সøেহ প্রেরণা ও উৎসাহেই ষ্কুল জীবন থেকেই লেখালেখিতে হাতেখড়ি। পত্রিকায় প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ১৯৮০ সালে যখন তিনি পটিয়া কলেজের ছাত্র।
লেখালেখির পাশাপাশি তিনি অনেক সংগঠনের সহিত জড়িত থেকে সংগঠকের ভূমিকায় অবতীর্ণ। সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক ও বাংলাদেশ শিশু সাহিত্য একাডেমির পরিচালক শিশু ও শিশু সাহিত্য বিষয়ক পত্রিকা ’দূরন্ত’ সম্পাদনা করছেন বিশ বছর যাবত। বাংলাদেশের জাতীয় ছড়া উৎসব (১৯৮৯, ১৯৯৮, ১৯৯৯), প্রথম কিশোর কবিতা সম্মেলন (১৯৮৯) ও প্রথম শিশু সাহিত্য উৎসব (২০০৭) এর অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন কবি রাশেদ রউফ। তাঁর সম্পাদিত আরেকটি উল্লেখযোগ্য লিটলম্যাগ ’শিশুসাহিত্য’। তিনি চট্টগ্রামের প্রাচীন পত্রিকা দৈনিক আজাদীতে সহ সম্পাদক হিসাবে কর্মরত আছেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি। এই পর্যন্ত কবি রাশেদ রউফের ৩২টি বই প্রকাশ পেয়েছে।
সম্মাননা ঃ সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি লাভ করেছেন ’ছোটদের কাগজ শিশুসাহিত্য পুরষ্কার’, ’পালক এ্যাওয়ার্ড’, ’কিডস্ শিশুসাহিত্য পদক’, ’অর্চি শিশুসাহিত্য পুরষ্কার’, ’বাংলা সাহিত্য পদক’, ’চন্দ্রাবতী একাডেমী সম্মাননা’, ’বোধন আবৃত্তি ষ্কুল সম্মাননা’, ’বাপী শাহরিয়ার স্মৃতি পুরষ্কার’ বাংলার মাটি বাংলার জল পদক, এম নূরুল কাদের শিশু সাহিত্য পুরষ্কার ইত্যাদি।
প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ঃ তোমার জন্য সকাল আমার তোমার জন্য রাত (১৯৯৭)
প্রবন্ধগ্রন্থ ঃ ছন্দ পরিচয় (১৯৯৬), ছড়া জাদুকর সুকুমার বড়–য়া (১৯৯৯), ছড়াশিল্পী লুৎফর রহমান রিটন (২০০০), বাংলাদেশের ছড়া ঃ রূপ ও রূপকার (২০০৭)
কিশোর গল্পগ্রন্থ ঃ কাকবন্ধু ও ভূতের গল্প (২০০৬), ছড়াগ্রন্থ ঃ সমকালীন ছড়া (১৯৯৭)
কিশোর কাব্য গ্রন্থ ঃ আকাশের সীমানায় সূর্যের ঠিকানায়, আগল ভাঙা পাগল হাওয়া, বিকেল মানে ছুটি, ধানের গানে প্রাণের বাঁশি, যাওয়ার পথে হাওয়ার রেলে, স্বাধীনতার প্রিয় কবিতা, ছটির মজা কেমন মজা, আয়রে খোকন ঘরে আয় এবং নির্বাচিত কিশোর কবিতা।
সম্পাদিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে অথৈ, দূরন্ত, চাঁদের কপালে চাঁদ, মুক্তিযুদ্ধের ছড়া ও কবিতা, বাংলাদেশের ছড়া, লেখক কোষ ঃ চট্টগ্রাম, শিল্পী কোষ ঃ চট্টগ্রাম, ড.এম আর আমিন স্মারকগ্রন্থ।
কালের আবর্তনে পুরনো গত হয়ে সমুখে এসে দাড়ায় নতুনের হাতছানি। তারই আবর্তনে এক গিয়ে এক আসে। এমনি করে প্রতিবছর ১লা জানুয়ারী কবির জন্মদিন নতুন করে চলে আসে। রাত যত গভীর হয়, নতুন সূর্য, নতুন সম্ভাবনা, নতুন একটি দিন তত সমীপে উপস্থিত হয়। গাছপালা থেকে ঝরে পড়ছে পুরনো মলিন পাতা নতুন কিশলয়কে জায়গা করে দেবে বলে। এটাই প্রকৃতির অমোঘ নিয়ম। সেই চির সত্যের উপর ভর করে কবি রাশেদ রউফের জীবন থেকে ঝরে পড়লো ৫১টি বছর। শুভ হোক ৫২তম জন্মদিন।
জন্ম তব সার্থক হোক, মুক্ত হোক মোহ আবরণ
সৌরভরাশি ছড়িয়ে পড়–ক দেশে দেশান্তর
এই ক্ষুদ্র পরিসরে তব গুণগান
গাহিতেছি আজি শুভক্ষণে।
জন্মদিনে কবির প্রতি রইল অনেক অনেক শুভেচ্ছা। শুভ হোক সকলি। নীরোগ এবং দীর্ঘায়ু জীবন লাভ করে আমাদের মাঝে কবি বেঁচে থাকুক অনন্তকাল।

জন্মদিনে কবি রাশেদ রউফকে অনেক অনেক অভিনন্দন ও ভালোবাসা-নিউজচিটাগাং ।

ঘোষণা: দেশের বিশিষ্টজন, বুদ্ধিজীবি/বরেণ্য সাংবাদিকদের পাশাপাশি চট্টগ্রামের সাংবাদিক ও সংবাদ মাধ্যমে কর্মরতদের জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁদের সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরার সিন্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রামের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজচিটাগাং২৪.কম। এ প্রেক্ষিতে আমরা ‘জন্মদিন’ নামের নতুন একটি বিভাগ চালু করেছি। এই বিভাগে আপনিও লেখা-তথ্য দিয়ে আমাদের সহায়তা করতে পারেন। লেখা ও তথ্য পাঠানোর ঠিকানা: infocn24@gmail.com


আরোও সংবাদ