রাশিয়া-ন্যাটো উত্তেজনা তুঙ্গে

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর , ২০১৫ সময় ১১:৩৭ অপরাহ্ণ

মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার অবস্থান সুসংহত করা, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে এবং জঙ্গি সংগঠন আইএস ও অন্যান্য জঙ্গি দলগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার অব্যাহত বিমান হামলার মুখে উত্তর আটলান্টিক দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটো এবং রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌছেছে।

এরই মধ্যে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ন্যাটো সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠককে সামনে রেখে সংস্থাটির সেক্রেটারি জেনারেল জেনস স্টোলটেনবার্গ তার তাদের মিত্র দেশগুলোর রক্ষার ব্যাপারে তাদের প্রতিজ্ঞার কথা জানিয়েছেন। ন্যাটোর সদস্য তুরস্ক সম্প্রতি তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে।

তুরস্কের প্রতি ন্যাটোর সংহতি প্রকাশের পাশাপাশি ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের ঘটনায় বাল্টিক দেশগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশের বিষয়টিও তুলে আনা হবে এই বৈঠকে এমনটি প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

জেনস বলেন, রাশিয়ার হামলার জবাবে এরই মধ্যে প্রয়োজনে তুরস্কসহ এর দক্ষিণে (সিরিয়া) সেনাবাহিনী মোতায়েনে প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আমাদের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। সিরিয়ায় রাশিয়ার নীতিকে ভুল অ্যাখ্যা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব এ্যাশ কার্টার।

বৈঠকে বাল্টিক দেশগুলোতে (এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া) দীর্ঘমেয়াদে সেনাবাহিনী মোতায়েনে ব্রিটেনের প্রস্তুতির বিষয়ে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সচিব মিখায়েল ফেলোন ঘোষণা করতে পারেন।

রাশিয়ার ক্রুজ মিসাইলের ব্যবহার এবং বিমান হামলায় নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করে আসন্ন বৈঠকে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রিরা সিরিয়ায় রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক অভিযান মূল্যায়ন করবে বলে জানিয়েছেন জেনস।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে সমর্থন দেয়া বন্ধ করতে মস্কোর প্রতি দাবি জানিয়েছে জেনস। তবে প্রধানত আসাদ বিরোধীদের হামলা করার পশ্চিমাদাবি প্রত্যাখান করে রাশিয়ার পক্ষ থেকে শুরু থেকেই বলা হচ্ছে তাদের হামলার লক্ষ্য হলো ইসলামিক স্টেট (আইএস) এবং অন্যান্য জঙ্গি দল।

যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোট কয়েক মাস ধরে সিরিয়া এবং ইরাকে আইএস বিরোধী বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। কিন্তু ২০১১ সাল থেকে আসাদকে উৎখাতে যুদ্ধরত বিদ্রোহী গ্রুপগুলোকে সমর্থন দিয়ে আসছে পশ্চিমা দেশগুলো।

বিবিসি’র মস্কো প্রতিনিধি সারাহ রেইনসফোর্ড এর মতে, মস্কো প্রমাণ করতে চায় যে সিরিয়ায় পশ্চিমাদের নীতি ব্যর্থ হয়েছে এবং অন্যান্য গ্রুপ সহ প্রাথমিক ভাবে আসাদকে সমর্থন করা প্রয়োজন। এ অঞ্চলে আমেরিকাকে পেছনে ফেলতে চায় তারা। বুধবারের ক্রুজ মিসাইল হামলা বিশ্বের সামনে পুতিনের শক্তি প্রদর্শনেরও একটি পদ্ধতি বলে মত দেন তিনি।