রায়ের খসড়া কপির কিছু অংশ ফাঁস হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন ট্রাইব্যুনাল

প্রকাশ:| বুধবার, ২ অক্টোবর , ২০১৩ সময় ০৬:৫১ অপরাহ্ণ

ট্রাইব্যুনালমানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায়ের খসড়া কপির কিছু অংশ কোনো-না-কোনোভাবে ফাঁস হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার বেলা দেড়টার দিকে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার এ কে এক এম নাসিরউদ্দিন মাহমুদ এ কথা জানান।

এ বিষয়ে রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে নাসিরউদ্দিন মাহমুদ জানান, চূড়ান্ত রায় প্রকাশের আগে সেটা ট্রাইব্যুনালের কম্পিউটারে খসড়া আকারে প্রস্তুত করা হয়। চূড়ান্ত রায়ের সঙ্গে কথিত ফাঁস হওয়া রায়ের অনেক জায়গাতেই মিল নেই। যেমন, মূল রায়ে অনুচ্ছেদ নম্বর থাকে। কিন্তু কথিত ফাঁস হওয়া রায়ে অনুচ্ছেদ নম্বর নেই। এ বিষয়ে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। যাঁরা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাংসদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে একাত্তর সালে গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করার দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল মঙ্গলবার ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।

চূড়ান্ত আদেশে ট্রাইব্যুনাল বলেন, মানবসভ্যতার সম্মিলিত বিবেককে কাঁপিয়ে দেওয়ার মতো ঘৃণ্যতম অপরাধ করেছেন আসামি। এ জন্য তাঁকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে হবে। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, আদালতে তাঁর আচরণ ভালো ব্যবহারের পরিচয় বহন করে না।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবার মঙ্গলবার অভিযোগ করেন, রায়ের আগেই রায়ের কপি ইন্টারনেটে পাওয়া গেছে। সামাজিক প্রচারমাধ্যম ফেসবুক, ব্লগ এবং কয়েকটি অনলাইন পত্রিকায় এটি প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও আইনসচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক গতকাল দাবি করেন, মন্ত্রণালয় থেকে রায় ফাঁস হওয়ার কোনো সুযোগ নেই, ফাঁস হওয়ার প্রশ্নই আসে না। তার পরও মন্ত্রণালয় বিষয়টি অনুসন্ধান করতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) নির্দেশ দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার আইনসচিব বলেছেন, ‘প্রথমত, মামলার রায় হয় সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে। মন্ত্রণালয় থেকে রায় লেখা হয় না। কাজেই এখানে রায় আসার কোনো সুযোগ নেই। ইন্টারনেটে যেটা দেখা যাচ্ছে, সেটি বেলজিয়ামভিত্তিক একটি ব্লগ প্রকাশ করেছে।’

অনলাইন সংবাদে বলা হয়েছে, আইন মন্ত্রণালয়ের ষষ্ঠতলার একটি কম্পিউটারের ডি-ড্রাইভে আলমের ফোল্ডার থেকে রায়ের কপিটি পাওয়া গেছে। আইনসচিব বলেছেন, এই নামে কার্যালয়ে কোনো কম্পিউটার অপারেটর বা কর্মচারী নেই।

বেলজিয়ামভিত্তিক ট্রাইব্যুনাল-লিকস নামের ওয়েবসাইটে যে কথিত রায়ের কপি দেওয়া হয়েছে, সেটি ১৬৫ পৃষ্ঠার। আর মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়টি ১৭২ পৃষ্ঠার।

দুটো রায় মিলিয়ে দেখা গেছে, ওয়েবসাইটে পাওয়া রায়ে দোষী সাব্যস্তকরণ ও সাজার বিষয়ে কোনো কথাই নেই। কিন্তু মূল রায়ে অভিযোগ ধরে ধরে প্রমাণ, দোষী সাব্যস্তকরণ ও সাজার উল্লেখ রয়েছে।

মূল রায়ের প্রথম অংশে রয়েছে বিচারকের নাম, প্রসিকিউটরদের নাম, আসামিপক্ষের আইনজীবীদের নাম, ভূমিকা, কার্যবিবরণী, ঐতিহাসিক পটভূমি, ১৯৭৩ সালের ট্রাইব্যুনাল আইনের নানা বিষয়ের সংজ্ঞা, বিভিন্ন বিদেশি আইনের প্রসঙ্গ, ত্রিপক্ষীয় চুক্তি এবং ১৯৫ জন পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীর ক্ষমা, যে কারণে এই বিচার হতে দেরি ইত্যাদি। ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কথিত রায়ে এসব থাকলেও হুবহু মিল নেই, অনুচ্ছেদগুলো এলোমেলো।

সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে মোট ২৩টি অভিযোগ আনা হয়েছিল। নয়টি প্রমাণিত হয়েছে। আটটি থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন। ছয়টিতে রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষী হাজির করেনি। ফাঁস হওয়া রায়ের সংবাদে নয়টি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা রয়েছে। মূল রায়ে আদালতে সাকার ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের কথা উঠে এসেছে। ফাঁস হওয়া রায়ে আংশিকভাবে এ বিষয়টিও এসেছে


আরোও সংবাদ