রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র: প্রভাব নিয়ে সমীক্ষা

প্রকাশ:| রবিবার, ৩ মে , ২০১৫ সময় ১১:৪৩ অপরাহ্ণ

সুন্দরবনের পাশে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে পরিবেশের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়বে সেটি নিয়ে একটি স্বতন্ত্র এবং বিজ্ঞানভিত্তিক সমীক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে গণশুনানির আয়োজন করাসহ বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরেছেন তারা।
রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র
রোববার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘বাংলাদেশে জ্বালানী কয়লা: পানি ও জলবায়ুর ওপর এর প্রভাব’ শীর্ষক দুইদিনের সম্মেলনে উদ্যোক্তাদের তরফ থেকে এসব বিষয় উঠে এসেছে।

সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি, ওয়াটার কিপারস বাংলাদেশ ও ওয়াটার কিপারস অ্যালায়েন্সের যৌথ উদ্যেগে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দুইদিনে দেশ ও দেশের বাইরের বিজ্ঞানী, গবেষক, পরিবেশবাদী, অর্থনীতিবিদসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অন্তত ৫০ জন এতে অংশ নেন। সম্মেলন শেষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ওয়াটার কিপার বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল।

আয়োজকরা বলেন, সুন্দরবনের পাশে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সরকার ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে। এই সম্মেলন থেকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে এ কেন্দ্রে বিনিয়োগের আগে নিরপেক্ষভাবে সুন্দরবনের ওপর কেন্দ্রের প্রভাব কী হতে পারে তা বিবেচনায় রেখে বিনিয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি।

তারা বলেন, ভারতে এ কেন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এছাড়া সারা পৃথিবীতে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর সঙ্গে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে সুন্দরবনের যে ক্ষতি হবে তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, যাতে বিশ্বব্যাপী এ বন রক্ষায় আন্দোলন গড়ে ওঠে।

ওয়াটার কিপার অ্যালায়েন্সের কোঅর্ডিনেটর ডোনা লিসেনবে বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এ সংগঠনটি ২৯০টি দেশে কাজ করে থাকে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট। ইতোমধ্যে আমরা জেনেছি এ কেন্দ্র নির্মাণ হলে সুন্দরবনের প্রভূত ক্ষতি হবে। আন্তর্জাতিক অর্থদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমি এ কেন্দ্রে বিনিয়োগের আগে ভেবে দেখার অনুরোধ করছি।’

সম্মেলনে আলোচনা করেন- তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সার্ক ওয়াটার ফোরামের উপদেষ্টা অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সভাপিত আবদুল্লাহ আবু সাঈদ, আইনুন নিশাত, ওয়াটার এইডের বাংলাদেশ প্রধান ড. খায়রুল ইসলাম, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আব্দুল মতিন, আইইউসিএনের বাংলাদেশ প্রধান ড. নিয়াজ আহমেদ খান, ডোনা নিজেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উইনকনসিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ড. ফরিদা খান, অস্ট্রেলিয়ার সান রাইজ প্রজেক্টের জ্যামি হ্যানসন, বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী, ওয়াটার কিপার বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল প্রমুখ।