রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সংলাপ হবে আবুল মাল আবদুল মুহিত

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর , ২০১৩ সময় ০৪:০৪ অপরাহ্ণ

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতঅর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সংলাপ হবে এবং যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস মিলনায়তনে ‘রাজস্ব আদায় বিষয়ে দিক নির্দেশনা’ শীর্ষক সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের বছরে রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকবে। এটা মাথায় রেখেই প্রবৃদ্ধি কমিয়ে ধরা হয়েছে। আশা করছি অতি শিগগির এ অস্থিরতা কেটে যাবে। নির্দিষ্ট সময়ে সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশে এ ব্যবস্থায় নির্বাচন হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন।

কাস্টমস কমিশনার মাসুদ সাদিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ‍প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমেদ, নৌ সচিব সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এনবিআর সদস্য(শুল্ক) ফরিদ উদ্দিন। সভায় ভ্যাট, বন্ড ও কাস্টমস কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবদুল মুহিত বলেন, গত ২২ বছরের মধ্যে ১৭ বছরে যে পরিমান রাজস্ব আদায় বেড়েছে গত ৫ বছরে তার সমান রাজস্ব আদায় বেড়েছে।

রাজস্ব আদায় বৃদ্ধিতে ভুমিকা রাখার জন্য কাস্টমস কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা যখন ক্ষমতায় আসি তখন আন্তর্জাতিক মন্দার কারণে অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। গত পাঁচ বছরে সে মন্দার কবল থেকে মুক্তি পেয়েছি।

মন্দা থেকে উত্তরণের জন্য চারটি কৌশল নির্ধারণের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, খাদ্য স্বর্য়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য কৃষিখাতের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। এরপর রপ্তানি খাতকে সচল রাখাতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করি। আভ্যন্তরীন রাজস্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু আভ্যন্তরীন রাজস্ব বাড়ানোর জন্য শিক্ষা ও স্যানিটেশন খাতে কোন রাজস্ব বাড়ায়ওনি কমায়ওনি। এছাড়া রাজস্ব আদায়ে সবচেয়ে বড় যে কৌশল নির্ধারণ করেছি তা হলো মানবসম্পদ উন্নয়ন।

তিনি বলেন, মানব সম্পদ উন্নয়নে যে কৌশল নির্ধারণ করেছি তাতে সফল হওয়ার কারণে অর্থনৈতিক মন্দা থেকে মুক্তি পেয়েছি।

রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করায় অর্থমন্ত্রী কাস্টমস কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯-১০ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করি তা অর্জন করতে পারবো কিনা তা নিয়ে অনেক কাস্টমস কর্মকর্তারাই দ্বিধান্বিত ছিলেন। কিন্তু আমরা লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পেরেছি।

মন্ত্রী কাস্টমস কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, গত চার বছরে যে আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে রাজস্ব আদায় করেছেন এ অর্থবছরেও রাজস্ব আদায়ে সে উদ্যোগ বহাল রাখবেন।

চট্টগ্রাম কাস্টমসে লোকবল সংকটের কথা স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য লোকবল প্রয়োজন। বর্তমানে কাস্টমসে ১২’শ লোকের বিপরীতে রয়েছে মাত্র ৫‘শ জন। এটা দূভার্গ্যজনক। মুলত বিগত সময়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা ক্ষমতায় আসার পর বেশকিছু লোক নিয়োগ দিয়েছি। আরো লোকবল নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কাস্টমস কর্মকর্তাদের উদ্যেশ্য মন্ত্রী বলেন, বিগত ৫ বছরে আমদানি রপ্তানি অনেক বেড়েছে।এ জন্য রাজস্ব আদায়ে ভালোভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। আমদানি রপ্তানি যেমন বেড়েছে রাজস্ব আদায়ও বাড়বে।

এনবিআর সদস্য(শুল্ক) ফরিদ উদ্দিন বলেন, চলতি বছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে হবে। কারণ এবছর যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা গত ৩০ বছরে সবোর্চ্চ। এবারের লক্ষ্যমাত্রা এক লাখ ৩৬ হাজার ৯০ কোটি টাকা। গত বছরের তুলনায় যা ২১ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরে ছিল ১লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। সুতরাং লক্ষ্যমাত্রা অর্জন চ্যালেঞ্জ তবে অসম্ভব নয়। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাস্টমস কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে কাজ করার আহবান জানান তিনি।

তিনি বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রয়োজনে কাস্টমসের সকল বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। তিনি কর্মকর্তাদের পণ্য এসেসমেন্ট সমস্যা পেশাদারিত্বের সঙ্গে দেখার আহবান জানান।

ফরিদ উদ্দিন বলেন, গত ৭ বছর আগে কাস্টমসের যে সক্ষমতা ছিল এখনো একি অবস্থায় আছে। সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কাস্টমস কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে। এসেসমেন্ট দ্রুত ও সঠিকভাবে করতে হবে।

বন্দর কাস্টমসের অন্যতম স্টেকহোল্ডার উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে উভয়ের মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে কাস্টমস কমিশনার মাসুদ সাদিক বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাস্টমস কর্মকর্তারা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে অতীতে যেভাবে কাজ করেছে এখনো করে যাবে। কিন্তু যেসব সক্ষমতার অভাব রয়েছে তা পুরণে মন্ত্রী মহোদয়কে উদ্যোগ নিতে হবে।

বেলা ১২টার দিকে কাস্টমসের অনুষ্ঠান শেষে অর্থমন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দরে যান। বন্দরের সম্মেলন কক্ষে তিনি বন্দর ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে আধঘন্টা বৈঠক করেন। পরে চট্টগ্রাম বন্দর সদস্য ক্যাপ্টেন এম শাহজাহান পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনের মাধ্যমে বন্দরের বিভিন্ন কার্যক্রম মন্ত্রীকে অবহিত করেন। এসময় মন্ত্রী বন্দর কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে চট্টগ্রাম বন্দর আরো জোরালো ভুমিকা রাখবে।

পরে মন্ত্রী বন্দরের ৫নং গেইট দিয়ে বন্দরে প্রবেশ করে বিভিন্ন কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন করেন।