রাজনৈতিক মতাদর্শের উর্ধ্বে উঠে সবাইকে চট্টগ্রামের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে

প্রকাশ:| শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর , ২০১৩ সময় ১১:৩৭ অপরাহ্ণ

ctg...রাজনৈতিক মতাদর্শের উর্ধ্বে উঠে সবাইকে চট্টগ্রামের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ হতে হবেরাজনৈতিক মতাদর্শের উর্ধ্বে উঠে সবাইকে চট্টগ্রামের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চট্টগ্রামের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

শনিবার দুপুরে নগরীর সিনিয়রস ক্লাবে চট্টগ্রাম পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম উন্নয়ন: সম্ভাবনা ও প্রস্তাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা।

পরিষদের সভাপতি চট্টগ্রাম জেলা পিপি অ্যাডভোকেট আবুল হাশেমের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী।

বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, নগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক এহসানুল হায়দার বাবুল, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মহসিন চৌধুরী, আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ, চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল হক, নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী আলী আশরাফ।

সেমিনারে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক নাজিম উদ্দিন শ্যামল।

উপ-উপাচার্য ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, প্রতি বছর চট্টগ্রাম থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব দেওয়া হয়। কিন্তু চট্টগ্রামের উন্নয়নে এর সিকিভাগও খরচ করা হয় না। চট্টগ্রাম থেকে যেসব রাজস্ব যায় এর ২০ শতাংশ চট্টগ্রামের উন্নয়নে ব্যয় করার দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নের দাবি আদায়ের জন্য একটি প্রগতিশীল প্লাটফরম তৈরি করতে হবে। যারা মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল তাদের সঙ্গে নিয়ে তো চট্টগ্রাম উন্নয়নের দাবি জানাতে পারবো না। চট্টগ্রামের উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। এরপর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দাবি আদায় করতে হবে।

মফিজুর রহমান বলেন, মানুষের বাহবা পেতে একটি সরকার চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করেছিল। বাস্তবে বাণিজ্যিক রাজধানীর যে কাঠামো দরকার তার কোন পরিকল্পনা তারা করেনি। চট্টগ্রাম উন্নয়নের জন্য মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সকল রাজনৈতিক নেতাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। হানাহানির রাজনীতি পরিহার করতে হবে। কারণ শক্তি প্রয়োগের রাজনীতির দিন শেষ হয়ে এসেছে। এখন রাজনীতি হবে যুক্তি ও মেধা নির্ভর।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নে রাজনৈতিক মতাদর্শের উর্ধ্বে উঠে তরুণ নেতাদের এগিয়ে আসতে হবে। চট্টগ্রামের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ১৯৮১ সালে যখন মাধ্যমিক পাশ করছি তখনও বাকলিয়া হাইস্কুলে পানি উঠতো, এখনো উঠছে। কোন পরিবর্তন হচ্ছে না। সুতরাং চট্টগ্রামের উন্নয়নে কাউকে না কাউকে এগিয়ে আসতে হবে। উন্নয়নের ডাক দিতে হবে।

এহসানুল হায়দার বাবুল বলেন, আমাদের রাজনীতিতে একপক্ষের বিরুদ্ধে এক পক্ষের মামলা হামলার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে এটা থেকে যতদিন বের হওয়া যাবে না ততদিন চট্টগ্রামের উন্নয়ন সম্ভব নয়। নেতাদের মধ্যে সৌহার্দ বাড়াতে হবে। চট্টগ্রামের প্রতি দরদ থাকতে হবে। তাহলেই উন্নয়ন সম্ভব। নয়তো চট্টগ্রাম অবহেলিত থেকে যাবে।

এডভোকেট কামাল উদ্দিন বলেন, হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ চট্টগ্রামে স্থাপনের জন্য দীর্ঘদিন দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু কেউ এতে কর্ণপাত করছে না। আমার মনে হয় ঢাকার কিছু সংখ্যক আইনজীবী ও চট্টগ্রামের কিছু বিচারক এটা চান না। ফলে সাধারণ মানুষকে ঢাকায় যেতে হচ্ছে। এটা একদিকে যেমন চট্টগ্রামের মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। অন্যদিকে টাকাও খরচ হচ্ছে বেশি।

প্রকৌশলী ফজলুল্লাহ বলেন, উন্নয়নের জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের উন্নয়ন মানসিকতা প্রয়োজন। তাহলেই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। রাঙ্গুনিয়ায় ওয়াসার যে প্রকল্পের কাজ চলছে তা শেষ হলে আগামী ২০১৪ সালের মধ্যে চট্টগ্রামের পানি সংকট অনেকটাই কেটে উঠবে বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকার কারণে ব্যবসায়ীদের প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার মালামাল পড়ে আছে। দেশে গ্যাসের সর্বমোট উৎপাদন যখন ১ হাজার ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট ছিল তখন চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ দেয়া হতো ২২০ মিলিয়ন ঘনফুট। বর্তমানে গ্যাসের সর্বমোট উৎপাদন ২ হাজার ২৫০ মিলিয়ন। উৎপাদন ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট বাড়লেও চট্টগ্রামের যোগান হ্রাস করে ১৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এটা চট্টগ্রামের প্রতি বিমাতা সুলভ আচরণ। দারিদ্র বিমোচনের জন্য প্রয়োজন শিল্পায়ন আর গ্যাস সরবরাহ ছাড়া শিল্পায়ন সম্ভব নয়। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহের দাবি জানান তিনি।

প্রকৌশলী আলী আশরাফ বলেন, মুখে মুখে বাণিজ্যিক রাজধানী না বলে বিল আকারে সংসদে পেশ করুন। এরপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে নিয়ে আসেন। তাহলে বাস্তবের বাণিজ্যিক রাজধানী হবে।

চেম্বারর পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক বাংলাদেশের লাইফ লাইন। অথচ এটি চারবছর ধরে শুধু কাজ হচ্ছে। মন্ত্রী কিছুদিন পর পর এসে শুধু শোডাউন করে যান। কিন্তু কোন সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি এ কাজটি সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোর দিয়ে করার দাবি জানান।

সেমিনারের পঠিত প্রবন্ধে চট্টগ্রামের উন্নয়নে সমস্যা সম্ভাবনা ও প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। এছাড়া প্রবন্ধে চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রতিটি উপজেলায় সরকারি স্কুল কলেজ প্রতিষ্ঠা, চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশের সুরক্ষা, বেড়বাধ নির্মান, পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা, শিল্প জোন সৃষ্ঠি, চট্টগ্রামের ভাষা, সংস্কৃতি রক্ষাসহ ১৫টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়।

চট্টগ্রাম পেশাজীবী পরিষদের নির্বাহী সভাপতি ডা. নাসির উদ্দিন মাহমুদের পরিচালনায় সেমিনারে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম ওয়াসার সাবেক চেয়ারম্যান ইসহাক মিয়া, আবদুল ওহাব চৌধুরী, চেম্বার পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, লায়ন মো. জাফর উল্লাহ, সাংবাদিক মামুনুর রশিদ, ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী, অধ্যাপক মুছা কলিমুল্লাহ, কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের, ফেরদৌস খান আলমগীর।


আরোও সংবাদ