রাজনৈতিক বাজেট উচ্চাভিলাষীই হবে

প্রকাশ:| বুধবার, ৫ জুন , ২০১৩ সময় ০৩:২৫ অপরাহ্ণ

b....T_sangbad24অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, বর্তমান সরকারের সবক’টি বাজেটকেই উচ্চাভিলাষী বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। হ্যাঁ, আমিও তা স্বীকার করি। রাজনৈতিক বাজেট উচ্চাভিলাষীই হবে। মঙ্গলবার আলোকিত বাংলাদেশ-এর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন। এবারও বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক সজীব হোমরায়

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, আমাদের দেশের রাজনীতিতে হরতাল অনেক দিনের কালচার। তবে সম্প্রতিকালে হরতালের নামে যে ধরনের নৈরাজ্য হয়েছে তাতে আমাদের কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাধার সৃষ্টি করেছে। আমরা চলতি অর্থবছরে আশা করেছিলাম প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ হবে। কিন্তু হরতালের কারণে সেটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে জামায়াত-শিবির যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর অপকৌশল হিসেবে দেশজুড়ে যে তা-ব চালিয়েছে তাতে অর্থনৈতিক কর্মকা- মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। যা এর আগে আর কোনো সময় হয়নি। চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৩ থেকে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে। ‘আগামী বাজেট উচ্চাভিলাষী’ এমন কথা বললে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সব বাজেটকেই উচ্চাভিলাষী বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। হ্যাঁ, আমিও তা স্বীকার করি। রজনৈতিক বাজেট উচ্চাভিলাষীই হবে। সংশোধিত বাজেটে সেটা প্রমাণিত হবে। আগামী বাজেট বাস্তবায়নের জন্য আমরা ছয় মাস সময় পাব। এর মধ্যে যতটা সম্ভব আমরা বাস্তবায়ন করব। পরে যে সরকারই আসুক না কেন, আমাদের উন্নয়নের ধারা ধরে রাখতে হবে। বিশেষ করে বিদ্যমান খাতে আমরা যেসব পদক্ষেপ এরই মধ্যে নিয়েছি, সেগুলো কোনো অবস্থাতেই পরিবর্তন করতে পারবে না।

ঘাটতি বাজেট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ঘাটতি বাজেটে সুবিধা-অসুবিধা দুটোই আছে। বিগত বাজেটগুলো ঘাটতি বাজেট ছিল। আমরা ৫ শতাংশ ঘাটতি অনুসরণ করেছি। কোনো সময় এর বেশি ঘাটতি হয়নি। কোনো বছর ৪ দশমিক ৭ শতাংশ ঘাটতি হয়েছে। আগামী বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, রাজনীতির সঙ্গে ফিলোসফির অনেক সময় সমঝোতা করতে হয়। কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে। তবে উচ্চ হারে জরিমানা দিয়ে কালো টাকা সাদা করা যাবে।

টাঙ্গাইলের মতো আরও কোনো জেলা বাজেট করা হবে কিনা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি প্রথম বাজেট বক্তৃতায় জেলা বাজেট দেয়ার কথা বলেছিলাম। কিন্তু নানা জটিলতার জন্য তা সম্ভব হয়নি। বাজেট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোন জেলার উন্নয়নে কত বরাদ্দ পাচ্ছে তা জনগণের জানার অধিকার রয়েছে। এবার টাঙ্গাইল জেলার বাজেট দেয়া হবে। আশা করছি আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে আরও ছয়টি জেলা বাজেট দেয়া হবে।

প্রসঙ্গক্রমে রাজস্ব খাত সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের রাজস্ব খাতে অনেক উন্নতি হয়েছে। এ বিষয়ে এনবিআর অনেক ভালো কাজ করেছে। বিশেষ করে কর খাতে আগে যে সংস্কৃতি ছিল সেটার পরিবর্তন এসেছে। আমাদের রাজস্ব আদায় আগের চেয়ে বেড়েছে। গত পাঁচ বছরে রাজস্ব আদায় তিন শতাংশ হারে বেড়েছে। রাজস্ব আদায় বাড়ায় আমরা বড় অংকের বাজেট দিতে পারছি। আগামী বাজেটে শুল্ক হার আরোপে অনেক পরিবর্তন আনা হবে। শেয়ারবাজার সম্পর্কে বাজেটে কোনো বিশেষ উদ্যোগ থাকছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, শেয়ারবাজার নিয়ে বাজেটে আর কিছু করার নেই। প্রধানমন্ত্রী শেয়ারবাজারের ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কিছু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তারই প্ররিপ্রেক্ষিতে নয়শ’ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আইসিবি’র মাধ্যমে এ ঋণ বিতরণ করা হবে।

সামাজিক কর্মসূচি সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত চার বছরে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কারণে দেশে দরিদ্রের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এটা বর্তমান সরকারের বড় একটা অর্জন। এছাড়া বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা নতুন বাজেটে দারিদ্র্য বিমোচনে যেসব কর্মসূচি রয়েছে সেগুলো আরও জোরদার করব। বিশেষ করে ন্যাশনাল সার্ভিসেস আরও সম্প্রসারণ করার উদ্যোগ নেয়া হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য কী কী প্রণোদনা দেয়া হবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, মহার্ঘ ভাতা আগামী বাজেটে না দেয়া হলেও তাদের জন্য স্থায়ী পে-কমিশন গঠন করা হবে।

সেন্ট্রাল পলিসি ফর ডায়ালগ (সিপিডি) এক অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেছে, দেশে নানা কারণে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্র্ষণ করলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের অর্থনীতির জন্য সিপিডি’র বক্তব্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। বর্তমান সরকারের শুরু থেকেই তারা মনগড়া তথ্য পরিবেশন করে আসছে। জানি না তারা কাদের স্বার্থ রক্ষায় এমনটা করে। ২০১১ সালে তারা অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অত্যন্ত নেতিবাচক মন্তব্য করেছিল। অল আর বোগাস। তাদের এসব প্রপাগান্ডা আমলে নিতে নেই।

পদ্মা সেতু বিদেশি সহায়তা ছাড়া নিজস্ব অর্থায়নে করা সম্ভব নয়Ñ সিপিডি’র এমন মন্তব্য সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করা সম্ভব হবে না। এমনটা বলা ঠিক হয়নি তাদের। তবে হ্যাঁ, তারা কথাটি অন্যভাবে বলতে পারত। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গেলে অর্থনীতির ওপর অনেকটা চাপ বাড়বে এটা ঠিক। সে চাপ আমাদের নিতে হবে। আমরা নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মা সেতু নির্মাণ শুরু করব। আর এজন্য বাজেটে বরাদ্দ থাকবে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর জন্য বাজেট বরাদ্দের পাশাপাশি ইন্ডিয়ান ক্রেডিটের দু’শ কোটি ডলার রয়েছে। এ অর্থও আমার পদ্মা সেতুর জন্য ব্যবহার করতে পারব। এরই মধ্যে একশ’ কোটি ডলার আমরা পেয়েছি। বাকিটাও দু’এক মাসের মধ্যে আমরা পেয়ে যাব।

সুশীল সমাজের সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, তথাকথিত সুশীল সমাজ একপেশে সমালোচনা করেন, শুধু ব্যর্থতা দেখে বেড়ান; কিন্তু সরকারের কোনো সাফল্য দেখেন না তখন খুব কষ্ট হয়। তারা নেতিবাচক সমলোচনা করলেও বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং এর অগ্রগতি আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসা পেয়েছে।


আরোও সংবাদ