রাজনৈতিকভাবে এবং সামাজিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তিকে সর্বত্র পরাস্ত করতে হবে

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর , ২০১৩ সময় ১১:৪৪ অপরাহ্ণ

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পরিষদে ঐক্যবদ্ধ হলেন চট্টগ্রামের সাবেক ছাত্র নেতৃবৃন্দ

sam প্রেস রিলিজ>.সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত সমাজ বিনির্মাণে এবং সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধে অতীতের সকল ভুলভ্রান্তি, দ্বিধাদ্বন্দ ভুলে গিয়ে জাতির বর্তমান দুঃসময়ে সাবেক ছাত্রনেতারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ঘোষণা দিলেন। শুধু তাই নয়, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পরিষদের ব্যানারে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করারও আহবান জানিয়েছেন তাঁরা।
আশি-নব্বই দশক থেকে শুরু করে সদ্য সাবেক হওয়া ছাত্রনেতারা আরো বলেন, যে যত কথাই বলুক না কেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তি যদি বিপক্ষ শক্তির হাতে কোন না কোনভাবে পরাজিত হয় মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণকারী কারো জন্য বাংলাদেশ নিরাপদ হবে না। নিজের জন্য এবং সাধারণ মানুষের বাসযোগ্য বাংলাদেশকে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় অধিষ্ঠিত করার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তিকে সর্বত্র পরাজিত করতে হবে রাজনৈতিকভাবে এবং সামাজিকভাবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে যে নতুন প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে তারা কখনো বিভ্রান্ত হবেনা, তাদের সঠিক পথে পরিচালনা করাতে পারলেই আমাদের কাঙ্খিত স্বদেশ গড়তে বেগ পেতে হবেনা বলে উল্লেখ্য করেন সাবেক ছাত্র নেতৃবৃন্দ।
আগামী ২০ ডিসেম্বর শুক্রবার চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী কনভেনশনকে সফল করতে সাবেক ছাত্রনেতাদের সাথে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পরিষদের মতবিনিময় সভায় বক্তারা উপর্যুক্ত কথাগুলো বলেন।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পরিষদের অন্যতম উপদেষ্টা বরেণ্য বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিক কবি অরুণ দাশ গুপ্তের সভাপতিত্বে ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক লেখক-সাংবাদিক শওকত বাঙালি এবং পরিষদের অন্যতম সমন্বয়কারী সাবেক ছাত্রনেতা আবুল হাসনাত মো. বেলালের সঞ্চালনায় সভায় সূচনা বক্তব্য দেন পরিষদের সদস্য সচিব ও নির্মূল কমিটির জেলা আহবায়ক অ্যাডভোকেট সীমান্ত তালুকদার। অন্যদের মধ্যে মতামত ব্যক্ত করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন দাশ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. সাহাবউদ্দিন, ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম মহানগর সাবেক সভাপতি রফিকুল হোসেন বাচ্চু, সাবেক জনপ্রতিনিধি ও ছাত্রনেতা তারেক সোলেমান সেলিম, অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, চন্দন ধর, মশিউর রহমান চৌধুরী, সাবেক ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি মো. আতিক, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নুরুল আবছার চৌধুরী, সাবেক ছাত্রনেতা ইফতেখার কামাল খান, শিহাব চৌধুরী বিপ্লব, ফজলুল কবির মিন্টু, আলী আকবর সিদ্দিকী, মো. ফরিদ নেওয়াজ, খোরশেদুল আলম পেয়ারু, মহিউদ্দিন বাবলু, অধ্যাপক পার্থ সারথী চৌধুরী, মো. সাদেক হোসেন পাপ্পু, মিথুন বড়–য়া, গোলাম মো. জোবায়ের, অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন আজাদ, আবদুল হাই, দিদারুল আলম মাসুম, অধ্যাপক মো. মাসুম চৌধুরী, হেলাল উদ্দিন খোকন, নূপুর ধর, কে.এম শহিদুল কাউছার, মো. হাসমত আলী, মো. শাহজাহান ছোটন, সিরাজুল হক, লিটন কুমার দাশ, সৈয়দ শওকত হোসেন, উত্তর কুমার বড়–য়া, রাশেদ খান মেনন, মো. ইয়াকুব, মিলি চৌধুরী, শৈবাল আদিত্য, স্বপন সেন, মো. অলীদ চৌধুরী, ফয়সল চৌধুরী, মো. ইসকান্দর আলী, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন সোহেল, নাজমুল আলম খান, শিবলী নোমান চৌধুরী, মো. মনজুর হোসাইন, রবিউল হোসেন, মো. দিদারুল ইসলাম শিপন, মো. আবু ইউসুফ বাবু, অরুণ কান্তি দাশ, অ্যাডভোকেট চন্দন দাশ, মাউসুফ উদ্দিন মাসুম, নিখিলেশ সরকার রাজ, মোহাম্মদ মঈদুল ইসলাম, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন তামিম, কামাল উদ্দিন চোহানী, মো. রিফাত হোসেন, অভি চৌধুরী, মিথুন নাথ রনি, প্রকৃতি চৌধুরী ছোটন, শেখ মোহাম্মদ সাদেকুল হাদি, এস.এম সাহাবুদ্দিন, রাজিব বিশ্বাস, রিফাতুল রহমান, বাবলু আচার্য শ্রাবণ, টিটু দাশ, নিউটন দাশ, রাজন শর্মা, হাবিবুল্লাহ মিজবাহ প্রমুখ। সভাপতির বক্তব্যে অরুণ দাশ গুপ্ত বলেন, সব শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষই সাম্প্রদায়িকতাকে ঘৃণা করে। কিন্তু তারপরও সাম্প্রদায়িকতার অশুভ শক্তি তার মদমত্ততা নিয়ে হাজির হয়। আর তা হয় সমাজের বৃহত্তর সম্প্রদায়ের মধ্য থেকেই। বাংলাদেশে আজ যে সাম্প্রদায়িকতার ছোবল তা ধর্মের গণ্ডি দিয়ে আবদ্ধ হলেও এর পিছনে মূল নিয়ামক রাজনৈতিক শক্তি। এর মধ্যে একটি রাজনীতি আছে। এ রাজনীতির একটি দীর্ঘ ইতিহাসও আছে।
এদিকে, আগামী ১৭ ডিসেম্বর জেলা আইনজীবী সমিতির সাথে সমিতির কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে।