রাজনীতি করতে এসে অপরাধ করেনি এমন কেউ নেই-প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৩ জুন , ২০১৪ সময় ০৯:৩৬ অপরাহ্ণ

‘বাংলাদেশে রাজনীতি করতে এসে অপরাধ করেনি এমন কেউ নেই। তবে কোনো কোনো পরিবার একটুখানি অপরাধ করলেই তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলে, অপপ্রচারকারীদের কিছুই হয় না। আবার ক্ষেত্র বিশেষে কোনো কোনো পরিবার অনেক বেশি অপরাধ করলেও তাদের বিরুদ্ধে একটি কথাও বলা হয় না।’

মঙ্গলবার বাজেট অধিবেশনের শুরুতে এমপি নাসিম ওসমানের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এই পরিবারটি (ওসমান পরিবার) বারবার আক্রমণের শিকার হয়েছে। একাত্তর, পঁচাত্তর এবং তার আগে ইয়াহিয়া খান ও আইয়ুব খানের আমলেও তারা হামলার শিকার হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পরিবারের বিরুদ্ধে অনেকেই সমালোচনা করেন। তাদের বিরুদ্ধে সামান্য অপরাধগুলোকেও বড় করে দেখেন। অথচ একই ধরনের অপরাধ অন্যরা করলে সেটিকে ততটা বড় করে দেখা হয় না।

তিনি বলেন, এই পরিবারের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক। রাজনৈতিকভাবে আমরা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলাম। কারণ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠায় এই পরিবারের অবদান ছিল অনেক বেশি।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৬ ডিসেম্বর যখন হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে নাসিম ওসমানের বাবা জোহা কাকা সঙ্গে সঙ্গে ধানমন্ডির ১৮ নং বাড়িতে চলে এসেছিলেন। যে বাড়িতে বঙ্গবন্ধুকে আটকে রেখেছিল পাক হানাদার বাহিনী।

তিনি বলেন, জোহা কাকা কয়েকজনকে নিয়ে ওই বাড়ির সামনে যান। সেখানেও যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাকবাহিনীর লোকেরা তার ওপর গুলি চালায়। তিনি আহত হন। আহতাবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু একাত্তরে নয়, পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে হত্যার পর আমরা যখন অসহায় অবস্থায় ছিলাম। তখনও এই পরিবার আমাদের পাশে ছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আমরা ভারতে এসেছিলাম। আমাদের রাজনৈতিক আশ্রয় ছিল না। কিন্তু জোহা কাকা আমাদের জন্য অনেক কিছু করেছিলেন তখন।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৫ আগস্ট যেদিন জাতির পিতাকে হত্যা করা হয়। তার আগের দিন নাসিমের বিয়ে ছিল। কামালসহ আমাদের পরিবারের সদস্যরা ওই বিয়েতে অংশগ্রহণ করে। কিন্তু পরদিন যখন বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের সদস্যদেরকে হত্যা করা হয় ওইদিন নাসিম নববধূকে ফেলে রেখে জাতির পিতার হত্যার প্রতিশোধ নিতে বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিল।

তিনি বলেন, নাসিম মুক্তিযুদ্ধেও অংশ নিয়েছিল। তার জীবনটা অসম্পূর্ণই থেকে গেলো। এই মৃত্যু মেনে নেওয়া খুবই কষ্টকর।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনে নাসিম ওসমানের ছেলেমেয়েদের দেখাশোনার দায়িত্ব নেবেন বলে জানান। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, আল্লাহ তাকে বেহেস্ত নসিব করুক। এই দোয়া করি।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য নাসিম যে আত্মত্যাগ করেছেন তা চিরদিন স্মরণ করবো। তার অবদানের প্রতিদান কখনো শোধ করা যাবে না।

নাসিম ওসমানের মায়ের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি অত্যন্ত সাহসী নারী ছিলেন। যেকোনো পরিস্থিতি তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন। তিনি কখনো ভেঙ্গে পড়েননি। কিন্তু এই পূত্রের শোক তার পক্ষে সহ্য করা অত্যন্ত কঠিন হবে। এটা কতটা কষ্টের তা আমি নিজেও অনূভব করতে পারি।

নাসিম ওসমানের স্ত্রী প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, তার স্ত্রীর জন্যও এটা খুবই কঠিন। বিয়ের পরদিন যখন নাসিম তাকে ছেড়ে চলে গেল। আড়াই-তিন বছর আর কোনো খোঁজ-খবর ছিল না। তখন তিনি কঠিন সময় পার করেছেন। পরে নাসিম ফিরে এসেছিলো। কিন্তু এখন সে একবারেই চলে গেছে। তার স্ত্রী স্বামীকে হারিয়েছেন। এটা খুবই কষ্টকর। আল্লাহ তাকে ধৈর্য ধারণের তৌফিক দেন এই কামনা করি। –