রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই

প্রকাশ:| রবিবার, ৪ আগস্ট , ২০১৩ সময় ১০:৫১ অপরাহ্ণ

রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই। সাত দিনেই রাজনীতির প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারasraf_56219 ও পল্লী উন্নয়ন (এলজিআরডি) মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

রাজনীতিতে সাত দিন অনেক অনেক লম্বা সময় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের রাজনীতিতে কলঙ্কময় অধ্যায় রয়েছে, রাজনীতিবিদরা সব সময় সততা ও নিষ্ঠা ধরে রাখতে পারেননি। রাজনীতিবিদরা এমন আচরণ করেন তাতে শুধু নিজেদের খাটোই করেন না, তাদের ভোটারদেরও খাটো করেন। স্বকীয়তা ধরে রেখে রাজনীতি করা দুরুহ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আজ রোববার সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত মতবিনিয়ম সভায় প্রধান অতিথি বক্তব্যে আশরাফ এ কথা বলেন।

ঈদের পর দলীয় সিদ্ধান্তের আলোকে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কথা বলবেন উল্লেখ করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, রাজনীতির কারণে একে-অপরের মাঝে মতানৈক্য থাকতে পারে। তবে রাজনীতিতে ‘গীবত’ করা ঠিক নয়। প্রধানমন্ত্রী সব সময়ই সকল মানুষের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা এবং ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করার উপর জোর দিয়ে আসছেন।

মন্ত্রী পরে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত কিশোরগঞ্জ পৌরসভার সোডিয়াম বাতি প্রজ্জ্বলন করেন।

বাংলাদেশের প্রতি স্তরে স্তরে দুর্নীতি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এসবের মাঝে নিজের সক্রিয়তা বজায় রাখা দুরূহ ব্যাপার।

নিজের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমি এমন কোনো আচরণ করবো না, যেন কিশোরগঞ্জের মানুষ বিতর্কিত হয়, তাদের মান সম্মান নষ্ট হয়। আমি এ কিশোরগঞ্জের মানুষের জন্য প্রশাংসা না নিয়ে এলেও অভিশাপ নিয়ে আসিনি। কারণ, আমি কোনো অন্যায় এবং অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত নই। আমি রাজনীতি করি দেশের মানুষের জন্য এবং দেশের মানুষের কল্যাণে।

তিনি বলেন, অনেকেই আমাকে নিয়ে সমালোচনা করেন। সমালোচনার অধিকার এদেশের মানুষের আছে কিন্তু কেউ বলতে পারবে না যে, আমি দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ। সবাই আমাকে ভদ্রলোক, সৎ মানুষ বলেই জানে। এটাই আমার রাজনীতির জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মহীয়সী নারী হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তাঁকে অনেকেই কর্কশ মনে করেন। কিন্তু তাঁর সাথে মিশলে ঝুঝা যায়, উনি কতটা উদার মনের মানুষ।

দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে সৈয়দ আশরাফ আরও বলেন, শেখ হাসিনা তার জীবনে যে সংগ্রাম, ত্যাগ স্বীকার করেছেন, বর্তমান মহাজোট সরকার গঠন করেছেন, দেশকে ঘুরে দাঁড় করিয়েছেন তা সত্যিই বিশাল অর্জন।

জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ ওয়াহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ মো. আফজাল হোসেন, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এ্যাডভোকেট এম. এ আফজল, জেলা পরিষদ প্রশাসক এ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান, জেলা প্রশাসক মো. সিদ্দিকুর রহমান, পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খান, কিশোরগঞ্জের পৌর মেয়র মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়া কাঞ্চন প্রমুখ।