রাজধানীসহ সারাদেশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৩ এপ্রিল , ২০১৮ সময় ০৭:৪৯ অপরাহ্ণ

পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ উদযাপনে কোনো অপশক্তি যাতে কোনো্রকম বিঘ্ন সৃষ্টি করতে কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না-পারে সে-লক্ষ্যে রাজধানীসহ সারাদেশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পারে। পুলিশ ও র‌্যাবের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন।

জানা গেছে, পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে বিশেষ করে রাজধানীর রমনা বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র সরোবর, হাতিরঝিল, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, পুরান ঢাকা, উত্তরাসহ যেসব এলাকায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে সেই এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ইতিমধ্যে চেক পয়েন্ট, সিসিটিভি, মেটাল ডিটেক্টর ও অবজার্ভেশন টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। বোমা নিস্ক্রিয়করণ ইউনিট ও ডগ স্কোয়াডও মোতায়েন থাকবে।

এছাড়া রমনা পার্ক ও মঙ্গল শোভাযাত্রার সময় হেলিকপ্টারসহ অন্যান্য মাধ্যমে আকাশ থেকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে র‌্যাব। শুধু তাই নয়, এবারের পহেলা বৈশাখে প্রথম বারের মতো রমনা বটমুলে এবং হাতিরঝিল এলাকায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত থাকবে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ।

তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের একটি বড় উৎসব। এই উৎসবে যাতে কেউ কোনো ধরনের নাশকতা না করতে পারে সেজন্য সারা দেশে র‌্যাবের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

র‌্যাবের ডিজি আরো বলেন, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক্স, অনলাইন মিডিয়া এবং সকল ধরনের সামাজিক যোগাযোমাধ্যমগুলো পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এসব মাধ্যম ব্যবহার করে যাতে কেউ কোনো ধরনের উসকানি না দিতে পারে তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কেউ যদি এসব মাধ্যম ব্যবহার করে উসকানি দেয় তাহলে তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। নাশকতাকারী ও নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে বলেও নজরধারী বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর রমনা পার্ক, হাতিরঝিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, ধানমন্ডি লেকসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পহেলা বৈশাখ উৎযাপনের জন্য ওসব এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তায় মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। ইভটিজিং প্রতিরোধে বিশেষ পুলিশ টিম থাকবে। মঙ্গল শোভাযাত্রায় পূর্ণ নিরাপত্তার স্বার্থে কেউই মুখোশ বা মাস্ক পরতে পারবে না। তবে হাতে রাখা যাবে। কোনো ধরনের ব্যানার, ছাতা, অস্ত্র, ছুরি বহন করা যাবে না। রবীন্দ্র সরোবরের মুক্তমঞ্চ ছাড়া রমনা বটমূল, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং অন্যান্য স্থানের অনুষ্ঠানগুলো শনিবার বিকেল ৫টার মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছে। তবে অনুমতিনসাপেক্ষে ইনডোর কর্মসূচি উদযাপন করা যাবে।

এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘আমরা পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে সমন্বিত ও সুদৃঢ় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। রমনা পার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, টিএসসি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রবীন্দ্র সরোবর, হাতিরঝিলসহ সকল অনুষ্ঠান ভেন্যুতে থাকবে পর্যাপ্ত সংখ্যক পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশ। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি ভেন্যু ‘ডগ স্কোয়াড’ ও এসবি দিয়ে সুইপিং করানো হবে। সমগ্র এলাকা থাকবে সিসি ক্যামেরার আওতায় এবং রিয়েল টাইম মনিটরিং করা হবে কন্ট্রোল রুম থেকে। জনসাধারণ যাতে নিরাপদে ও স্বচ্ছন্দে রমনা পার্কে হেঁটে যেতে পারে সেজন্য ট্রাফিক ডাইভারশন দিয়ে, রোড ব্লক করে সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ করা হবে। প্রত্যেক দর্শনার্থীকে ব্যারিকেডের সামনে তল্লাশি করে অনুষ্ঠানস্থলের উদ্দেশ্যে পায়ে হেঁটে যেতে দেওয়া হবে।’

তিনি আরো বলেন, পহেলা বৈশাখে প্রত্যেক নাগরিককে ফুল ও বাতাসা দিয়ে শুভেচ্ছা জানাবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। এছাড়া আটটি স্থান থেকে জনসাধারণের মাঝে বিনামূল্যে বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ করবে ডিএমপি। রমনা পার্কে ছায়ানটের অনুষ্ঠানকেন্দ্রিক অন্তঃবেষ্টনী ও বহিঃবেষ্টনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকব। রমনা পার্ক ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ ও বাহির পথের নির্দেশনা দেয়া থাকবে। নির্দিষ্ট পথ দিয়ে প্রবেশ ও বের হতে হবে।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী নববর্ষ উপলক্ষে রাজধানীসহ সারাদেশে আয়োজিত বৈশাখী মেলা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সব সিনেমা হল এবং জনসমাগমস্থলে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেন। তিনি জানান, বড় বড় শপিং সেন্টার, মার্কেট, বাজার, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসমূহে নববর্ষের হালখাতা অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রেল স্টেশন, লঞ্চ ও বাস টার্মিনালসহ জনসাধারণের চলাচলের স্থানে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি ও প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন থাকবে।


আরোও সংবাদ