রাঙ্গুনিয়ার ৩৬ গ্রাম ম্যালেরিয়া ঝুঁকিপূর্ণ

প্রকাশ:| বুধবার, ২৬ এপ্রিল , ২০১৭ সময় ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

ম্যালেরিয়া দিবসের আলোচনা সভায় ইপসা’র তথ্য প্রকাশ

গত আট বছরে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার ফলে ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্তের হার কমলেও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ৩৬টি গ্রাম এখনো ম্যালেরিয়া রোগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। পাহাড় বেষ্টিত রাঙ্গুনিয়া উপজেলার এসব গ্রামে এখনো ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাচ্ছে। রাঙ্গুনিয়ায় ২০০৯ সালে ১৯৯ জন, ২০১০ সালে ১৩৩জন, ২০১১ সালে ৯৬জন, ২০১২ সালে ৭৭জন, ২০১৩ সালে ২৫ জন, ২০১৪ সালে ৩০ জন, ২০১৫ সালে ১৫জন, ২০১৬ সালে ১০ জন ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগী সনাক্ত করা হয়। চলতি বছরের এপর্যন্ত মাত্র ১ জন রোগী সনাক্ত হয়েছে। রাঙ্গুনিয়ার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ১৪৫ গ্রামে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম পরিচালিত হলেও গত তিনবছরে ঘুরেফিরে ৩৬টি ঝুঁকিপূর্ণ গ্রামেই ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব গ্রামে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে বিতরণকৃত ৭৭ হাজার কীটনাশকযুক্ত মশারী এখন কার্যকর আছে। মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) ১০ম বিশ^ ম্যালেরিয়া দিবস উপলক্ষে জাতীয় ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মসুচি বাস্তবায়নকারী এনজিও সংস্থা ইপসা কর্তৃক আয়োজিত র‌্যালী পরবর্তী আলোচনা সভায় এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। বিশ^ ম্যালেরিয়া দিবস উপলক্ষে “চিরতরে ম্যালেরিয়া হোক অবসান” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত র‌্যালীটি উপজেলা সদর প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. মোমিনুর রহমান। সভায় পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ম্যালেরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইপসা’র প্রজেক্ট ম্যানেজার সাংবাদিক জিগারুল ইসলাম জিগার। অন্যান্যের মধ্যে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ইফতেখারুল ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আলাউদ্দিন আল আজাদ, স্বাস্থ্য পরিদর্শক জয়ন্ত চৌধুরী আলোচনায় অংশ নেন।
সভায় জানানো হয়, সরকারের পাশাপাশি এনজিও সংস্থা ইপসা কর্তৃক জাতীয় ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচী বাস্তবায়নের ফলে রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় কমেছে ম্যালেরিয়া প্যারাসাইট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। কর্মসুচীর অধীনে সংস্থাটি কীটনাশকযুক্ত মশারী বিতরণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্তদের বিনামূল্য চিকিৎসাসেবা প্রদান করছে। উঠান বৈঠক, গণনাটক, জারীগানসহ বিভিন্ন কর্মশালা অনুষ্ঠানের ফলে ম্যালেরিয়া বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ম্যালেরিয়া আক্রন্তের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। কীটনাশকযুক্ত মশারীর ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব অনেকাংশে নির্মূল হবে।