রাঙ্গুনিয়ার চারটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট , ২০১৫ সময় ১১:৪৬ অপরাহ্ণ

প্লাবিতঢল’র কারণে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চারটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে দেড় লাখেরও বেশি মানুষ। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে সদ্য রোপা আমন ও বীজতলা। ফেরি ও রাস্তাঘাট ডুবে ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

হঠাৎ করে আসা এই বন্যায় এখনো পুরোপুরি ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি প্রশাসন। বান্দরবান ও রাঙ্গামাটির পাহাড়ি অঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া রাঙ্গুনিয়ার শিলকখাল ও মড়া শিলকে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বন্য পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ঘুর্ণিঝড় কোমেনের প্রভাবে সৃষ্ট বন্যার রেশ না কাটতেই রাঙ্গুনিয়ায় আবারো বন্য পরিস্থিতি দেখা দিল।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চেয়ারম্যান আলী শাহ বলেন, ‘গত দুদিনের প্রবল বর্ষণ ও বান্দরবান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার পদুয়া, শিলক, সরবভাটা ও কোদালা এখন পুরোপুরি পানিতে নিমজ্জিত আছে। এই চার ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। কালিন্দরানীর সড়কের সংযোগ ব্রিজসহ বেশ কয়েকটি ব্রিজ ও সেতু দেবে গিয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ত্রিপুরা সুন্দরী, সুখ বিলাশ, খুরশিয়া, চন্দ্রঘোনা, রাজার হাটসহ বিস্তীর্ণ এলাকার সঙ্গে রাঙ্গুনিয়ার উপজেলা সদরের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রাজারহাট বাজারের শতাধিক দোকান তলিয়ে গিয়ে ব্যাবসায়ীদের প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

পদুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও মানবাধিকার কর্মী শাহাদাত হেসেন তালুকদার বলেন, ‘পদুয়া সাধারণত উঁচু এলাকা, ঘুর্ণিঝড় কোমেনেও এখানে এতটা পানি হয়নি, কিন্তু গতকাল রাত থেকে হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে পানি বাড়তে থাকে। ইতোমধ্যে আশপাশের প্রায় ৫০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। পরে খবর নিয়ে জানতে পারি বান্দরবান থেকে শিলক খাল ও মরা শিলক দুটো নদী দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বেড়িবাঁধের তিন-চারটি অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ফলে চার ইউনিয়নের প্রায় ৩ শতাধিক পুকুর ডুবে মাছ চাষিদের কয়েক কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া দ্বিতীয় দফায় সদ্য রোপা আমন ও বীজতলা নষ্ট হয়ে কৃষকদের এখন পথে বসার উপক্রম।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘দুদিন ধরে চারটি ইউনিয়নের দেড় লাখেরও বেশি মানুষ মানবেতর জীবন কাটালেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি, এমনকি কোন মেম্বার-চেয়ারম্যান খবর নিতেও আসেননি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চেয়ারম্যান আলী শাহ বলেন, ‘হঠাৎ করে আসা এই বন্যায় প্রশাসন এখনো পুরোপুরি ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। তবে ইউনিয়নগুলোর চেয়ারম্যানদের এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। সরকারের কাছে এই চারটি ইউনিয়নকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার আবেদন করছি।’

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ‘আজ দুপুরে বন্যা দুর্গত এলাকার চেয়ারম্যানদের সঙ্গে মিটিং হয়েছে, আপাতত ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে ৪০০ টাকা ও ১০ কেজি চাল দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

বন্যাদুর্গতদের থাকার কোনো ব্যাবস্থা করা হয়েছে কি না জানতে চাওয়া হলে এই কর্মমর্তা এই বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি।