রাঙ্গামাটির নানা খবর

প্রকাশ:| শনিবার, ২ নভেম্বর , ২০১৩ সময় ১১:৪৭ অপরাহ্ণ

গুর্খা, আসাম (অহমিয়া) সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসব “ভৈল-ধেওসী”ঐতিহ্যবাহী উৎসব “ভৈল-ধেওসী”
পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত গুর্খা, আসাম (অহমিয়া) সম্প্রদায়ের দেওয়ালী পূজা (কালিপূজা) উপলক্ষ্যে ২ দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী উৎসব “ভৈল-ধেওসী” আজ ২ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। আদিবাসী গুর্খা, অহমিয়া স¤প্রদায়ের আবাল, বৃদ্ধ, বনিতারা সবাই এই উৎসবে মেতে উঠে আনন্দে উদ্বেল হয়ে পড়ে।
আর এই উৎসবের দিনে কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে এলাকার বিভিন্ন পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে নাচ, গানসহ ঘরে ঘরে মোমবাতির আলো জ্বালিয়ে দিনে ও রাতে আনন্দে মেতে থাকে।
উৎসবের প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে দলগুলি বিভিন্ন পাহাড়ী পল্লীগুলোতে গিয়ে চাউল, টাকা, তরিতরকারী, রক্সী (মদ) সংগ্রহ করে থাকে। এই সমস্ত জিনিস সংগ্রহ করে পরবর্তীতে সবাই মিলে পিকনিকের আয়োজন করা হয়। দ্বিতীয় দিন ভাইটিকা দেয়া হয়। দধিতে চাউল মিশিয়ে ভাই বোন একে অপরকে তাজ পড়িয়ে দেয়।
রাঙ্গামাটি শহরের জেল রোড, মাঝেরবস্তি, আসামবস্তি ও গর্জনতলীতে গুর্খা ও আসাম (অহমিয়া) স¤প্রদায় “ভৈল-ধেওসী” উৎসবে মেতে উঠতে দেখা যায়।
উল্লেখ্য, রাঙ্গামাটি জেলায় গুর্খা-অহমিয়া সম্প্রদায়ের অধিবাসীরা দেওয়ালী পূজা (কালীপুজা) কে সামনে রেখে নেপাল বংশোদ্ভুত এই দু’টি সম্প্রদায় সুদীর্ঘকাল থেকে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে এই উৎসব পালন করে আসছে।

জাতীয় সমবায় দিবসে র‌্যালীজাতীয় সমবায় দিবসে র‌্যালী
ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত দেশ গড়তে নারী-পুরুষ সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা। তিনি বলেন, হত দরিদ্রদের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধির জন্য বর্তমান সরকার একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্প চালু করেছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে অনেকেই স্বাবলম্বী ও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি হয়েছে। তাই হত দরিদ্ররা যাতে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা পায় তার জন্য সকলে একযোগে কাজ করার আহবান জানান।
আজ ২ নভেম্বর শনিবার রাঙ্গামাটি জেলা সমবায় বিভাগ আয়োজিত জাতীয় সমবায় দিবসে র‌্যালী শেষে পৌর টাউন হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চেয়ারম্যান এ আহ্বান জানান। র‌্যালীটি রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয় হতে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পৌরসভা প্রাঙ্গনে এসে শেষ হয়।
পরিষদ চেয়ারম্যান আরো বলেন, একমাত্র সমবায়ের মাধ্যমে অর্থনৈতিক মুক্তি আনা সম্ভব। দেশের সামাজিক নিরাপত্তায় সমবায় ছাড়া বিকল্প নেই। তাই সামাজিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে সমবায়ীদের এগিয়ে আসতে হবে।
রাঙ্গামাটি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ড. মুস্তাফিজ রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, রাঙ্গামাটি পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভুট্টো , পার্বত্য মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ শাহাজাহান, অতিরিক্ত পুলিশসুপার আবুল কালাম আজাদ, জেলা সমবায় কর্মকর্তা মঙ্গল কুমার চাকমা। এছাড়া বক্তব্য দেন উজেবং বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ এর সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট সঞ্চু চাকমা, ত্রিদিপ নগর বাজার ব্যাবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিকোসন চাকমা, আসবাবপত্র কল্যান সমিতির লেহাজ উদ্দীন সরকার, সেলুন মালিক সমিতির রবীন্দ্রনাথ চৌধুরী, করাতকল সমিতির আব্দুল হাই খোকন। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা সমবায় কর্মকর্তা মঙ্গঁল কুমার চাকমা।
চেয়ারম্যান বলেন, সমবায় সমিতির অর্ন্তভুক্ত সমিতির সমস্যা দুরিকরনে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ হতে ১২টি সমিতিকে ৬০ লক্ষ টাকা সুদ মুক্ত ঋণ প্রদান করা হয়েছে। তিনি সমবায় সমিতির নিবন্ধীত সকল সমিতির সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সকল সমস্যা গুলোকে চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে জানান।


আরোও সংবাদ