রাঙ্গামাটিতে পর্যটককে ধর্ষনও নির্যাতন ঘটনায় আটক রফিকুল ইসলামের দুই দিনের রিমান্ড শেষ

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর , ২০১৩ সময় ১০:৩১ অপরাহ্ণ

তদন্তে বেরিয়ে এসেছে নতুন তথ্য ও মামলায় অভিযুক্তদের বাইরে আরো কয়েকজনের নামরফিকুল
রাঙ্গামাটির পর্যটন শহরের আবাসিক হোটেলে পর্যটককে ধর্ষনও নির্যাতন ঘটনায় আটক ক্যাফে আল মক্কা এন্ড বিরানী হাউসের মালিক রফিকুল ইসলামের দুই দিনের রিমান্ড শেষ করেছে পুলিশ। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে নতুন তথ্য ও মামলায় অভিযুক্তদের বাইরে আরো কয়েকজনের নাম। একই সাথে হোটেল পাহাড়িকার বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘন ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে এসব অভিযোগের অনেকগুলোর প্রমাণও এসছে পুলিশের হাতে। বাকি অভিযোগের বিষয়ে পুলিশি তদন্ত চলছে। এসব অভিযোগের প্রমাণ মিললে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে হোটেল পাহাড়িকার লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হবে। ঐ হোটেলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিলে আপত্তি থাকবে না বলে জানিয়েছে হোটেল মালিক সমিতি।
এদিকে ঘটনার সাতদিন পরও ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত হোটেল পাহাড়িকার ম্যানেজার আশু দাশসহ চার আসামীকে ধরতে পারেনি রাঙ্গামাটি কোতয়ালী থানা পুলিশ। এ ছাড়াও নতুন কাউকে আসামী বা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়নি বলে সংশি¬ষ্ট সুত্র জানায়।
পলাতক আসামীদের গ্রেফতার ও হোটেল পাহাড়িকার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ব্যবস্থা না নেয়ায় সচেতন মহলে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়াও হোটেল মালিক সমিতি হোটেল পাহাড়িকার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন শহরের বেশ কিছু হোটেলের মালিক।
অতিরিক্তি পুলিশ সুপার (সার্কেল) মনিরুল ইসলাম জানান, আটক রফিকুলের দুই দিনের রিমান্ড শেষ করে সোমবার আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডে নতুন কিছু তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এসব তথ্য যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। তিনি বলেন রিমান্ড ছাড়াও প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সাথে জড়িত আরো কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। এছাড়াও হোটেল পাহাড়িকার বিরুদ্ধে হোটেল রেস্তোরাঁ আইন লঙ্ঘন ও অনিয়মের কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাকি অভিযোগগুলো তদন্তের পর হোটেলের লাইসেন্স বাতিলের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে রিপোর্ট দেওয়া হবে। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে পলাতক চারজনকে আটকের ব্যাপারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে তিনি জানান।
এদিকে এ ঘটনার প্রেক্ষিতে রাঙ্গামাটি হোটেল মালিক সমিতি প্রাথমিক সতর্কতা দিয়ে নোটিশ দিয়েছে হোটেল পাহাড়িকা কর্তৃপক্ষকে। এ নোটিশে বলা হয় একই অপরাধের পূনরাবৃত্তি ঘটলে সমিতির সদস্য পদ বাতিলসহ আরো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। হোটল কর্তৃপক্ষকে দেয়া নোটিশের কপি পুলিশ বিভাগকে জমা দিয়েছে হোটেল মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ। তবে হোটেল পাহাড়িকার বিরুদ্ধে প্রশাসন আইনানুগ কোন ব্যবস্থা নিলে সে ব্যাপারে হোটেল মালিক সমিতির কোন আপত্তি থাকবে না বলে জানা গেছে। বিষয়টি গত রবিবার পুলিশ সুপারের সাথে হোটেল মালিকদের এক বৈঠকে হোটেল মালিক নেতৃবৃন্দ নিশ্চিত করেন।
হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ নিজাম উদ্দিন জানান, হোটেল পাহাড়িকার ঘটনায় হোটেল ব্যবসায়ীদের সুনাম ক্ষুণœহয়েছে। হোটেল মালিক সমিতির বৈঠকে থেকে হোটেল পাহাড়িকা কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে নোটিশ দেয়া হয়েছে।
উলে¬খ্য,গত ৩ অক্টোবর রাতে শহরের নতুন বাস ষ্টেশনস্থ হোটেল পাহাড়িকায় চট্টগ্রাম থেকে আসা এক নব দম্পতিকে মারধর ও গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঐ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উলে¬খ করে অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামী করে রাঙামাটি কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ক্যাফে আল মক্কা এন্ড বিরানী হাউসের মালিক রফিকুল ইসলামকে আটক করা হলেও পলাতক রয়েছে হোটেল পাহাড়িকার ম্যানেজার আশু দাশ, হোটেল বয় আনোয়ার হোসেন, আলমগীর হোসেন ও আবুল হোসেন।