রাখাইনের ১০ হাজার পরিবার নাপ্পি’র উপর নির্ভরশীল

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৬ মে , ২০১৬ সময় ১১:২৮ অপরাহ্ণ

নাপ্পি
সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও প্রতিনিধি:
কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডী ইউনিয়নে রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন যুগ যুগ ধরে এই নাপ্পি তৈরি করে যাচ্ছে। যার কদর এখন বিদেশে। ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার পরিবার এই নাপ্পির উপর নির্ভরশীল।
দেখা গেছে, নাপ্পি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন। সাগর থেকে তুলে আনা ছোট চিংড়িসহ অন্যান্য মাছ দিয়ে এ নাপ্পি তৈরি করা হয়। প্রথমে সাগর থেকে আনা চিংড়িগুলোকে কাঠের হাতুড়ি দিয়ে পেষণ করে এক ধরণের বাঁশের তৈরি মাদুরার উপর রেখে রোদে শুকানো হয়। এভাবে পর পর তিনবার পেষণ ও শুকানো শেষে পরিমান মতো গামারি পাতায় মুড়িয়ে বাঁশের তৈরি বিশেষ ধরনের খাঁচায় প্যাকিং করা হয়। চৌফলদন্ডী খালের পাড়ে মাদুরা বিছিয়ে জেলে ও রাখাইনরা সারাদিন নাপ্পি তৈরির ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো।
শ্রমিক রাসু রাখাইন জানান, চিংড়ির দাম এবং সাগর থেকে চিংড়ির প্রাপ্যতার উপর নির্ভর করে নাপ্পির বাজার মূল্য। প্রতি ভার (১ থেকে দেড় মণের বাঁশের খাচা) চিংড়ির মূল্য সর্বনিম্ন দেড় হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। আর মণপ্রতি সর্বনিম্ন ৩ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৭ হাজার টাকার মধ্যে নাপ্পি কেনাবেচা হয়। প্রতি গাড়ি (বড় ১ ট্রাকে) কোনো সময় ৬০ হাজার আবার কোনো সময় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হয়ে থাকে।
ব্যবসায়ী মংকোচি জানান, চৌফলদন্ডীতে উৎপাদিত নাপ্পি দেশের অভ্যন্তরে বিশেষ করে উপজাতি অধ্যুষিত জেলা বান্দরবান, রাঙ্গামাটি এবং খাগড়াছড়িতে প্রচুর চাহিদা রয়েছে। দেশের বাইরে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা, কলিকাতা, থাইল্যান্ড, চীন এবং জাপানেও কক্সবাজারের তৈরি নাপ্পির প্রচুর চাহিদা। রাখাইনদের কাছে অত্যন্ত সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর খাবার হওয়ায় নাপ্পির বিশেষ কদর রয়েছে বলে তিনি জানান।
ব্যবসায়ী লাথোইমং রাখাইন জানান, লাভজনক হওয়াতে রাখাইন সম্প্রদায়ের জেলে ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি মুসলিমরাও গত কয়েক বছর থেকে নাপ্পি প্রস্তুত ও বাজারজাতকরনের সাথে জড়িয়ে পড়েছে। গ্রীষ্মের মৌসুমে নাপ্পি তৈরির উপযুক্ত সময়। এসময়ে চৌফলদন্ডী খালের তীরে মাদুরা (বাঁশ দিয়ে তৈরি) বিছিয়ে জেলেরা নাপ্পি তৈরিতে ব্যস্ত থাকে সকাল থেকে সন্ধ্যা অবদি।
অপর ব্যবসায়ী অংসিং রাখাইন জানান, চৌফলদন্ডী ইউনিয়নে ২৬ টি গ্রাম রয়েছে। প্রতিটি গ্রামে অধিকাংশ রাখাইনদের বসবাস। তাছাড়া নদীর পাশে হওয়ায় গ্রামের প্রতিটি মানুষ মাছ ধরা ও নাপ্পি তৈরির কাজে জড়িত। গ্রামের প্রায় ১০ হাজার পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নাপ্পির উপর নির্ভরশীল। সরকারী পৃষ্টপোষকতা পেলে নাপ্পি রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব বলে মন্তব্য করে তিনি।