রাউজান উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা এলাকা চষে বেড়াচ্ছে

প্রকাশ:| শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারি , ২০১৪ সময় ১১:১৯ অপরাহ্ণ

শফিউল আলম, রাউজান ঃ নির্বাচন কমিশন উপজেলা নির্বাচনের ১ম পর্যায়ে ১৯ ফেব্র“য়ারী দ্বীতিয় পর্যায়ে ২৭ ফেব্র“য়ারী তারিখ নির্ধারন করে উপজেলায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার পর রাউজান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যন পদে লড়তে সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় চষে বেড়াচ্ছে । উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা এলাকার বিবাহ, মেজবান, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভা সমাবেশ খেলা মৃত্যু ব্যক্তির জানাজার নামাজে উপস্থিত হয়ে এলাকার মানুষের কাছে আগাম নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন । অনেকে আবার দীর্ঘ সময় থেকে কৌশুলে মাঠে থেকে নির্বাচন প্রচার প্রচারানা চালিয়ে নিজেকে পাকাপোক্ত করেছেন।
সূত্র মতে উপজেলায় চলতি মাসের ৫ জানুয়ারী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাউজানে একক প্রার্থী হওয়ার নির্বাচনের আমেজ পায়নি উপজেলার জনসাধারণ। তাই আগামি উপজেলা নির্বাচনকে কাজে লাগাতে চাই ভোটাররা। বিগত সময়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়াম্যানরা অনেকে এলাকার মানুষের সাথে যোগাযোগ রক্ষা না করার অভিযোগ তোলেন একাধিক ভোটাররা। এতে আগামি নির্বাচনে এবার নির্বাচনে খেসারত দিতে হবে বলে ও মনে করেন সচেতন মহল। উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আ.লীগের ও বিএনপির প্রার্থীদের বিভিন্ন ব্যক্তির নাম শুনা যাচ্ছে । আওয়ামীলীগের হয়ে যারা লড়বে তাদের মধ্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা হচ্ছেন উত্তর জেলা আ.লীগের যুগ্ম সম্পাদক আলহাজ আবুল কালাম আজাদ, উত্তর জেলা আ.লীগের অর্থ সম্পাদক ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ এহেছানুল হায়দার চৌধুরী, উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসলিম উদ্দিন খান, রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক জেলা এডিশনাল পিপি এডভোকেট দীপক দত্ত, ব্যবসায়ী লোকমান হাকিম, ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়াম্যান আলহাজ নুর মোহাম্মদ, উপজেলা আ.লীগের সাবেক প্যানেল মেয়র জানে আলম জনি, আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ হোসেন কোম্পানী, জাতীয পাটি নেতা শফিকুল আলম, রাউজান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো.আবদুস সবুর, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ফৌজিয়া খানম মিনা,সাবেক পৌর মহিলা কাউন্সিলর আইরুন নিছা নিলু,বর্তমান মহিলা কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদৌস ডলি, এছাড়াও অনেক প্রার্থী এখনো মাঠে নামছে না। পরিস্থিতি বুঝে মাঠে নামবেন। তাদের নাম এখনো শুনা যাচ্ছে না। এদের মধ্য অনেকে স্থানীয় জনপ্রিয় সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর আশিবার্দের জন্য নিজের গ্রহন যোগ্যাতা তুলে ধরছে। যার মধ্য এখন যোগাযোগর্ ক্ষা করে চলেছে। অপরদিকে রাউজানে বিএনপির সাংগঠনিক কোন কর্মকান্ড নেই দীর্ঘদিন ধরে । বিএনপি আগামী উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে সিদ্বান্ত নেওয়ার ফলে আগামী রাউজান উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা এলাকার সংগঠনকে সক্রিয় করে তোলার প্রচেষ্টায় মেতে উঠেছে । রাউজান উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে যাদের নাম শুনা যাচ্ছে তার হলেন রাউজান উপজেলা বিএনপির সভাপতি মহিউদ্দিন আহম্মদ, সাধারণ সম্পাদক ছালামত আলী, উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ন সম্পাদক জসিম উৃদ্দিন সিকাদার, ভাইস চেয়ারম্যান পদে হলদিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা এহসানুল হক, রাউজান উপজেলা শান্তির দ্বীপ কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান আবু মনসুর চৌধুরী মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ফারহানা আকতার ।
উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আলহাজ আবুল কালাম আজাদ বলেন, উপজেলা পরিষদের সুফল যেন জনগণ পেতে পারে সেই লক্ষ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হবো ।রাউজানবাসী যদি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে জনগণের কল্যানে কাজ করে যাবো । রাউজান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ এহেছানুল হায়দার চৌধুরী বলেন, এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী নৌকার মাঝি আমরা নৌকার হাল ধরে রয়েছি নির্বাচনের বিষয়ে এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী যে নির্দেশনা দেবেন আমরা তা পালন করবো ।
উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসলিম উদ্দিন খান বলেন, আমি দীর্ঘদিন থেকে জনগণের পাশে থেকে কাজ করছি। আগামিতে ও কাজ করে যেতে চাই। এজন্য উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আশা করছি। দলের নেতা কর্মীদের ব্যাপক মতামত নিয়ে এবি এমফজলে করিম চৌধুরী আগামী নির্বাচনে আমাকে দল থেকে সর্মথন দেবেন ।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ন সম্পাদক জসিম উদ্দিন সিকদার বলেন, উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে বিএনপি একক প্রার্থী হিসাবে মনোয়ন দিলে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবো ।
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ নুর মোহাম্মদ বলেন, মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে চাই। ভবিষ্যতেও যদি এলাকার জনগণ চাই তাহলে পুনরায় প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছে রয়েছে।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফৌজিয়া খানম মিনা বলেন, জনগণের জন্য কাজ করেছি। কাজ করব।
রাউজান পৌরসভার সাবেক মহিলা কাউন্সিলর আইরুন নিছা বলেন এক সময়ে রাউজান পৌরসভার মহিলা কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে এলাকার মানুষের উন্নয়নে কাজ করেছি। উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে আবারো এলাকার মানুষের কল্যানে কাজ করবো ।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী জানাতুল ফেরদৌস ডলি বলেন, আমার পিতা মরহুম আবদুল কুদ্দুস কালু মেম্বার দীর্ঘদিন এলাকার মানুষের জনপ্রতিনিধি হিসাবে সমাজ সেবায় কাজ করেছেন আমি ও আমার পিতার আর্দর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকার মানুষের কল্যানে কাজ করতে চাই ।
রাউজান উপজেলা পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় হাট বাজার, অফিস আদালত, ষ্ট্শেন হোটেল রেস্তোরায় এলাকার লোকজনের মধ্যে ব্যাপক জল্পনা কল্পনা সৃষ্টি হয়েছে ।
রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আগামী উপজেলা নির্বাচনে দল থেকে যাকে প্রার্থী দেওয়া হবে দলের প্রার্থীর পক্ষে এলাকার নেতা কর্মীরা ঐক্যবদ্বভাবে কাজ করবেন ।
গত ২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারী উপজেলা জানুয়ারী অনুষ্টিত উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে রাউজান উন্নয়ন পর্ষদের সভাপতি এহেসানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বচিত হয় । পুর্বে এরশাদ সরকারের শাসন আমলে রাউজানর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের পটিয়া পাড়া পাড়ার বাসিন্দ্বা ভালিকা উলেন মিলসের সাবেক জিএম এম আবদুল্ল্যাহ ও রাউজানের হাজী পাড়া এলাকার বাসিন্দ্বা বর্তমান এনজিও সংস্থা পেইজের পরিচালক অধ্যাপক লোকমান হাকিম রাউজান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয় । উপজেলা নির্বাচন অফিসার আবদুল মান্নান পাঠান । উপজেলা নির্বাচন অফিসার আবদুল মান্নান পাঠান বলেন , রাউজানের ১৪ টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় সর্বমোট ভোটার দুই লক্ষ ছত্রিশ হাজার আটশত বিরানব্বই জন । ভোটারের মধ্যে এক লক্ষ উনিশ হাজার সাতশত উনচল্লিশ জন পুরুষ, এক লক্ষ সতর হাজার একশত তিপান্ন জন মহিলা ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আগামী উপজেলা নির্বাচনে । রাউজান উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র হলো তিরাশি টি । মোট ভোট কক্ষের সংখ্যা চারশত পাচাঁন্নটি ।


আরোও সংবাদ